রংপুরে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী, চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা

Sadek Ali
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ২:২৩ অপরাহ্ন, ২০ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ২:২৩ অপরাহ্ন, ২০ অক্টোবর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করতে রংপুরে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে নগরীর ধর্মসভা রাধা গোবিন্দ মন্দিরে পৌঁছান তিনি।

মন্দিরে পৌঁছে শিশু-কিশোরদের সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপভোগ করেন প্রধানমন্ত্রী। পরে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন এবং হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে কুশল ও শুভেচ্ছা বিনিময়ের কর্মসূচি রয়েছে তাঁর।

আরও পড়ুন: শাজাহানপুরে দুর্গাপূজা মণ্ডপে অনুদান, অসহায় নারীদের শাড়ি দিলেন শাহিন আহমেদ

এর আগে সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে সামরিক বিমানে নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দরে পৌঁছান তারেক রহমান। সেখানে দলীয় নেতাকর্মীরা তাঁকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান। পরে সড়কপথে বাসযোগে রংপুরের উদ্দেশে রওনা হন তিনি। যাত্রাপথে সড়কের দুই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা বিএনপির নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষকে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রীকে বরণে বদলে গেছে নগরীর চিত্র

আরও পড়ুন: নানা বাড়িতে বেড়াতে এসে পুকুরে ডুবে শিশুর মৃত্যু

প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে রংপুর নগরীতে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। সফর সফল করতে দলীয় প্রস্তুতির পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ জোরদার করেছে সিটি করপোরেশন।

সরেজমিনে দেখা যায়, নগরীর বিভিন্ন সড়ক ও সড়ক বিভাজক পরিষ্কার করে রং করা হয়েছে। বিভাজকে লাগানো হচ্ছে ফুলের গাছ। প্রধান সড়কের ফুটপাতও দখলমুক্ত করে পরিষ্কার করা হয়েছে। নগরীর বিভিন্ন বিলবোর্ডে সিটি করপোরেশন, রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, শারদীয় দুর্গোৎসব কমিটি, সাংস্কৃতিক ঐক্য পরিষদ এবং জেলা ও মহানগর বিএনপির পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা জানিয়ে ব্যানার টাঙানো হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর যাতায়াতের জন্য নির্ধারিত সড়কগুলোতে সংস্কারকাজও চালানো হয়েছে। বিশেষ করে ডিসির মোড় থেকে চেকপোস্ট পর্যন্ত সড়কের কাজ দ্রুত শেষ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এসব কার্যক্রম তদারকি করছেন সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট মাহফুজ উন-নবী চৌধুরী ডন।

ভাওয়াইয়া গানের ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ রংপুরে প্রধানমন্ত্রীকে সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মাধ্যমে বরণ করার প্রস্তুতি নিয়েছেন জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) মহানগর ও জেলা পর্যায়ের শিল্পীরা। প্রস্তুতি রয়েছে সাংস্কৃতিক ঐক্য পরিষদেরও। বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরাও সফর ঘিরে নানা আয়োজন করেছেন।

প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে আনন্দ

রাজধানীর বাইরে প্রত্যন্ত অঞ্চলে দুর্গাপূজার উৎসব দেখতে প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ব্যতিক্রমী ঘটনা হিসেবে দেখছেন স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ। তাঁদের প্রত্যাশা, এ সফরের মধ্য দিয়ে রংপুরে সম্প্রীতির বার্তা আরও জোরালো হবে।

আনন্দময়ী সেবাশ্রম মন্দিরের পূজামণ্ডপে সুবাস চন্দ্র বলেন, ঢাকার বাইরে প্রধানমন্ত্রীকে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করতে আগে দেখেননি তাঁরা। এবার রংপুরে তাঁর আগমন তাঁদের জন্য আনন্দের ও বিশেষ প্রাপ্তির বিষয়।

শ্রী শ্রী কালীবাড়ী মন্দিরে দুর্গোৎসবে অংশ নিতে আসা জীবন ঘোষ বলেন, প্রধানমন্ত্রী তাঁদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করবেন এবং পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করবেন—এতে তাঁরা আনন্দিত। তাঁকে কাছ থেকে দেখার জন্য অনেকেই অপেক্ষা করছেন। তাঁর প্রত্যাশা, সফরটি আনন্দময় ও সম্প্রীতিপূর্ণ হবে।

রাধা গোবিন্দ মন্দিরের সভাপতি পার্থ বোস বলেন, প্রধানমন্ত্রী মন্দিরে আসায় তাঁরা আনন্দিত। এর মাধ্যমে তিনি প্রত্যন্ত অঞ্চলে শারদীয় উৎসব কীভাবে উদ্‌যাপিত হয়, তা সরাসরি দেখতে পারবেন এবং ভক্তদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন।

নিরাপত্তায় চার স্তরের ব্যবস্থা

প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে চার স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তাঁর নিরাপত্তায় স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ), জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই), পুলিশ, বিজিবি এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করছে। সংশ্লিষ্ট বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ইতোমধ্যে অনুষ্ঠানস্থল পরিদর্শন করেছেন।

জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহান জানান, প্রধানমন্ত্রী রাধা গোবিন্দ মন্দিরের পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের পাশাপাশি হিন্দু সম্প্রদায়ের ভক্তদের সঙ্গে শুভেচ্ছা ও কুশল বিনিময় করবেন। সফর ঘিরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব ও সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজ উন-নবী চৌধুরী ডন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে নগরবাসীর মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে আনন্দ-উদ্দীপনা রয়েছে। তাঁর ভাষ্য, সম্প্রীতির বার্তা নিয়েই প্রধানমন্ত্রী শারদীয় উৎসবে রংপুরে এসেছেন।

তিনি আরও জানান, সম্প্রতি রংপুরের উন্নয়নে ১ হাজার ৮০০ কোটি টাকার দুটি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনে আরও ১২৭ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। ভবিষ্যতেও এ অঞ্চলের উন্নয়নে বিভিন্ন পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি।