এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ও চাঞ্চল্য

নাসিরনগরে হাত-পা বাঁধা যুবকের মরদেহ উদ্ধার, অটোরিকশা ছিনতাইয়ের অভিযোগ

Sanchoy Biswas
চন্দন কুমার দেব, নাসিরনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৭:৩৬ অপরাহ্ন, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ৪:০০ পূর্বাহ্ন, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে নিখোঁজের একদিন পর আরজান মিয়া (১৯) নামের এক অটোরিকশাচালকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলা সদরের সরকারি কলেজের গেটের সম্মুখে মামুন মার্কেট সংলগ্ন একটি ঝোপ থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

নিহত আরজান মিয়া হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার চিকনপুর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল আওয়ালের ছেলে। জীবিকার তাগিদে তিনি অটোরিকশা চালাতেন।

আরও পড়ুন: আওয়ামী লীগের সন্ত্রাস-নৈরাজ্যের প্রতিবাদে বিএনপির বিক্ষোভ

স্বজনদের বরাতে জানা যায়, রোববার সকালে প্রতিদিনের মতো অটোরিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন আরজান। সাধারণত দুপুরের দিকে তিনি বাড়িতে ফিরে খাবার খেয়ে আবার কাজে বের হতেন। তবে ওই দিন দুপুর গড়িয়ে গেলেও তিনি বাড়িতে ফেরেননি। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের উদ্বেগ বাড়তে থাকে। সন্ধ্যার পর স্বজনরা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ করেও তাঁর কোনো সন্ধান পাননি।

নিহতের বাবা আব্দুল আওয়াল বলেন, আরজান বাড়িতে না ফেরায় তাঁর মোবাইল ফোনে কয়েকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। প্রথমে দুবার ফোনে সংযোগ পাওয়া গেলেও পরে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। এরপর লাখাই উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ও আশপাশের গ্রামে খোঁজ করেও ছেলের সন্ধান পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন: অপ্রতিম হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দুই কিশোর টঙ্গী শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে

সোমবার দুপুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নাসিরনগরে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধারের খবর জানতে পারেন আব্দুল আওয়াল। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি মরদেহটি তাঁর ছেলে আরজান মিয়ার বলে শনাক্ত করেন।

পরে নাসিরনগর উপজেলার বুড়িশ্বর ইউনিয়নের বেনিপাড়া এলাকা থেকে আরজানের ব্যবহৃত অটোরিকশাটিও উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পুলিশ সুপার শচীন চাকমা জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। তবে পুলিশ পৌঁছানোর আগেই পরিবারের সদস্যরা মরদেহটি শনাক্ত করেন।

পরিবারের অভিযোগ, অটোরিকশা ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে আরজানকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। তবে এ অভিযোগের সত্যতা এবং হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত নয়। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিষয়েও পুলিশের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত নিশ্চিত কোনো তথ্য জানানো হয়নি।

নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহিনুল ইসলাম জানান, মরদেহটি পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য তা ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত চলছে।