চবিতে ২১ শে ফেব্রুয়ারিতে সিন্ডিকেট: অন্তরালে বিতর্কিত নিয়োগের কারসাজি
গত ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ইং তারিখের এক চিঠি অনুযায়ী চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেটের ৫৬৬ তম সভা অনিবার্য কারণবশত আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখ শুক্রবার বেলা ১০ ঘটিকার পরিবর্তে একুশে ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখ শনিবার দুপুর ২ ঘটিকায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসস্থ ড. এ. আর মল্লিক ভবনে (প্রশাসনিক ভবন) উপাচার্য দপ্তরের সভা কক্ষে অনুষ্ঠিত হবে।
উল্লেখ্য, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ইং তারিখে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেটের ৫৬৬ তম সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও সম্প্রতি চবি ল্যাবরেটরি কলেজের শিক্ষার্থীদের অবৈধ শিক্ষক নিয়োগ ও প্রাক্তন শিক্ষকদের অমানবিক ভাবে অপসারণের প্রতিবাদে আন্দোলন সহ প্রশাসনের অন্যান্য নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বিতর্ক কে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়টির সাধারণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে তা প্রশ্নবিদ্ধ হয়।
আরও পড়ুন: কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার পরিদর্শনে ঢাবি উপাচার্য
ইতিপূর্বে, ইউজিসির নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে লাগাতার অবৈধ ও নিয়মবহির্ভূত নিয়োগের কারণে গত ১৪ জানুয়ারি দুদক বিশ্ববিদ্যালয়টিতে অভিযানও চালিয়েছে। নির্বাচন পরবর্তী সময়ে বর্তমান প্রশাসন মেয়াদের ক্রান্তিলগ্নে এসে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনায় নিয়মবহির্ভূত ভাবে শর্ত পূরণের আগেই দলীয় নিয়োগে মরিয়া হয়ে উঠেছে বলে জানা যাচ্ছে।
৫ই আগস্ট পরবর্তী সময়ে বর্তমান প্রশাসন কর্তৃক অবৈধ ও নিয়মবহির্ভূত একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক গোষ্ঠীকেন্দ্রিক নিয়োগ গুলোকে বৈধ করার লক্ষ্যে ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ইং তারিখে ৫৬৬ তম সিন্ডিকেট সভা বসছে বলে জানাচ্ছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির সাধারণ শিক্ষার্থীরা। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত ২১ শে ফেব্রুয়ারি জাতীয় দিবসে উৎসবমুখর পরিবেশের অন্তরালে বর্তমান প্রশাসন ৫৬৬ তম সিন্ডিকেট সভা বাস্তবায়ন করছে যাতে তড়িঘড়ি করে বিতর্কিত সকল নিয়োগ ও পদোন্নতি বৈধকরণ করা যায় বলে দাবি বিশ্ববিদ্যালয়টির সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিত্বদের।
আরও পড়ুন: মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানকে চবির জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের শুভেচ্ছা
তথ্যানুসারে, গত সিন্ডিকেটের ৫৬৫ তম সভায় পতিত ফ্যাসিস্ট এর সহচর ও বর্তমানে জামায়াত ঘেষা সাইদ হোসেন কে সেকশন অফিসার পদে পদোন্নতি দেয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয় পদোন্নতি নীতি অনুযায়ী, সেকশন অফিসার থেকে ৪ বছর মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার পরে সহকারী রেজিস্টার পদে পদোন্নতি হয়। অথচ এই নিয়োমকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে সাইদ হোসেন কে পদোন্নতের নীতিমালার সময়কাল পূরণ হওয়ার আগেই বর্তমান প্রশাসন ৫৬৬ তম সিন্ডিকেট সভায় (২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬) সহকারী রেজিস্টার পদে উন্নিত করার প্রক্রিয়ায় রয়েছে।
আরও জানা যায়, উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান এর কন্যা মালিহা শামীম এর শিক্ষক হিসেবে বিতর্কিত নিয়োগ, চবি ল্যাবেরেটরি কলেজে জেদ্দায় বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের ১৬ কোটি টাকা দুর্নীতির মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া মোঃ আবদুল কাইয়ুমকে নতুন অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ (তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামের আপন ভাই) এবং চবি ল্যাবেরেটরি কলেজে ইউজিসি’র নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নিয়মবহির্ভূত ভাবে দলীয় ও স্বজন প্রিতিমূলক শিক্ষক নিয়োগ সহ আরও নানান অবৈধ নিয়োগ কে স্থায়ী করতে একুশে ফেব্রুয়ারি জাতীয় দিবসের উৎসবমুখর পরিবেশের অন্তরালে বর্তমান প্রশাসন এই সিন্ডিকেটের আয়োজন করছে।
সংশ্লিষ্টদের তথ্যমতে, বিশ্ববিদ্যালয়টিতে নিয়োগ প্রাপ্তদের মধ্যে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক গোষ্ঠীর এবং বর্তমান প্রশাসনের স্বজনদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, আমাদের ভাইস চ্যান্সেলর ডক্টর ইয়াহিয়া আখতার স্যার কারো আন্দোলনের কোন তোয়াক্কা করেন না। তিনি আরও বলেন, সিন্ডিকেট হল প্রশাসনকে স্মুথলি রান করার জন্য একটা পর্ষদ। এই পর্ষদের সিদ্ধান্তের উপর অনেক কিছু নির্ভর করে। অনেকের বৃত্তি, প্রমোশন, নিয়োগ আটকে থাকে। তিনি আরও বলেন, কারো চাপে পড়ে সিন্ডিকেট চেঞ্জ হয় নাই বরং আমাদের কিছু অতিরিক্ত কাজ করতে হচ্ছে বলে জাস্ট একদিন পেছানো হয়েছে। একুশে ফেব্রুয়ারি বা মাতৃভাষা দিবসের সকল প্রোগ্রাম দশটা থেকে শুরু হয়ে দুইটার আগে শেষ হয়ে যাবে। তাই আমরা দুইটার পর সিন্ডিকেট শুরু করছি। এ কারণে এখানে কোন অসুবিধা বা কোন কিছুর ব্যত্যয় হয়নি বলে আমরা মনে করি।
বিতর্কিত নিয়োগ সমূহকে কেন্দ্র করে সিন্ডিকেট সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয়টির শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল নোমান গণমাধ্যমকে জানান, প্রশাসনের নিয়োগ প্রক্রিয়া একটি অবৈধ প্রক্রিয়া ও দলীয়করণ। এ সকল অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমরা সব সময় সোচ্চার ছিলাম। এই অস্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে আমাদের ও ছাত্র সমাজের আপত্তি আছে। বিশেষ গোষ্ঠীর বিশেষ এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য এই সিন্ডিকেট। আমরা যেকোন অসচ্ছ, অগণতান্ত্রিক এবং দলীয়করণের প্রতিবাদ আগেও জানিয়েছি ভবিষ্যতেও জানাবো।





