পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও বিচার দাবি

সমবায় সমিতিতে শতকোটি টাকার অনিয়ম, হামলা ও আটক রাখার অভিযোগ

Sanchoy Biswas
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ৬:৪৯ অপরাহ্ন, ০৯ জুন ২০২৬ | আপডেট: ৫:০৬ অপরাহ্ন, ১০ জুন ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকার গাউসুল আজম সুপার মার্কেট দোকান মালিক ব্যবসায়ী বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেডকে ঘিরে দীর্ঘদিনের আর্থিক অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার, হুমকি-ধমকি এবং শারীরিক হামলার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় সমিতির বর্তমান সম্পাদক জালাল আহমেদ জসিম বিস্তারিত অভিযোগ তুলে ধরে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন।

মামলার নথি ও বাদীর বক্তব্য অনুযায়ী, সমিতিটি ২০০১ সালে জেলা সমবায় কার্যালয়, ঢাকা থেকে নিবন্ধিত হওয়ার পর প্রায় ৮০০টি দোকানঘর নির্মাণ করে সদস্যদের মধ্যে বরাদ্দ ও হস্তান্তর কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। তবে দীর্ঘ সময় ধরে এই সমিতির আর্থিক লেনদেন ও হিসাব-নিকাশে স্বচ্ছতার ঘাটতি রয়েছে বলে অভিযোগ করেন বাদী।

আরও পড়ুন: 'রাজপথ দখল করতে দেওয়া হবে না’, হকার উচ্ছেদে বিশেষ কর্মসূচি আসছে

জালাল আহমেদ জসিমের অভিযোগ, বিভিন্ন সময়ে দোকান বরাদ্দ ও হস্তান্তরের নামে প্রতি দোকান থেকে কয়েক লাখ থেকে শুরু করে কয়েক কোটি টাকা পর্যন্ত আদায় করা হলেও এসব অর্থের একটি বড় অংশ সমিতির ব্যাংক হিসাবে জমা হয়নি। দীর্ঘ প্রায় ২৫ বছরের লেনদেন পর্যালোচনা করলে বিপুল অঙ্কের অর্থের কোনো সঠিক হিসাব বা নির্ভরযোগ্য অডিট রিপোর্ট পাওয়া যায় না বলে তিনি দাবি করেন।তিনি আরও অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক নিরীক্ষা প্রতিবেদনে সমিতির দীর্ঘদিনের আর্থিক ও প্রশাসনিক তথ্য সঠিকভাবে উপস্থাপন করা হয়নি। বিশেষ করে প্রায় ২৫ বছরের নিরীক্ষা পর্যালোচনায় সদস্য অন্তর্ভুক্তির দলিল, শেয়ার মূল্য এবং জমি সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসাব বাদ দেওয়া হয়েছে বলে দাবি তার। এসব হিসাবের আর্থিক পরিমাণ প্রায় ১৪২ কোটি টাকার মতো বলে তিনি উল্লেখ করেন। এছাড়া ওই প্রতিবেদনে বিবাদী সভাপতি মোতালেব মিয়ার বক্তব্য বা সংশ্লিষ্টতা যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়নি বলেও অভিযোগ তোলা হয়েছে।

সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর সমিতির খাতা-পত্র ও হিসাব-নিকাশ পর্যালোচনা করতে গিয়ে তিনি দেখতে পান, দীর্ঘদিন ধরে কোনো পূর্ণাঙ্গ ও স্বচ্ছ হিসাব সংরক্ষণ করা হয়নি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে তার বিরোধ তৈরি হয়।মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, হিসাব-নিকাশ চাওয়ার পর থেকেই তাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন, চাপ সৃষ্টি এবং হুমকি দেওয়া শুরু হয়। এমনকি অজ্ঞাত নম্বর থেকেও তাকে অভিযোগ প্রত্যাহারের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয় বলে তিনি দাবি করেন।

আরও পড়ুন: ছুটি শেষে চেনা যানজটে ঢাকা, সকালে সড়কে বাড়তি চাপ

পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে ২০২৬ সালের ১২ জানুয়ারি, যখন সমবায় অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা তদন্তের উদ্দেশ্যে সমিতির কার্যালয়ে গেলে সেখানে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। বাদীর অভিযোগ অনুযায়ী, ওই সময় কয়েকজন আসামির সহযোগিতায় কর্মকর্তাদের অফিস থেকে বের করে দেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে তাকে ও তার স্ত্রীকে অফিস কক্ষে আটকে রাখা হয়।

তিনি অভিযোগ করেন, ওই ঘটনার সময় তাকে এবং তার স্ত্রীকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয় এবং একপর্যায়ে তার মাথায় পিস্তলের বাট দিয়ে আঘাত করা হয়, ফলে তারা দুজনই অচেতন হয়ে পড়েন। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়, যেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা ও সিটি স্ক্যানসহ প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন হয়।চিকিৎসা শেষে নিরাপত্তাজনিত কারণে তাৎক্ষণিকভাবে থানায় অভিযোগ না করে পরে বিষয়টি জনসমক্ষে তুলে ধরেন তিনি। ১৭ জানুয়ারি জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সমিতির অভ্যন্তরীণ অনিয়ম, দুর্নীতি এবং নিজের ওপর হামলার ঘটনা প্রকাশ করেন, যা বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ আকারে প্রচারিত হয়।পরবর্তীতে তিনি দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় আদালতে মামলা দায়ের করেন এবং সমিতির পূর্ণাঙ্গ আর্থিক তদন্ত, নিরপেক্ষ অডিট ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানান।

এদিকে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সমিতির সদস্যদের একাংশের ভাষ্য অনুযায়ী, সমিতির আর্থিক কার্যক্রম নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্ন রয়েছে। তারা মনে করেন, দ্রুত স্বচ্ছতা নিশ্চিত না হলে ভবিষ্যতে আরও জটিলতা তৈরি হতে পারে।