শ্যামপুরে পুলিশের সহায়তায় উচ্ছেদ হলো ৫০ বছরের পুরোনো আইজি গেইট কলোনি বস্তি

Shahrier Islam Pallab
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ৯:০৪ অপরাহ্ন, ০৮ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ৯:০৪ অপরাহ্ন, ০৮ অক্টোবর ২০২৬

রাজধানীর শ্যামপুর থানাধীন আইজি গেইট এলাকায় দীর্ঘদিনের মাদক ব্যবসার অন্যতম ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত ৫০ বছরের পুরোনো আইজি গেইট কলোনি বস্তি উচ্ছেদ করা হয়েছে। শ্যামপুর মডেল থানা পুলিশের সহায়তায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে এ উচ্ছেদ কার্যক্রম সম্পন্ন করে।

শ্যামপুর থানা সূত্রে জানা যায়, আইজি গেইট ও তৎসংলগ্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সংঘবদ্ধ একটি চক্র প্রকাশ্যে ও গোপনে মাদকদ্রব্যের ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিল। মাদক কারবারি ও মাদকসেবীদের নিয়মিত আনাগোনার কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি এলাকায় বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সংঘটিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। বিশেষ করে এলাকাটির আশপাশে একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থাকায় শিক্ষার্থী ও উঠতি বয়সী কিশোর-তরুণদের মাদকের সংস্পর্শে আসার ঝুঁকি সৃষ্টি হয়েছিল।

আরও পড়ুন: আপত্তি-বিক্ষোভের মধ্যেই চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি পেল ডিপি ওয়ার্ল্ড

এ পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের মাদকের ভয়াবহ ছোবল থেকে রক্ষা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সংলগ্ন এলাকায় নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে শ্যামপুর মডেল থানা পুলিশ দীর্ঘদিন ধরে মাদকবিরোধী অভিযান ও গোয়েন্দা নজরদারি পরিচালনা করে আসছিল।

এরই ধারাবাহিকতায় মাদক কারবারিদের গ্রেফতারের পাশাপাশি মাদক ব্যবসার অন্যতম ঘাঁটি উচ্ছেদের উদ্যোগ নেওয়া হয়। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মাদক ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্থানসমূহ চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের পর বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ডিপি ওয়ার্ল্ডডের চেয়ারম্যানের সাক্ষাৎ

অভিযানকালে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় মাদক কারবারিদের ব্যবহৃত বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। একই সঙ্গে মাদক বিক্রয়, মজুদ ও মাদকসেবীদের ব্যবহৃত স্থানগুলোকে মাদক ব্যবসার অনুকূল পরিবেশ থেকে মুক্ত করা হয়।

শ্যামপুর থানার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সাল থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আইজি গেইট এলাকায় মাদকদ্রব্য সংক্রান্ত ২৯টি মামলা হয়েছে। একই সময়ে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় ২টি মামলা এবং মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ২৫১টি অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসব ঘটনায় ৩৮৯ জন আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা প্রদান করা হয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার কারণে অতিষ্ঠ স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে এ উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে স্বস্তি ও নিরাপত্তাবোধ তৈরি হয়েছে। অভিভাবক, শিক্ষক ও স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা পুলিশের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন।