ত্রিদেশীয় সিরিজ

পারল না বাংলাদেশ, ফাইনালে আফগানিস্তান

Sadek Ali
ক্রীড়া ডেস্ক
প্রকাশিত: ৮:৪৭ পূর্বাহ্ন, ২২ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ৮:৫৩ পূর্বাহ্ন, ২২ অক্টোবর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

সান্ত্বনার জয়ও পাওয়া হলো না বাংলাদেশের। আফগানিস্তানের কাছে ৭ উইকেটের বড় ব্যবধানে হেরে ত্রিদেশীয় সিরিজ থেকে বিদায় নিয়েছে টাইগাররা। বাংলাদেশের দেওয়া ১৬১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৮৭ বল হাতে রেখেই জয় নিশ্চিত করেছে আফগানিস্তান। এই জয়ে ফাইনালে জিম্বাবুয়ের মুখোমুখি হওয়ার টিকিট পেয়েছে তারা।

দুবাইয়ের শারজাহ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন স্টেডিয়ামে টস জিতে আগে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশের অধিনায়ক তাওহীদ হৃদয়। কিন্তু ব্যাটারদের ব্যর্থতায় নির্ধারিত সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি দলটি। পারভেজ হোসেন ইমনের ৭০ রানের ইনিংসে ভর করে ৪২তম ওভারে অলআউট হওয়ার আগে ১৬০ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ।

আরও পড়ুন: ছয় গোলের রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে বার্সেলোনাকে হারাল পিএসজি

জবাবে শুরুতে দুই উইকেট হারালেও এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি আফগানিস্তানকে। রহমানউল্লাহ গুরবাজকে ৬ রানে এবং সেদিকউল্লাহ অটলকে ৪ রানে বোল্ড করে বাংলাদেশকে আশার আলো দেখান তাসকিন আহমেদ। তবে সেই সম্ভাবনা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি।

তৃতীয় উইকেটে ইব্রাহিম জাদরান ও রহমত শাহর ৫৬ রানের জুটি ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। ইব্রাহিমকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন মুস্তাফিজুর রহমান। তাঁর বলে ক্যাচ তুলে দিলে মিডউইকেটে লাফিয়ে বলটি তালুবন্দি করেন নাজমুল হোসেন শান্ত।

আরও পড়ুন: যেভাবে ফাইনালে উঠতে পারে বাংলাদেশ

এরপর অধিনায়ক রহমত শাহ ও হাশমতউল্লাহ শহীদি মিলে বাকি কাজ শেষ করেন। ৬৬ বলে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ৩৪তম অর্ধশতক পূর্ণ করেন রহমত। শেষ পর্যন্ত ৬৭ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। অন্যদিকে শহীদি অপরাজিত ছিলেন ৩৬ রানে। ফলে সহজেই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় আফগানিস্তান।

বাংলাদেশের হয়ে তাসকিন দুটি এবং মুস্তাফিজ একটি উইকেট নেন।

ইমন-সাইফের লড়াই, বাকিরা ব্যর্থ

এর আগে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে একমাত্র উল্লেখযোগ্য প্রতিরোধ গড়েন পারভেজ হোসেন ইমন ও সাইফ হাসান। শুরুতেই দুই উইকেট হারিয়ে চাপে পড়া দলকে সামাল দিতে এই দুই ব্যাটার পঞ্চম উইকেটে ৯৩ রানের জুটি গড়েন।

ইমন ৯৬ বলে পাঁচটি চার ও দুটি ছক্কায় সর্বোচ্চ ৭০ রান করেন। সাইফের ব্যাট থেকে আসে ৮২ বলে ৪১ রান, যেখানে ছিল দুটি চার ও একটি ছক্কা। তাঁদের জুটি ভাঙার পর আবারও দ্রুত উইকেট হারাতে থাকে বাংলাদেশ।

নাজমুল হোসেন শান্তর ১৫ রান ছাড়া বাংলাদেশের আর কোনো ব্যাটার দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছাতে পারেননি। চারজন ব্যাটার কোনো রান না করেই সাজঘরে ফেরেন।

আফগানিস্তানের বোলারদের মধ্যে রশিদ খান ছিলেন সবচেয়ে সফল। তিনি চারটি উইকেট তুলে নেন। ইয়ামিন আহমদজাই ও আজমতউল্লাহ ওমরজাই দুটি করে উইকেট শিকার করেন।

নিয়মিত অধিনায়ক লিটন দাসের চোটের কারণে সিরিজে সুযোগ পাওয়া ইমন ব্যাট হাতে লড়াই করলেও দলকে জয় এনে দিতে পারেননি বাংলাদেশি ব্যাটাররা। শেষ পর্যন্ত হার নিয়েই ত্রিদেশীয় সিরিজ শেষ করতে হলো বাংলাদেশকে। অন্যদিকে ফাইনালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে মাঠে নামবে আফগানিস্তান।