হার্টের রিং, ডায়ালাইসিস ও ক্যান্সারের ওষুধে বড় স্বস্তি, কর-ভ্যাট ছাড়ের প্রস্তাব

Sadek Ali
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ৯:৫১ অপরাহ্ন, ১১ জুন ২০২৬ | আপডেট: ৩:৫১ পূর্বাহ্ন, ১২ জুন ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

অর্থের অভাবে চিকিৎসা ব্যয় বহন করতে হিমশিম খাওয়া রোগীদের জন্য স্বস্তির বার্তা এসেছে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে। হার্টের স্টেন্ট (রিং), কিডনি ডায়ালাইসিস ফিল্টার, চোখের ছানি অপারেশনে ব্যবহৃত লেন্স এবং ক্যান্সারের ওষুধ তৈরির কাঁচামাল আমদানিতে কর ও ভ্যাট ছাড়ের প্রস্তাব দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনকালে অর্থমন্ত্রী এসব প্রস্তাব তুলে ধরেন।

আরও পড়ুন: বিশ্ববাজারে টানা চার দিন ধরে কমছে স্বর্ণের দাম

প্রস্তাব অনুযায়ী, কার্ডিয়াক স্টেন্ট ও ইন্ট্রাওকুলার লেন্সের সরবরাহ পর্যায়ে বিদ্যমান ১০ শতাংশ ভ্যাট সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা হবে। এর ফলে প্রতিটি হার্টের স্টেন্টের দাম প্রায় ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত কমতে পারে। একই সঙ্গে চোখের ছানি অপারেশনে ব্যবহৃত প্রতিটি ইন্ট্রাওকুলার লেন্সের দাম প্রায় ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত কমার সম্ভাবনা রয়েছে।

এ ছাড়া কিডনি ডায়ালাইসিস ফিল্টার আমদানিতে বিদ্যমান ৫ শতাংশ অগ্রিম কর সম্পূর্ণ মওকুফের প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে একজন রোগীর প্রতি ডায়ালাইসিসে প্রায় ৮০০ টাকা পর্যন্ত খরচ কমতে পারে বলে বাজেট বক্তৃতায় উল্লেখ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: দেশের বাজারে আবারও কমল সোনার দাম

দেশে ক্যান্সার প্রতিরোধী ওষুধের উৎপাদন বাড়াতে নতুন ৯টি কাঁচামালকে রেয়াতি সুবিধার আওতায় আনার প্রস্তাব করা হয়েছে। এসব কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক ও ভ্যাট শূন্য শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। এতে দেশীয়ভাবে উৎপাদিত ক্যান্সারের ওষুধের দাম উল্লেখযোগ্য হারে কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, চিকিৎসা যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশ উৎপাদন শিল্পের বিকাশে প্রয়োজনীয় কাঁচামাল আমদানিতে ১৫ শতাংশ এবং পরীক্ষামূলক চিকিৎসা যন্ত্রপাতি আমদানিতে ৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক সুবিধা ২০৩০ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বহাল রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।

এ ছাড়া ওষুধ শিল্পের বিকাশে স্থানীয়ভাবে এপিআই (অ্যাকটিভ ফার্মাসিউটিক্যাল ইনগ্রেডিয়েন্ট) উৎপাদন উৎসাহিত করতে নতুন ৫১টি কাঁচামালের ওপর শতভাগ আমদানি শুল্ক সুবিধা এবং আরও ১৭টি মৌলিক কাঁচামালের আমদানি শুল্ক শূন্য শতাংশ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্যসেবা খাতে ব্যয় কমাতে বায়োলজিক্যাল সেফটি ক্যাবিনেটের আমদানি শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১ শতাংশ এবং ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রয়োজনীয় ‘স্যান্ডউইচ প্যানেল রুম’-এর আমদানি শুল্ক ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১ শতাংশ করার প্রস্তাবও রাখা হয়েছে।

এছাড়া মৃতদেহ সংরক্ষণের জন্য ব্যবহৃত হিমঘর আমদানিতে বিদ্যমান ১৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক কমিয়ে ১ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়িত হলে কিডনি, হৃদরোগ, চক্ষু ও ক্যান্সার চিকিৎসার ব্যয় কমে সাধারণ রোগীরা সরাসরি উপকৃত হবেন।