৯৯৯-এ ফোনের দুই ঘণ্টায় ডাকাতি হওয়া ৩১টি গরুসহ ট্রাক উদ্ধার, মিনিট্রাক জব্দ
জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন পাওয়ার মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যে ডাকাতির শিকার হওয়া ৩১টি গরুসহ একটি ট্রাক উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ সময় ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি নম্বরবিহীন মিনিট্রাক জব্দ করা হয়েছে। তবে অভিযুক্ত ডাকাতরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শনিবার (১১ জুলাই) ভোররাতে এক ব্যক্তি ৯৯৯-এ ফোন করে জানান, সিলেটের জৈন্তাপুর থেকে নরসিংদীর একটি পশুর হাটে ৩১টি ষাঁড়-বাছুর নিয়ে যাচ্ছিল একটি ট্রাক। পথে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরের বুধন্তী ও চান্দুরা এলাকার মধ্যবর্তী স্থানে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ব্যারিকেড দিয়ে একদল ডাকাত ট্রাকটি থামায়।
আরও পড়ুন: বিএসবি গ্লোবাল নেটওয়ার্কের খায়রুল বাশার বাহারের ৩৩ কোটি টাকার সম্পদ ক্রোক
ডাকাতরা চালক ও হেলপারকে মারধর করে তাদের হাত-পা ও চোখ বেঁধে ট্রাকটি ছিনতাই করে নিয়ে যায়। এ সময় সঙ্গে থাকা এক রাখাল পালিয়ে গিয়ে বিষয়টি ট্রাক মালিককে জানালে তিনি জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করেন।
ফোন পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ৯৯৯ কর্তৃপক্ষ ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ কন্ট্রোল রুম, বিজয়নগর থানা ও সরাইল থানাকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেয়। ৯৯৯-এর কলটি গ্রহণ করেন কনস্টেবল আকবর হোসেন এবং সার্বক্ষণিক সমন্বয় করেন পুলিশ ডিসপাচার এসআই শহিদুল ইসলাম।
আরও পড়ুন: টানা বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা ও যানজট, অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়াতে ডিএমপির আহ্বান
সংবাদ পেয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিভিন্ন থানার টহল দল সতর্ক হয়ে অভিযান শুরু করে। বিজয়নগর থানা পুলিশের একটি দল ট্রাকটির পিছু নেয় এবং পরে সরাইল থানা পুলিশও অভিযানে যুক্ত হয়।
সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনজুর কাদের ভূঁইয়া জানান, পুলিশের ধাওয়া টের পেয়ে ডাকাতরা ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ছেড়ে সরাইল-নাসিরনগর-লাখাই আঞ্চলিক সড়কে প্রবেশ করে। বেতার বার্তার ভিত্তিতে ধরন্তী ব্রিজ এলাকায় চেকপোস্ট বসানো হলে ডাকাতরা সেটি ভেঙে পালানোর চেষ্টা করে। এ সময় দায়িত্বরত এক পুলিশ কর্মকর্তাকে চাপা দেওয়ারও চেষ্টা করা হয়।
পরে ডাকাতরা ধরন্তী এলাকায় ট্রাকটি ফেলে পাশের হাওরে পালিয়ে যায়।
ঘটনাস্থল থেকে ৩১টি ষাঁড়-বাছুর বোঝাই ট্রাক, ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি নম্বরবিহীন মিনিট্রাক, একটি ব্যাগ, আইফোন-৬ প্লাস মডেলের একটি মোবাইল ফোন, গাড়ির বিভিন্ন কাগজপত্র ও চাবি উদ্ধার করা হয়।
এ ছাড়া হাত-পা ও চোখ বাঁধা অবস্থায় ট্রাকচালক হায়দার আলী এবং হেলপার মো. হুমায়ুন কবির বিপ্লবকে উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। পলাতক ডাকাতদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।





