ঢাকাকে বাঁচাতে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে ‘দ্বিতীয় যুদ্ধ’ ঘোষণা ডিএসসিসি প্রশাসকের

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৪:৫৮ অপরাহ্ন, ১৩ জুন ২০২৬ | আপডেট: ৮:২১ অপরাহ্ন, ১৩ জুন ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ঢাকাকে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব থেকে রক্ষা করতে ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি হাতে নিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি)। এ লক্ষ্যে ২০২৬ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে রাজধানীর দক্ষিণাঞ্চলে তিন লাখ বৃক্ষরোপণের পরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়েছে।

শনিবার (১৩ জুন) গুলিস্তানের শহীদ মতিউর রহমান পার্কে জাতীয় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ২০২৬-এর উদ্বোধনকালে ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম এ ঘোষণা দেন। উদ্বোধনী দিনে ডিএসসিসির ১০টি অঞ্চলে একযোগে ৫০০ গাছের চারা রোপণ করা হয়।

আরও পড়ুন: ঢাকা ওয়াসার উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, ১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীন করার জন্য যেমন যুদ্ধ করতে হয়েছিল, তেমনি বর্তমান সময়ে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াই এবং ঢাকাকে রক্ষার সংগ্রামও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, নগরীর পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় ব্যাপক হারে বৃক্ষরোপণ এবং রোপণকৃত গাছের সঠিক পরিচর্যা নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি জাতীয় পর্যায়ে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি গ্রহণ করায় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় বৃক্ষরোপণের বিকল্প নেই।

আরও পড়ুন: রাজধানীতে ৪৩ মিলিমিটার বৃষ্টি, তাপমাত্রা কমল অনেকটা

ঢাকার ভূগর্ভস্থ পানির স্তর হ্রাস এবং তাপমাত্রা বৃদ্ধির বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রশাসক বলেন, নগরায়ণের ফলে কংক্রিটের আধিক্য বাড়ছে, যার কারণে বৃষ্টির পানি মাটির নিচে প্রবেশ করতে পারছে না। নতুন ভবন নির্মাণে কিছু অংশ কংক্রিটমুক্ত রেখে সবুজায়নের ব্যবস্থা করার জন্য তিনি নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।

ছাদ কৃষিকে উৎসাহিত করতে বিশেষ উদ্যোগের কথাও জানান তিনি। ডিএসসিসির পক্ষ থেকে প্রতিবছর সেরা ১০ জন ছাদ কৃষককে পুরস্কৃত করা হবে। ভবিষ্যতে ছাদ কৃষকদের জন্য হোল্ডিং ট্যাক্সে ছাড় দেওয়ার বিষয়েও সরকারের সঙ্গে আলোচনা করা হবে বলে জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে আরও জানানো হয়, ডিএসসিসির ‘জিরো ওয়েস্ট’ কর্মসূচির আওতায় ইতোমধ্যে সড়কের মিডিয়ান ও ট্রাফিক আইল্যান্ডে ১৮ হাজার গাছ রোপণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ওসমানী উদ্যানে একটি কেন্দ্রীয় নার্সারি স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যেখান থেকে নাগরিকদের বিনামূল্যে গাছের চারা প্রদান করা হবে।

নগরীর পরিবেশ ও শৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে প্রশাসক বলেন, পার্ক ও উন্মুক্ত স্থানে কোনো ধরনের অবৈধ বাণিজ্যিক বা অস্থায়ী স্থাপনা রাখা যাবে না। শর্ত লঙ্ঘন করলে ইজারা বাতিল করা হবে। এছাড়া অবৈধ দখল, লাইসেন্সবিহীন ব্যবসা এবং হকার নিয়ন্ত্রণে প্রতি শনিবার ডিএসসিসির ১০টি অঞ্চলে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে।

সবশেষে তিনি ঢাকাকে একটি সবুজ, পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য মহানগর হিসেবে গড়ে তুলতে নগরবাসী ও গণমাধ্যমের সহযোগিতা কামনা করেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।