‘বেটার বাংলাদেশ’ গড়তে সব ধর্মের সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
সুখী, সমৃদ্ধ ‘বেটার বাংলাদেশ’ গড়তে সব ধর্মের মানুষের সহযোগিতা কামনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে দেশের উন্নয়নের জন্য।
রোববার (৫ এপ্রিল) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের ধর্মীয় উৎসব ইস্টার সানডে উপলক্ষে আয়োজিত এক শুভেচ্ছা ও মতবিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
আরও পড়ুন: মার্চে মূল্যস্ফীতি কমে ৮.৭১%, , তবে বাজারে চাপ বহাল
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, ইস্টার সানডে উপলক্ষে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের একটি প্রতিনিধি দল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের শান্তি, অগ্রগতি ও সাফল্য কামনা করেন।
ফেডারেশন অব প্রোটেস্ট্যান্ট চার্চ ইন বাংলাদেশের সভাপতি ফিলিপ পি. অধিকারীর নেতৃত্বে ১৩ সদস্যের প্রতিনিধি দল এ সাক্ষাতে অংশ নেয়।
আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক বাজারে পালাবদল: চীনকে পেছনে ফেলে বাংলাদেশের উত্থান, তবু রপ্তানিতে চাপ
মতবিনিময়কালে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমরা সব ধর্মের মানুষকে এক চোখে দেখি এবং সবাইকে সমানভাবে ভালোবাসি। আমরা বিশ্বাস করি—ধর্ম যার যার, দেশটা সবার।”
তিনি আরও বলেন, “দেশ গড়ার লক্ষ্যে সকল ধর্মের মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। সবাইকে সঙ্গে নিয়েই আমরা একটি সুখী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই।”
সাম্প্রতিক জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এবারের নির্বাচনে সব ধর্মের মানুষ বিএনপিকে ভোট দিয়ে জয়ী করেছে। “একসময় বলা হতো, অন্যান্য ধর্মের মানুষ বিএনপিকে ভোট দেয় না—এবার তা ভুল প্রমাণিত হয়েছে,” বলেন তিনি।
বিগত সরকারের সময় দেশের অবস্থা তুলে ধরে তিনি বলেন, বিএনপি দায়িত্ব নেওয়ার সময় দেশের অর্থনীতি ও অবকাঠামোসহ বিভিন্ন খাত ছিল ভঙ্গুর অবস্থায়। “মনে হয়েছে যেন একটি যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের দায়িত্ব নিয়েছি,” মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।
ইসরাইল-ইরান যুদ্ধের প্রভাব উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই পরিস্থিতির কারণে দেশে জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে, যা মোকাবিলায় সরকার কাজ করছে।
অনুষ্ঠানে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ বাইবেল সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক রেভারেন্ড অসীম বাড়ৈ এবং ফেডারেশন অব প্রোটেস্ট্যান্ট চার্চ ইন বাংলাদেশের অবসরপ্রাপ্ত উইং কমান্ডার ক্রিস্টোফার এম. অধিকারী।
তারা সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের প্রশংসা করেন। এসব উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে—ফ্যামিলি কার্ড চালু, কৃষকদের ঋণ মওকুফ, ধর্মীয় নেতাদের জন্য বিশেষ ভাতা প্রদানসহ নানা কর্মসূচি।
এ সময় খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত আসনে নারী প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্তি এবং ইস্টার সানডেকে সরকারি ছুটি ঘোষণার দাবি জানানো হয়। তারা সরকারের সঙ্গে সহযোগিতামূলকভাবে কাজ করার অঙ্গীকারও ব্যক্ত করেন।
প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে নেতৃবৃন্দ বলেন, দেশের প্রায় ৭ হাজার চার্চে তার জন্য প্রার্থনা করা হয়েছিল এবং বর্তমানে প্রতিদিন সরকারের জন্য প্রার্থনা করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের দাবিগুলো বিবেচনা করার আশ্বাস দেন। পরে ইস্টার সানডে উপলক্ষে প্রতিনিধিদল প্রধানমন্ত্রীর হাতে একটি ক্রেস্ট তুলে দেয়।





