ইরানে ক্রু উদ্ধারে ঝুঁকিপূর্ণ অভিযান: নিজেদের বিমানই ধ্বংস করল যুক্তরাষ্ট্র

Any Akter
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ৮:১৮ অপরাহ্ন, ০৬ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ২:১৮ পূর্বাহ্ন, ০৭ এপ্রিল ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ইরানে ভূপাতিত একটি এফ–১৫ই স্ট্রাইক ইগল যুদ্ধবিমানের দুই মার্কিন ক্রুকে উদ্ধারে চালানো এক ঝুঁকিপূর্ণ অভিযানে নিজেদেরই একাধিক উচ্চপ্রযুক্তির বিমান ধ্বংস করতে হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রকে।

আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা যায়, দ্বিতীয় ক্রু সদস্য—একজন কর্নেল—কে উদ্ধারের জন্য ইরানের মরুভূমিতে একটি অস্থায়ী রানওয়েতে বিশেষ পরিবহন বিমান মোতায়েন করে মার্কিন সামরিক বাহিনী। তবে অবতরণের পর যান্ত্রিক ত্রুটি বা নরম বালুময় মাটিতে আটকে পড়ার কারণে পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে।

আরও পড়ুন: ট্রাম্পের ‘মোহাম্মদ’ নাম নিয়ে ব্যঙ্গ, সমালোচনায় মুসলিম অধিকার সংগঠন

এ সময় ইরানি বাহিনী চারদিক থেকে ঘিরে ফেলতে শুরু করলে উদ্ধার অভিযান দ্রুত সম্পন্ন করতে অতিরিক্ত বিমান পাঠানো হয়। বার্তা সংস্থা এপির বরাতে জানা গেছে, শেষ পর্যন্ত ফেলে যাওয়া বিমানগুলো শত্রুপক্ষের হাতে পড়া ঠেকাতে মার্কিন বাহিনী সেগুলোতে বোমা হামলা চালিয়ে ধ্বংস করে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ইসফাহান প্রদেশে বিধ্বস্ত মার্কিন বিমানের ধ্বংসাবশেষের ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করেছে। ধারণা করা হচ্ছে, এসব বিমান লকহিড মার্টিনের সি-১৩০ সিরিজের, বিশেষ করে এমসি-১৩০জে কমান্ডো টু মডেলের হতে পারে। প্রতিটি বিমানের মূল্য ১০ কোটি ডলারেরও বেশি এবং এগুলো সাধারণত শত্রু এলাকায় বিশেষ সামরিক অভিযান পরিচালনায় ব্যবহৃত হয়।

আরও পড়ুন: পানামায় ৭.৫ মাত্রার ভূমিকম্পের পর ৭৪৬টি আফটারশক

ধ্বংসাবশেষে বিশেষ ধরনের হেলিকপ্টারের অংশও দেখা গেছে, যা অভিযানে ব্যবহৃত হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে, ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা শত্রুপক্ষের উড়োজাহাজ ধ্বংস করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্র অপমানজনক পরাজয়ের মুখে পড়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো পর্যন্ত মার্কিন সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, শত্রু এলাকায় পরিচালিত উচ্চঝুঁকিপূর্ণ অভিযানে সংবেদনশীল প্রযুক্তি শত্রুর হাতে পড়া ঠেকাতে নিজেদের সরঞ্জাম ধ্বংস করা একটি প্রচলিত সামরিক কৌশল, যার নজির অতীতেও রয়েছে।

এর আগে রোববার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিশ্চিত করেন, নিখোঁজ ও আহত ক্রু সদস্যকে সফলভাবে উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি জানান, অত্যন্ত দুঃসাহসিক এই অভিযানে কয়েক ডজন বিমান ব্যবহার করে ওই সেনাকে নিরাপদে ফিরিয়ে আনা হয়।

এ ঘটনায় ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা আরও বেড়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।