পরমাণু কর্মসূচিতে কোনো ছাড় দেবে না ইরান
ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনায় কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছে দেশটির একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। শুক্রবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ওই কর্মকর্তা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের প্রস্তাব মেনে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে সম্মত হলেও পরমাণু কর্মসূচির ক্ষেত্রে তেহরান নিজেদের অবস্থান পরিবর্তন করবে না।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা জানান, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সব শর্ত পূরণ না করা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকবে। ইরানের প্রস্তাবে সাত দিনের মধ্যে বিভিন্ন ফ্রন্টে সংঘাত বন্ধ, ইরানের বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন অবরোধ তুলে নেওয়া, আটকে থাকা অর্থ ছাড় এবং দেশটির ওপর আরোপিত তেল নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয় রয়েছে।
আরও পড়ুন: ‘ইরান শোচনীয়ভাবে হেরে যাচ্ছে, এখন চুক্তি করতে চায়’: ট্রাম্প
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি এর আগে জানিয়েছিলেন, এসব শর্ত পূরণ হলে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে তেহরান প্রস্তুত রয়েছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কয়েক মাস ধরে চলা সংঘাতের পর মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। হরমুজ প্রণালি বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইরান মার্কিন অবরোধ থেকে অর্থনৈতিক স্বস্তি চাচ্ছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক জ্বালানি পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করতে চাইছে।
আরও পড়ুন: চুক্তি করে সাতদিনের মধ্যে হরমুজ খুলে দেওয়ার প্রস্তাব ইরানের
ইরানের ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কিংবা উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দেশের বাইরে পাঠানোর মতো বিষয়ে ইরান কোনো অধিকার ছাড়বে না। যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান দাবির মধ্যে রয়েছে উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দেশের বাইরে সরিয়ে নেওয়া।
ইরান পরমাণু অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে বলে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েলসহ কয়েকটি পশ্চিমা দেশ দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে। বিশেষ করে বেসামরিক ব্যবহারের প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি মাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। তবে ইরান বরাবরই পরমাণু অস্ত্র তৈরির অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুনে ইরানের পরমাণু স্থাপনায় হামলার আগে দেশটির কাছে ৬০ শতাংশ মাত্রায় সমৃদ্ধ ৪৪০ দশমিক ৯ কেজি ইউরেনিয়াম ছিল। বর্তমানে এর কতটা অবশিষ্ট রয়েছে, তা স্পষ্ট নয়।
তবে ইরানের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সর্বোচ্চ মাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামকে অপেক্ষাকৃত কম মাত্রায় নামিয়ে আনার বিষয়ে তেহরান আলোচনা করতে পারে। রয়টার্সের আগের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি দেশটির উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম বিদেশে পাঠানো যাবে না—এমন নির্দেশনা দিয়েছেন বলে দেশটির দুটি জ্যেষ্ঠ সূত্র জানিয়েছিল।
সূত্র: রয়টার্স





