করাচির গুল প্লাজায় একটি দোকান থেকেই উদ্ধার ৩০ জনের দগ্ধ মরদেহ

Sadek Ali
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০:১৫ পূর্বাহ্ন, ২২ জানুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ৪:১৫ অপরাহ্ন, ২২ জানুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

পাকিস্তানের বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে পরিচিত করাচি শহরের ব্যস্ত শপিং কমপ্লেক্স গুল প্লাজায় অগ্নিকাণ্ডে একটি দোকান থেকেই ৩০ জনের দগ্ধ মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এদের মধ্যে এখন পর্যন্ত ১৫ জনের পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে।

করাচির দক্ষিণ জোনের উপ-পুলিশ মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) আসাদ রাজা বুধবার (২১ জানুয়ারি) এক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন,

আরও পড়ুন: বিশ্ববাজারে তেলের দাম ১১৫ ডলার ছাড়াল

গুল প্লাজার দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত ‘দুবাই ক্রোকারিজ’ নামের একটি দোকান থেকে ৩০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ১৫ জনের পরিচয় শনাক্ত হয়েছে। বাকিদের পরিচয় উদ্ধারে কাজ চলছে।

তিনি আরও জানান, এই ৩০ জনের মরদেহ উদ্ধারের মধ্য দিয়ে গুল প্লাজা অগ্নিকাণ্ডে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬১ জনে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া এখনো ৪০ জনের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলেও জানান তিনি।

আরও পড়ুন: ইসরায়েলের নির্বাচনে চূড়ান্ত ফল প্রকাশ

গত শনিবার (১৭ জানুয়ারি) করাচির অন্যতম বড় শপিং কমপ্লেক্স গুল প্লাজায় ভয়াবহ আগুন লাগে। প্রথমে প্লাজার বেসমেন্টে আগুনের সূত্রপাত হয় এবং অল্প সময়ের মধ্যেই তা পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়ে। বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। আগুনের তীব্রতা এত বেশি ছিল যে ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের ২৪ ঘণ্টা সময় লেগেছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে।

১৯৮০ সালে নির্মিত পাঁচতলা গুল প্লাজা একটি ফুটবল মাঠের চেয়েও বড় আয়তনের, যেখানে প্রায় ১ হাজার ২০০টির বেশি দোকান রয়েছে। ভয়াবহ এই অগ্নিকাণ্ডে প্লাজার অধিকাংশ দোকান সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, করাচির ইতিহাসে এটি সবচেয়ে বড় অগ্নিকাণ্ডগুলোর একটি।

হতাহতের সংখ্যা এত বেশি হওয়ার পেছনে গুল প্লাজা কর্তৃপক্ষের চরম অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করেছে ফায়ার সার্ভিস। করাচি ফায়ার সার্ভিসের এক কর্মকর্তা জিও নিউজকে জানান, প্লাজায় মোট ২৬টি গেট থাকলেও মাত্র দুটি চলাচলের জন্য খোলা থাকত। আগুন লাগার সময়ও বাকি গেটগুলো খোলা হয়নি। ফলে বহু মানুষ ভিতরে আটকা পড়েন। এছাড়া মার্কেটের অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রগুলোও অকার্যকর ছিল।

ব্রিফিংয়ে ডিআইজি আসাদ রাজা আরও বলেন, প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, আগুন থেকে বাঁচতে দোকানটির শাটার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেটিই পরে তাদের মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়। নিহতদের মধ্যে দোকানের মালিক ও কর্মচারীরাও রয়েছেন।

তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে জানান, গুল প্লাজা অগ্নিকাণ্ডে মৃতের সংখ্যা ১০০ ছাড়িয়ে যেতে পারে।

এদিকে করাচির পুলিশপ্রধান ও কমিশনার সৈয়দ হাসান নাকভি জানিয়েছেন, এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা তদন্তে সিন্ধ প্রাদেশিক সরকার একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটি ইতোমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে।

সূত্র : এএফপি