ইরানে বিক্ষোভকারীদের ফাঁসি দিতে পারে তেহরান, কঠোর হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

Sadek Ali
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১:৪৫ অপরাহ্ন, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ১:৪৫ অপরাহ্ন, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর দমন-পীড়নের মধ্যেই মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রস্তুতি নিচ্ছে দেশটির কর্তৃপক্ষ—এমন অভিযোগ তুলেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো। এ পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে সতর্ক করে বলেছেন, বিক্ষোভকারীদের ফাঁসি দেওয়া হলে যুক্তরাষ্ট্র “অত্যন্ত শক্তিশালী পদক্ষেপ” নেবে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, তেহরানের দক্ষিণে কারিজাক মরচুয়ারিতে কালো ব্যাগে মোড়ানো মরদেহ সারিবদ্ধভাবে রাখা হয়েছে। স্বজনরা সেখানে নিখোঁজ পরিবারের সদস্যদের খোঁজ করছেন। মানবাধিকার কর্মীদের দাবি, সাম্প্রতিক দমন অভিযানে অন্তত দুই হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।

আরও পড়ুন: গাজায় প্রায় ৭০ হাজার ফিলিস্তিনি নিহতের কথা স্বীকার ইসরায়েলের

ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের জনগণকে বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, “সাহায্য আসছে।” একই সঙ্গে তিনি তেহরানের ধর্মীয় শাসকদের সতর্ক করে বলেন, বিক্ষোভকারীদের ফাঁসি কার্যকর করা হলে যুক্তরাষ্ট্র চুপ থাকবে না।

মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্যমতে, ২৬ বছর বয়সী এরফান সোলতানি নামের এক যুবককে যথাযথ বিচার ছাড়াই ফাঁসিতে ঝোলানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তিনি গত সপ্তাহে তেহরানের উপকণ্ঠ কারাজে বিক্ষোভ চলাকালে গ্রেপ্তার হন। এটিই চলমান আন্দোলনের প্রথম মৃত্যুদণ্ড হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো হামলার জবাব হবে ‘দ্রুত ও চূড়ান্ত’—ইরানের সেনাবাহিনী

ইন্টারনেট যোগাযোগ প্রায় সম্পূর্ণ বন্ধ থাকায় দেশটির ভেতরের পরিস্থিতি সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। এর মধ্যেই স্পেসএক্সের স্টারলিংক সেবা ইরানে বিনা মূল্যে চালুর প্রস্তাব দিয়েছে বলে জানা গেছে, যাতে সাধারণ মানুষ বিকল্প ইন্টারনেট সুবিধা পেতে পারে।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ গোপনে ইরানের নির্বাসিত সাবেক যুবরাজ রেজা পাহলভির সঙ্গে বৈঠক করেছেন বলে জানিয়েছে মার্কিন গণমাধ্যম অ্যাক্সিওস। বৈঠকে চলমান আন্দোলন ও ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে সূত্রের দাবি। রেজা পাহলভি ট্রাম্পকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

ইরানি কর্তৃপক্ষ দাবি করছে, তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। তবে মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটের আড়ালে দমন-পীড়নের প্রকৃত চিত্র আড়াল করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্টস নিউজ এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, নিহতের সংখ্যা বুধবার পর্যন্ত বেড়ে দাঁড়িয়েছে অন্তত ২ হাজার ৫৭১ জনে।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি বিক্ষোভ দমনের পক্ষে অবস্থান নিয়ে একে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। অন্যদিকে, বিশ্লেষকরা বলছেন, সাম্প্রতিক আন্দোলন ইসলামি প্রজাতন্ত্রের জন্য সাম্প্রতিক বছরগুলোর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলেও, নিরাপত্তা বাহিনীর শক্ত অবস্থানের কারণে শাসনব্যবস্থার পতন এখনই নিশ্চিত নয়।

সূত্র: এনডিটিভি ওয়ার্ল্ড