সমুদ্রপথে জ্বালানিবাহী জাহাজের নিরাপত্তা জোরদার করেছে নৌবাহিনী
দেশের সমুদ্রসীমা ও গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে জ্বালানিবাহী জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে টহল ও নজরদারি জোরদার করেছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) চট্টগ্রাম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দেশের সমুদ্রসীমা ও বাণিজ্যিক নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নৌবাহিনী সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছে। এর মাধ্যমে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত হয়ে দেশের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমও নির্বিঘ্ন রাখা সম্ভব হচ্ছে।
আরও পড়ুন: ৩ মে রবিবার থেকেই শুরু হাওরের কৃষকের কাছ থেকে ধান-চাল সংগ্রহ
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশের জলসীমায় অবস্থানরত এলএনজি, এলপিজি এবং পেট্রোল, ডিজেল ও জেট ফুয়েলসহ বিভিন্ন জ্বালানির প্রধান উৎস হলো ক্রুড অয়েলবাহী জাহাজ। এসব জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নৌবাহিনী নিয়মিত নজরদারি চালিয়ে আসছে। বর্তমান আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এ সংক্রান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে।
এর অংশ হিসেবে চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দর সংলগ্ন এলাকা, গভীর সমুদ্র এবং দেশের জ্বালানি পরিবহন সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে নৌবাহিনীর টহল কার্যক্রম বাড়ানো হয়েছে।
আরও পড়ুন: চার দিনের ডিসি সম্মেলনে উঠছে ৪৯৮ প্রস্তাব
নিরাপত্তা ব্যবস্থার আওতায় নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ ও দ্রুতগামী বোট মোতায়েনের পাশাপাশি মেরিটাইম প্যাট্রোল এয়ারক্রাফট ও হেলিকপ্টারের মাধ্যমে আকাশ থেকেও নজরদারি পরিচালনা করা হচ্ছে। এসব ব্যবস্থার মাধ্যমে সমুদ্রপথে সার্বক্ষণিক টহল, আকাশ নজরদারি এবং সন্দেহজনক জাহাজ বা নৌযান পর্যবেক্ষণের কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
এর ফলে জ্বালানিবাহী জাহাজের নিরাপদ চলাচল, নোঙর করা এবং বন্দরে প্রবেশ ও বহির্গমন আরও নিরাপদভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে বলে জানিয়েছে নৌবাহিনী।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে দেশের জ্বালানি পরিবহন ব্যবস্থার নিরাপত্তা জোরদার করতে এ অতিরিক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সমুদ্রপথে সম্ভাব্য চোরাচালান, অপতৎপরতা বা অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে সমুদ্র ও উপকূলীয় এলাকায় নৌবাহিনীর বিশেষ অপারেশনাল টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নৌবাহিনী বন্দর কর্তৃপক্ষ, কোস্ট গার্ড, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট জ্বালানি সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে বলেও জানানো হয়।
নৌবাহিনী জানিয়েছে, দেশের সমুদ্রসীমা, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো এবং অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় তারা সর্বদা সতর্ক ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা এবং সমুদ্রপথে নির্বিঘ্ন বাণিজ্যিক কার্যক্রম বজায় রাখতে এ ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।





