দুই বছরের মধ্যে স্বর্ণের দামে নতুন রেকর্ডের পূর্বাভাস

Any Akter
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১:৪৫ পূর্বাহ্ন, ১৭ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ১২:৫৫ অপরাহ্ন, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম আগামী দুই বছরের মধ্যে আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে নতুন উচ্চতায় পৌঁছাতে পারে বলে আশা করছেন বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ। কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ কেনা, মার্কিন ডলারের ওপর আস্থার সংকট এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তাকে সম্ভাব্য মূল্যবৃদ্ধির প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) প্রকাশিত ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের এক প্রতিবেদনে এ পূর্বাভাসের কথা তুলে ধরা হয়েছে।

ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বর মাসে বিশ্বের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো প্রায় ৬৩ টন স্বর্ণ কিনেছে। গত দুই বছরের মধ্যে এটিই সর্বোচ্চ মাসিক ক্রয়ের পরিমাণ বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধের পর কিছু দেশ স্বর্ণ বিক্রি করলেও নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে মূল্যবান এই ধাতুর প্রতি কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর আগ্রহ এখনো শক্তিশালী।

আরও পড়ুন: দায়িত্ব নেওয়ার ৫ দিনের মধ্যেই বরখাস্ত ট্রাম্পের প্রেস সেক্রেটারি

বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, বৈশ্বিক সংঘাত, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং প্রচলিত মুদ্রার স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়লে বিনিয়োগকারীরা সাধারণত স্বর্ণের মতো সম্পদের দিকে ঝোঁকেন। এ প্রবণতা দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম আরও বাড়তে পারে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার বাড়াতে পারে—এমন জল্পনার মধ্যে স্বর্ণের দাম ট্রয় আউন্সপ্রতি ২ শতাংশ কমে ৪ হাজার ৭৫ ডলারে নেমেছিল। তবে কয়েকজন ফান্ড ম্যানেজার মনে করছেন, দাম দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে পারে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে স্বর্ণের দাম ট্রয় আউন্সপ্রতি ৫ হাজার ৫০০ ডলার ছাড়িয়ে সর্বকালের রেকর্ড গড়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: পানামায় ৭.৫ মাত্রার ভূমিকম্পের পর ৭৪৬টি আফটারশক

ট্রয় অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের ফান্ড ম্যানেজার শার্লট ইয়ং বলেন, প্রচলিত মুদ্রার প্রতি মানুষের আস্থা কমে যাওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান সরকারি ঋণের প্রেক্ষাপটে স্বর্ণ আর্থিক সুরক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হয়ে উঠছে।

আয়োন ইনভেস্টমেন্টসের কর্মকর্তা পল কারন এবং অ্যালাইড গোল্ডের প্রধান নির্বাহী পিটার মারোনের মতে, মার্কিন ডলারের ওপর আস্থা কমে যাওয়ায় ফ্যামিলি অফিস ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর একাংশ বন্ডের পরিবর্তে স্বর্ণের মজুত বাড়ানোর দিকে ঝুঁকছে।

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের চাহিদা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে চীনের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভূমিকার কথাও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। পিপলস ব্যাংক অব চায়না সাম্প্রতিক মাসগুলোতে তাদের রিজার্ভে স্বর্ণ যোগ করা অব্যাহত রেখেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, চীনের মোট রিজার্ভের প্রায় ৯ শতাংশ, অর্থাৎ আনুমানিক ২ হাজার ৪১০ টন স্বর্ণ। কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর এমন মজুত বৃদ্ধিকে স্বর্ণবাজারের জন্য ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকদের একাংশ।

এন্ডেভার মাইনিংয়ের প্রধান নির্বাহী ইয়ান ককারিল এবং স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের সুকি কুপারও মনে করেন, বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি স্বর্ণের বাজারকে শক্তিশালী ভিত্তি দিচ্ছে।

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের ভবিষ্যৎ দাম নির্ভর করবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর ক্রয়, সুদের হারের গতিপথ, মার্কিন ডলারের শক্তি এবং ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর। এসব কারণে স্বর্ণের দাম বাড়ার সম্ভাবনা থাকলেও আগামী দুই বছরে নিশ্চিতভাবে নতুন রেকর্ড হবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। তাই বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বাজারের ওঠানামা, ঝুঁকি এবং নিজস্ব আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনা করা জরুরি।