‘অন্যায়-অত্যাচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোই দুর্গাপূজার মূল দর্শন’

Any Akter
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ৫:১৪ অপরাহ্ন, ১৮ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ৬:২৩ অপরাহ্ন, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

অন্যায়, অত্যাচার, অসততা ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো এবং তা পরাজিত করাই দুর্গাপূজার মূল দর্শন বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রোববার (১৮ অক্টোবর) শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে রাজধানীর রমনা কালীমন্দির পরিদর্শনকালে তিনি এ কথা বলেন।

দুর্গাপূজা উপলক্ষে সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, শুধু বাংলাদেশে নয়, সারা বিশ্বেই যখন অন্যায়, অত্যাচার ও নিপীড়ন নেমে এসেছিল, তখনই দেবী দুর্গার আবির্ভাব হয়েছিল। বাংলাদেশেও বিভিন্ন সময়ে অসুরের আবির্ভাব ঘটেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ দেশের মানুষ বারবার তাদের পরাজিত করেছে।

আরও পড়ুন: আকাশপথে খুলে গেল এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের দরজা, ঢাকায় জরুরি অবতরণে প্রাণ গেল রোগীর

রমনা কালীমন্দিরের ইতিহাস স্মরণ করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ১৯৭১ সালে মন্দিরটি ধ্বংস করার চেষ্টা করা হয়েছিল। পরে ১৯৭৩ সালে এটি পুরোপুরি ধ্বংস করা হয় বলে তিনি উল্লেখ করেন। তাঁর বক্তব্যে এ ঘটনার জন্য তৎকালীন সংশ্লিষ্টদের দায়ী করা হয়।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ২০০১ সালে গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের উদ্যোগে এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নির্দেশে রমনা কালীমন্দির পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা হয়। এরপর থেকে মন্দিরটিকে পুরোনো ঐতিহ্যে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। এ সময় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা জানান তিনি।

আরও পড়ুন: জাতীয় স্বার্থ-সার্বভৌমত্ব ও আত্মমর্যাদা রক্ষাই বাংলাদেশের মূল অঙ্গীকার

দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নিয়ে বিভিন্ন সময় অপব্যাখ্যা ও অপপ্রচার করা হয়। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বাংলাদেশে যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রয়েছে, তা বিশ্বের অন্য কোথাও আছে বলে তাঁর জানা নেই।

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে বর্তমান সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি। বক্তব্যের শেষে দুর্গাপূজার সফলতা কামনা করেন এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশনকারীদের ধন্যবাদ জানান।

অনুষ্ঠানে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও নৃগোষ্ঠীবিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব ও প্রেস সচিবসহ বঙ্গভবনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া রমনা মন্দিরের সভাপতি অপর্ণা রায় দাস, সাধারণ সম্পাদক মিল্টন বৈদ্য এবং সদস্য সুভাষ চন্দ্র দাসসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।