একটি দীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য পথচলার অবসান
সতীর্থদের ভালোবাসায় সিক্ত মেসি
একটি দীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য পথচলার অবসান। শেষ বাঁশি বাজার পরই লিওনেল মেসিকে ঘিরে ধরেন আর্জেন্টিনার সতীর্থরা। কেউ তাকে জড়িয়ে ধরেন, কেউ কাঁধে হাত রেখে বিদায়ের মুহূর্তটিকে স্মরণীয় করে রাখেন। গ্যালারিজুড়ে তখন করতালি আর ‘মেসি, মেসি’ ধ্বনি। এভাবেই আর্জেন্টিনার জার্সিতে শেষ ম্যাচটি শেষ হলো ফুটবল বিশ্বের অন্যতম সেরা এই তারকার।
মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) বুয়েনস এইরেসের এস্তাদিও মনুমেন্টালে বেনিনকে ৩-০ গোলে হারিয়েছে আর্জেন্টিনা। এই ম্যাচের মধ্য দিয়েই জাতীয় দলের হয়ে মেসির দীর্ঘ ক্যারিয়ারের সমাপ্তি ঘটেছে।
আরও পড়ুন: বিদায়ী ম্যাচে মেসির গোল-অ্যাসিস্ট, বেনিনকে হারাল আর্জেন্টিনা
বিদায়ী ম্যাচটিও নিজের পারফরম্যান্সে রাঙিয়েছেন ৩৯ বছর বয়সী মেসি। একটি গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে দুটি গোল করিয়েছেন তিনি।
ম্যাচের ৪৮ মিনিটে মেসির নেওয়া কর্নার থেকে গোল করেন নিকোলাস ওতামেন্দি। এরপর ৬০ মিনিটে মেসির পাস কাজে লাগিয়ে দ্বিতীয় গোলটি করেন নিকো পাজ।
আরও পড়ুন: ডব্লিউসিএল থেকে পাকিস্তান চ্যাম্পিয়ন্সের নাম প্রত্যাহার
এরপর আসে মেসির নিজের গোলের মুহূর্ত। ৬৮ মিনিটে আর্জেন্টিনা পেনাল্টি পেলে স্পটকিক নেওয়ার দায়িত্ব নেন অধিনায়ক মেসি। ৭১ মিনিটে নিখুঁত শটে বল জালে পাঠিয়ে বিদায়ী ম্যাচকে আরও স্মরণীয় করে তোলেন তিনি। এটি ছিল আর্জেন্টিনার জার্সিতে মেসির ১২৬তম গোল।
শেষ বাঁশি বাজার পর ম্যাচের ফল যেন ছাপিয়ে যায় মেসির বিদায়ের আবেগ। সতীর্থরা তাকে ঘিরে ধরেন। বেনিনের খেলোয়াড় এবং ম্যাচ কর্মকর্তারাও এগিয়ে এসে আর্জেন্টাইন কিংবদন্তিকে অভিনন্দন জানান। মেসির মুখেও তখন স্পষ্ট ছিল বিদায়ের আবেগ।
বিদায়ী মুহূর্তকে আরও বিশেষ করে তুলতে ম্যাচ শেষে মনুমেন্টালের আকাশে আয়োজন করা হয় ড্রোন শো। সেখানে ফুটে ওঠে ‘Gracias Leo’—অর্থাৎ ‘ধন্যবাদ লিও’ বার্তা।
আর্জেন্টিনার হয়ে ২০৭ ম্যাচে ১২৬ গোল ও ৭০ অ্যাসিস্টের কীর্তি নিয়ে জাতীয় দলের জার্সি তুলে রাখলেন মেসি। বিশ্বকাপ, কোপা আমেরিকা ও অলিম্পিক স্বর্ণজয়ী এই কিংবদন্তির বিদায় তাই শুধু একটি ম্যাচের সমাপ্তি নয়, আর্জেন্টিনার ফুটবল ইতিহাসের একটি স্মরণীয় অধ্যায়েরও পরিসমাপ্তি।





