মূল টাকা তুলতেও মুনাফা ছাড়ার অঙ্গীকার, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের ক্ষোভ

Any Akter
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২:১২ অপরাহ্ন, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ১:২৮ অপরাহ্ন, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক থেকে নিজেদের জমা করা আমানতের মূল টাকা এককালীন তুলে নিতে গিয়ে নানা শর্তের মুখে পড়ছেন গ্রাহকেরা। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ মূল টাকা ফেরতের ক্ষেত্রে মুনাফা ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধার দাবি পরিত্যাগের পাশাপাশি ভবিষ্যতে কোনো আইনি পদক্ষেপ না নেওয়ার লিখিত অঙ্গীকার নিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।

আর্থিক অনিয়ম ও তারল্য সংকটে থাকা পাঁচটি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক—এক্সিম ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংক—একীভূত করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করা হয়। চলতি বছরের ৭ সেপ্টেম্বর থেকে সরকারের উদ্যোগে ব্যাংকটির আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে।

আরও পড়ুন: ঢাকায় অনুষ্ঠিত হলো বেস্ট অব এএসসিও ও এমওএসবি কংগ্রেস

ব্যাংক সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, কোনো গ্রাহক একবারে তাঁর মূল আমানত তুলতে চাইলে তাঁকে দুই পৃষ্ঠার একটি ‘আবেদনপূর্বক অঙ্গীকারনামা’তে স্বাক্ষর করতে হচ্ছে। এতে মূলধন উত্তোলনের পর সংশ্লিষ্ট হিসাবের ‘পূর্ণাঙ্গ ও চূড়ান্ত নিষ্পত্তি’ হবে বলে উল্লেখ রয়েছে।

অঙ্গীকারনামায় আরও বলা হয়েছে, মূল টাকা নেওয়ার পর আমানতকারী, তাঁর নমিনি, উত্তরাধিকারী বা আইনগত প্রতিনিধি ভবিষ্যতে মুনাফা কিংবা অন্য কোনো আর্থিক সুবিধা নিয়ে ব্যাংক বা সংশ্লিষ্ট কোনো কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ, দাবি, আবেদন বা মামলা করতে পারবেন না। এ জন্য আমানতকারীর পাশাপাশি দুজন সাক্ষীর স্বাক্ষরও নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।

আরও পড়ুন: জাতিসংঘ সফর শেষে ঢাকায় পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরের ১ থেকে ২০ তারিখ পর্যন্ত ১ লাখ ৭৯ হাজার ৬৮২ জন গ্রাহক মোট ৬ হাজার ৯৭৫ কোটি টাকা আমানত ফেরতের আবেদন করেছেন। এর মধ্যে ৯০ হাজার ৯৮ জন গ্রাহককে ৩ হাজার ২৪৫ কোটি টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে।

একই সময়ে ব্যাংকটিতে নতুন করে ২ হাজার ৭০০ কোটি টাকা আমানত এসেছে। এছাড়া ৩২ হাজার ৭৪টি নতুন হিসাবের বিপরীতে জমা পড়েছে আরও ৩৭৮ কোটি টাকা। এর আগে গত ১৪ জানুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংক এক চিঠিতে ২০২৪ ও ২০২৫ সালের স্থিতির ওপর দুই বছরের মুনাফা কেটে রাখার বা ‘হেয়ারকাট’ করার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছিল।

পরবর্তীতে সমালোচনার পর ২৫ আগস্ট কেন্দ্রীয় ব্যাংক এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, আমানতের ওপর কোনো হেয়ারকাট থাকছে না এবং ১ সেপ্টেম্বর থেকে আমানতের মূল টাকা তোলার সুযোগ থাকবে।

তবে গ্রাহকদের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওই ঘোষণার পরও এককালীন পুরো মূল টাকা তুলতে গেলে মুনাফা ও ভবিষ্যতে আইনি প্রতিকার চাওয়ার অধিকার ত্যাগের অঙ্গীকার করতে হচ্ছে। এ কারণে অনেক আমানতকারী আবেদন করার পরও টাকা না নিয়ে ফিরে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, একীভূত ব্যাংকগুলো যেসব ঋণ দিয়েছে, সেগুলোর আসল ও মুনাফা সময়মতো ফেরত না আসায় ব্যাংকটি এখনো তারল্য সংকটে রয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, যারা জরুরি প্রয়োজনে এখনই আমানত তুলে নিচ্ছেন, তাদের মুনাফা ছাড়তে হচ্ছে। পরিস্থিতির উন্নতি হলে অন্য গ্রাহকেরা মুনাফাসহ তাঁদের আমানত ফেরত পাবেন।

এদিকে টাকা ফেরত পেতে শাখা পর্যায়ে অসহযোগিতা ও দীর্ঘসূত্রতার অভিযোগও করছেন গ্রাহকেরা। জরুরি প্রয়োজনের কথা জানিয়ে আবেদন করার পরও ব্যবস্থাপনা পরিচালকের ঘোষিত তিন দিনের মধ্যে টাকা পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে।

কিছু গ্রাহকের দাবি, ২০ থেকে ২৫ দিন অপেক্ষা করেও প্রধান কার্যালয়ের অনুমোদন পাওয়া যাচ্ছে না। আবার কোথাও হেয়ারকাট বাতিলের সার্কুলার শাখায় না পৌঁছানোর কথা বলে গ্রাহকদের অপেক্ষায় রাখা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এসব নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ক্ষোভ প্রকাশ করছেন ভুক্তভোগীদের অনেকে।

এরই মধ্যে গত সোমবার সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের পক্ষ থেকে সব বিভাগীয় প্রধান ও শাখা ব্যবস্থাপকের কাছে ব্যক্তিগত মেয়াদি ও স্কিমভিত্তিক আমানতের মুনাফার হার পুনর্নির্ধারণের বিষয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। তবে নতুন মুনাফার হার এখনো চূড়ান্ত হয়নি বলে জানা গেছে।

একই চিঠিতে যথাযথ কাগজপত্র যাচাই করে মৃত গ্রাহকদের বৈধ দাবিদারদের অর্থ ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ব্লক করা হিসাবগুলো দ্রুত আনব্লক করে লেনদেনের উপযোগী করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।