চীনের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে নতুন রেকর্ড বাংলাদেশের

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ৯:৪২ অপরাহ্ন, ০১ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ১০:৩৪ অপরাহ্ন, ০১ অক্টোবর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে নতুন রেকর্ড গড়েছে। এ সময়ে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ ১২ দশমিক ৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১০ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি। ঢাকায় চীনা দূতাবাস এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) গণপ্রজাতন্ত্রী চীন প্রতিষ্ঠার ৭৭তম বার্ষিকী উপলক্ষে দেওয়া বিবৃতিতে দূতাবাসটি বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অবকাঠামো ও স্বাস্থ্যসেবা খাতে ক্রমবর্ধমান সহযোগিতার চিত্র তুলে ধরে।

আরও পড়ুন: নবীগঞ্জে পৌর কর সেবা সপ্তাহে আদায় ৪১ লাখ ৫৭ হাজার টাকা

দূতাবাস জানায়, ২০১০ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত টানা ১৬ বছর চীন বাংলাদেশের বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার হিসেবে অবস্থান ধরে রেখেছে। বাংলাদেশের তাজা আম ও কাঁঠালসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য ইতোমধ্যে চীনের বাজারে প্রবেশের সুযোগ পেয়েছে। পাশাপাশি পেয়ারা ও সুগন্ধি চালের বাজারসুবিধা নিশ্চিত করার উদ্যোগও চলছে।

বাংলাদেশের রপ্তানি সক্ষমতা বাড়ানো এবং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের কাঠামো উন্নয়নে দুই দেশ যৌথ কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে বলেও জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন: মিষ্টির পদত্যাগপত্র পেয়েছি, আজ থেকেই কার্যকর: স্পিকার

দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত বাংলাদেশে চীনের পুঞ্জীভূত বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ৩ দশমিক ৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে। ২০২৫ সালে বাংলাদেশে চীনের প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়েছে।

নতুন সরকার গঠনের পর থেকে চীনা বিনিয়োগে পরিচালিত পাঁচটি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে ১০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি বিনিয়োগ করেছে। এসব বিনিয়োগের ফলে প্রায় ২০ হাজার কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছে দূতাবাস।

এ ছাড়া ২০২৬ সালের জুলাইয়ে চট্টগ্রামে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘চীন অর্থনৈতিক ও শিল্প অঞ্চল’ চালু হয়েছে। অঞ্চলটিতে মোট ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের আগ্রহ পাওয়া গেছে। এখানে বস্ত্র ও তৈরি পোশাক, যন্ত্রপাতি উৎপাদন, ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি, বায়োমেডিসিন এবং সবুজ জ্বালানি শিল্পের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

অবকাঠামো সহযোগিতার ক্ষেত্রে পদ্মা সেতুকে বড় প্রকল্প হিসেবে উল্লেখ করেছে চীনা দূতাবাস। দূতাবাসের বিবৃতি অনুযায়ী, চীনা কোম্পানির নির্মিত সেতুটি ঢাকার সঙ্গে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার যোগাযোগ স্থাপন করেছে।

দূতাবাসের দাবি, পদ্মা সেতু বার্ষিক জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে ১ দশমিক ২৩ শতাংশীয় পয়েন্ট অবদান রাখবে এবং দারিদ্র্যের হার ০ দশমিক ৮৪ শতাংশীয় পয়েন্ট কমাতে সহায়তা করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এ ছাড়া চীনা কোম্পানিগুলো কয়লা, সৌর ও বায়ুবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে, যেগুলোর সম্মিলিত উৎপাদন ক্ষমতা ১ হাজার মেগাওয়াটের বেশি। বর্তমানে চীনের সহায়তায় কয়েকটি প্রকল্পের নির্মাণকাজও চলছে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিট এবং বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতু-৬-এর সংস্কারকাজ রয়েছে।

একই সঙ্গে একটি সাধারণ হাসপাতাল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নারীদের আবাসিক হল, বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতু-৯ এবং একটি জরুরি ব্যবস্থাপনা কেন্দ্রসহ আরও কয়েকটি প্রকল্পের কাজ এগিয়ে চলছে বলে জানিয়েছে দূতাবাস।

স্বাস্থ্যসেবা ও মানবিক সহায়তার ক্ষেত্রেও চীনের সহযোগিতার কথা তুলে ধরেছে দূতাবাস। তাদের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশকে ৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি মূল্যের সহায়তা দিয়েছে চীন।

এই সহায়তার মধ্যে ডেঙ্গু ও কোভিড-১৯ শনাক্তকরণ কিট, ওষুধ, বার্ন চিকিৎসার ভেন্টিলেটর, রোবোটিক পুনর্বাসন সরঞ্জাম এবং বন্যা-ত্রাণ সামগ্রী রয়েছে।

এ ছাড়া ১ হাজার শয্যার একটি সাধারণ হাসপাতাল নির্মাণ এবং চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বার্ন ইউনিট প্রকল্পেও চীন সহায়তা দিয়েছে।

দূতাবাস বলেছে, এসব উদ্যোগ প্রয়োজনের সময়ে বাংলাদেশের প্রতি চীনের সমর্থন এবং বাংলাদেশের জনগণের স্বাস্থ্য ও কল্যাণে দেশটির অবদানের প্রতিফলন।