ইরানের ক্ষমতার পালাবদল এখন কতদূর

Sadek Ali
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০:৪৪ পূর্বাহ্ন, ০১ মার্চ ২০২৬ | আপডেট: ১০:৪৪ পূর্বাহ্ন, ০১ মার্চ ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

দীর্ঘ দুই মাসের উত্তেজনা ও যুদ্ধাবস্থার পর শেষ পর্যন্ত ইরানে সরাসরি সামরিক অভিযান শুরু করেছে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। পাল্টাপাল্টি সশস্ত্র হামলার মধ্য দিয়ে তেহরানের সঙ্গে তেল আবিব ও ওয়াশিংটনের বিরোধ এখন পূর্ণমাত্রার সংঘাতে রূপ নিয়েছে।

গত বছরের ডিসেম্বরে অর্থনৈতিক সংকটকে কেন্দ্র করে ইরানে শুরু হওয়া বিক্ষোভ দ্রুত সহিংসতায় রূপ নেয়। সে সময় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিক্ষোভকারীদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে সহায়তার আশ্বাস দেন। ১৩ জানুয়ারির এক ভাষণে তিনি বলেন, ‘সাহায্য আসছে’। এর আগে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অবস্থান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচিত হয়।

আরও পড়ুন: ইরানে অভিযান চার সপ্তাহ চলতে পারে: ট্রাম্প

ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা বাড়ার প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের সামরিক উপস্থিতি জোরদার করে ওয়াশিংটন। দুটি বিমানবাহী রণতরীসহ অতিরিক্ত যুদ্ধজাহাজ ও বিমান মোতায়েন করা হয়। যদিও আঞ্চলিক দেশগুলোর চাপে কূটনৈতিক আলোচনাও শুরু হয়েছিল, তবে তা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। শেষ পর্যন্ত শনিবার ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে হামলা শুরু করে।

ট্রাম্পের ভিডিও বার্তা

আরও পড়ুন: ইরানবিরোধী যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিল যুক্তরাজ্য

হামলার পর এক ভিডিও বার্তায় ট্রাম্প বলেন, তেহরানের বিরুদ্ধে ‘বড় ধরনের সামরিক অভিযান’ শুরু হয়েছে। তিনি দাবি করেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র মজুত ও সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস করাই এ অভিযানের লক্ষ্য। একই সঙ্গে ইরানিদের সরকার পতনের আহ্বানও জানান তিনি।

তার ভাষায়, ইরানের নৌবাহিনীকে অকার্যকর করা এবং আঞ্চলিক প্রক্সি শক্তিগুলোর সক্ষমতা ভেঙে দেওয়াই মূল উদ্দেশ্য।

ক্ষমতা পরিবর্তন কতটা সহজ?

তবে বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের ক্ষমতাসীনদের পরিবর্তন এত সহজ নয়। দেশটির শাসনব্যবস্থা বহুমাত্রিক এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ক্ষমতা পরিচালিত হয়। সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়েদ আলী খামেনিকে কেন্দ্র করে কাঠামো গড়ে উঠলেও রাষ্ট্রযন্ত্র কেবল এক ব্যক্তিনির্ভর নয়।

ট্রাম্প পূর্বেও ইরানে নতুন নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার পক্ষে মত দিয়েছেন। তবে ইরানের রাজনৈতিক ও সামাজিক কাঠামোতে ক্ষমতাসীনদের প্রভাব গভীর হওয়ায় বাইরের সামরিক হস্তক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক ঝুঁকি

ইরান ইতোমধ্যে উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে গেলে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকিও রয়েছে। এ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরল প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবাহিত হয়। ফলে এটি বন্ধ হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।

এ ছাড়া সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে উপসাগরীয় দেশগুলোতে শরণার্থী সংকট দেখা দিতে পারে, যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।

বর্তমান পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যকে নতুন এক দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে কি না—তা এখনই নিশ্চিত করে বলা না গেলেও, উত্তেজনা যে বহুমাত্রিক ঝুঁকি তৈরি করছে, সে বিষয়ে আন্তর্জাতিক মহল গভীরভাবে নজর রাখছে।