‘কাদেরসহ দণ্ডিত ৭ আসামির খোঁজ পেলেই গ্রেপ্তার করে দেশে আনা হবে’

Sadek Ali
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ৬:১১ অপরাহ্ন, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ১২:১১ পূর্বাহ্ন, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির মৃত্যুদণ্ডের রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। একই সঙ্গে পলাতক আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করা গেলে তাদের গ্রেপ্তার করে দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নিজ কার্যালয়ের সংবাদ সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন চিফ প্রসিকিউটর।

আরও পড়ুন: কুষ্টিয়ায় ছয়জন হত্যা: হানিফের মৃত্যুদণ্ড, তিন নেতার আমৃত্যু কারাদণ্ড

আসামিরা বর্তমানে কোথায় অবস্থান করছেন—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে আমিনুল ইসলাম বলেন, এ মুহূর্তে তাদের অবস্থান সম্পর্কে নির্দিষ্ট তথ্য তাদের কাছে নেই। তবে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হলে গ্রেপ্তার করে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

চার অভিযোগে অধিকাংশ আসামির অপরাধ প্রমাণ

আরও পড়ুন: আদালত অবমাননা করায় ট্রাইব্যুনালে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইলেন দুই আইনজীবী

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাত আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। মামলায় প্রত্যেক আসামির বিরুদ্ধে চারটি করে অভিযোগ আনা হয়েছিল। সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অধিকাংশ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে।

রায়ে কয়েকটি অভিযোগে আমৃত্যু কারাদণ্ডও দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। এ ছাড়া পাঁচ আসামির স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির ৫০ শতাংশ রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

চিফ প্রসিকিউটর জানান, বাজেয়াপ্ত সম্পদ থেকে প্রাপ্ত অর্থ জুলাই ফাউন্ডেশন অথবা সরকারের অধীন সংশ্লিষ্ট সংস্থার মাধ্যমে জুলাই আন্দোলনে নিহত ও আহতদের পরিবারের মধ্যে বণ্টনের কথা রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে।

‘সুপিরিয়র কমান্ড রেসপনসিবিলিটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে’

রায়ের বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে আমিনুল ইসলাম বলেন, আসামিদের বিরুদ্ধে সুপিরিয়র কমান্ড রেসপনসিবিলিটি এবং ব্যক্তিগত দায়—দুই বিষয়ই সাক্ষ্য ও অন্যান্য প্রমাণের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই অনুষ্ঠিত ১৪ দলীয় বৈঠকে কারফিউ জারি এবং প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এরপর ওবায়দুল কাদেরের ‘শুট অ্যাট সাইট’ নির্দেশের পর নির্বিচারে গুলি চালিয়ে মানুষ হত্যার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগের বিষয়ে সাক্ষ্য-প্রমাণে উঠে এসেছে।

পলাতক আসামিদের বক্তব্য নিয়ে চিফ প্রসিকিউটরের মন্তব্য

মোহাম্মদ আলী আরাফাতসহ কয়েকজন বিভিন্ন গণমাধ্যমের ফেসবুক পেজে মন্তব্য করছেন—এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, আসামিরা ট্রাইব্যুনালে চলমান বিচারপ্রক্রিয়া সম্পর্কে অবগত ছিলেন। তাদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ থাকলেও তারা তা মোকাবিলা করেননি।

তার মতে, এ অবস্থায় তাদের ইচ্ছাকৃতভাবে পলাতক থাকার বিষয়টি স্পষ্ট। অপরাধের অভিযোগের কারণে তারা পলাতক রয়েছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। পলাতক থেকে দেওয়া বক্তব্য আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য নয় বলেও জানান চিফ প্রসিকিউটর।

তিনি আরও বলেন, কোনো আসামি ইচ্ছাকৃতভাবে পলাতক থাকলে প্রচলিত আইনের বিধান অনুযায়ীই বিচারপ্রক্রিয়া পরিচালিত হয়েছে। এ ক্ষেত্রে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মন্তব্য করারও সুযোগ নেই বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সম্পত্তি বাজেয়াপ্তে ৩০ দিনের আপিলের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ

রায়ে সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের নির্দেশ কার্যকর করার বিষয়ে আমিনুল ইসলাম বলেন, রায় প্রকাশের পর আপিলের জন্য ৩০ দিনের সময় রয়েছে। এই সময়ের মধ্যে কোনো সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা বা অন্য ব্যবস্থাপনায় দেওয়ার ক্ষেত্রে সুযোগ সীমিত থাকতে পারে।

তবে ৩০ দিনের আপিলের সময় শেষ হওয়ার পর বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে রায় বাস্তবায়নে আইনগত কোনো বাধা থাকবে না বলে জানান আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর।