অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে শ্বশুর-জামাই, নিখোঁজ কৃষক
রাজধানীর গাবতলী পশুর হাটে গরু বিক্রি করে বাড়ি ফেরার পথে অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়েছেন শ্বশুর-জামাই। এ ঘটনায় অচেতন অবস্থায় জামাইকে উদ্ধার করা হলেও এখনো নিখোঁজ রয়েছেন মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার কৃষক মুজাম বিশ্বাস (৭০)। ঘটনাটি ঘিরে পরিবারে নেমে এসেছে উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠা।
নিখোঁজ মুজাম বিশ্বাস উপজেলার সায়েস্তা ইউনিয়নের কানাইনগর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি পেশায় একজন কৃষক।
আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে কারাবন্দী বিএনপি নেতার অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন রাসিক প্রশাসক
পরিবার সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (২৬ মে) সকালে একটি ষাঁড় গরু বিক্রির উদ্দেশ্যে মেয়ের জামাই সুরুজ আলীকে সঙ্গে নিয়ে রাজধানীর গাবতলী পশুর হাটে যান মুজাম বিশ্বাস। পরে তারা গরুটি ৯০ হাজার টাকায় বিক্রি করেন। নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে বিক্রির টাকা রাতেই অন্য একজনের মাধ্যমে বাড়িতে পাঠিয়ে দেন।
গরু বিক্রি শেষে রাত ১টার দিকে লোকাল বাসে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন শ্বশুর-জামাই। ধারণা করা হচ্ছে, পথিমধ্যে অজ্ঞান পার্টির সদস্যরা কৌশলে তাদের চেতনানাশক কিছু খাইয়ে অচেতন করে ফেলে।
আরও পড়ুন: কুশিয়ারার দুই তীরে বাংলাদেশ-ভারতের মানুষের মিলনমেলা, জকিগঞ্জে দুর্গোৎসবের বিদায়
পরদিন বুধবার দুপুরে গাজীপুর এলাকা থেকে সুরুজ আলীকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করেন স্থানীয়রা। পরে তার মোবাইল ফোন থেকে পরিবারের সদস্যদের খবর দেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তবে এখনো কোনো সন্ধান মেলেনি মুজাম বিশ্বাসের।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, অজ্ঞান পার্টির সদস্যরা সুরুজ আলীর কাছে থাকা টাকা-পয়সাও নিয়ে গেছে। সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও নিখোঁজ কৃষকের সন্ধান না পাওয়ায় চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে স্বজনদের।
যে ঈদকে ঘিরে ছিল আনন্দের প্রস্তুতি, সেই ঈদই এখন তাদের কাছে দুঃস্বপ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে। দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় মুজাম বিশ্বাসকে উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।
এ ঘটনায় সিংগাইর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন স্বজনরা।
সিংগাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাজহারুল ইসলাম বলেন, নিখোঁজের ঘটনাটি আমাদের থানা এলাকার বাইরে ঘটেছে। তারপরও লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।





