জুলাই আন্দোলন ১৭ বছরের সংগ্রাম-আত্মত্যাগের ফসল: ত্রাণমন্ত্রী

Shahrier Islam Pallab
মোঃ আবু বক্কর সিদ্দিক, লালমনিরহাট প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৫:০১ অপরাহ্ন, ০৩ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ৫:০১ অপরাহ্ন, ০৩ অক্টোবর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান কোনো একদিনের ঘটনা নয়; দীর্ঘ ১৭ বছরের আন্দোলন, নির্যাতন, নিপীড়ন ও আত্মত্যাগের ধারাবাহিকতায় এর ক্ষেত্র প্রস্তুত হয়েছিল। এ সময় যারা রাজনৈতিকভাবে নির্যাতিত, আহত, নিহত কিংবা পারিবারিক ও ব্যবসায়িকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাদেরও যথাযথ স্বীকৃতি দেওয়া প্রয়োজন।

শনিবার দুপুরে লালমনিরহাট সার্কিট হাউস মিলনায়তনে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গুম, খুন, আহত এবং পারিবারিক ও ব্যবসায়িকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি ও পরিবারের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর আর্থিক সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আরও পড়ুন: আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে উলিপুরে মতবিনিময় সভা

অনুষ্ঠানে জেলার ক্ষতিগ্রস্ত ও শহীদ পরিবারের ১১১ জনের মধ্যে আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ করা হয়।

ত্রাণমন্ত্রী বলেন, ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান হঠাৎ করে সৃষ্টি হয়নি। এর পেছনে রয়েছে দীর্ঘ সময়ের আন্দোলন-সংগ্রাম এবং অসংখ্য মানুষের আত্মত্যাগ। গত ১৭ বছরে যারা রাজনৈতিকভাবে নির্যাতিত, আহত কিংবা নিহত হয়েছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের যোদ্ধাদের পাশাপাশি তাদেরও তালিকাভুক্ত করে যথাযথ মর্যাদা ও স্বীকৃতি দেওয়া প্রয়োজন।

আরও পড়ুন: নরসিংদীতে আটকে রেখে মুক্তিপণ আদায়ের চেষ্টা আটক ২

তিনি বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে যারা শহীদ ও নির্যাতিত হয়েছেন, তাদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়েই জুলাই আন্দোলনের পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। তাদের অবদানও যথাযথভাবে স্বীকৃতি পাওয়া উচিত।”

বিগত সময়ে রাজনৈতিক নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের বিষয়ে সরকার ইতিবাচক পদক্ষেপ নেবে জানিয়ে আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, তাদের দ্রুত গেজেটভুক্ত করে ভাতার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর তালিকা প্রণয়ন করে প্রয়োজন অনুযায়ী রাষ্ট্রীয় সহায়তা দেওয়ার কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

তিনি জানান, লালমনিরহাটে চিহ্নিত শহীদ ও ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা সংগ্রহের পর তাদের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি অনেকের চাকরির ব্যবস্থাও করা হয়েছে। এ ধরনের কার্যক্রম দেশের অন্যান্য স্থানেও চলমান রয়েছে।

বিগত ১৭ বছরে দায়ের করা রাজনৈতিক মামলার বিষয়ে ত্রাণমন্ত্রী বলেন, “ভুয়া ও গায়েবি” মামলাগুলো প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া চলছে। ইতোমধ্যে নির্যাতিত অনেক ব্যক্তি মামলা থেকে অব্যাহতি পাচ্ছেন বলেও তিনি জানান।

তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও সামাজিক সংকটের কারণে যারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাদের পুনর্বাসনের জন্য রাষ্ট্রীয়ভাবে সহযোগিতা করা প্রয়োজন। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো যাতে নতুন করে জীবন শুরু করতে পারে, সে লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন ধরনের সহায়তা দিচ্ছে।

তিস্তা মহাপরিকল্পনা ২০২৭ সালে শুরুর আশা

তিস্তা মহাপরিকল্পনা প্রসঙ্গে আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, তিস্তা নদী ও এর তীরবর্তী মানুষের দীর্ঘদিনের দুঃখ-দুর্দশা লাঘবে সরকার মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে আন্তরিকভাবে কাজ করছে। বর্তমানে এ প্রকল্পের কারিগরি সমীক্ষা চলছে। প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি শেষ করে ২০২৭ সালের মধ্যেই তিস্তা মহাপরিকল্পনার আনুষ্ঠানিক কাজ শুরু করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

তিনি বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে নদীভাঙন, বন্যা ও তীরবর্তী মানুষের দীর্ঘদিনের নানা সমস্যা মোকাবিলায় কার্যকর ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি তিস্তা অববাহিকার মানুষের জীবন-জীবিকা, কৃষি, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও স্থানীয় অর্থনীতিতে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

অনুষ্ঠানে লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক মুহা. রাশেদুল হক প্রধান, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালামসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্য এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।