স্বল্প সময়ে ১৩৩টি অধ্যাদেশ নিষ্পত্তিকরণ সংসদীয় গণতন্ত্রের এক অনন্য নজির: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা ও দেশের আইনি কাঠামোর ধারাবাহিকতা রক্ষায় অত্যন্ত স্বল্প সময়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে ১৩৩টি অধ্যাদেশ নিষ্পত্তির মাধ্যমে সরকার সংসদীয় গণতন্ত্রের এক অনন্য নজির স্থাপন করেছে।
রোববার বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে “জাতীয় সংসদে উত্থাপিত ১৩৩টি অধ্যাদেশ” বিষয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।
আরও পড়ুন: ১ আগস্ট থেকে গণপরিবহনে জিপিএস বাধ্যতামূলক, না থাকলে মিলবে না নিবন্ধন ও ফিটনেস সনদ
প্রেস ব্রিফিংয়ে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মোঃ আসাদুজ্জামান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি।
মন্ত্রী জানান, সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংসদ অধিবেশন শুরুর ৩০ দিনের মধ্যে পূর্ববর্তী সরকারের আমলের অধ্যাদেশগুলো নিষ্পত্তির আইনি বাধ্যবাধকতা ছিল। পবিত্র ঈদুল ফিতর ও শবে বরাত উপলক্ষে দীর্ঘ ছুটি থাকলেও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরলস প্রচেষ্টায় এ বিশাল কর্মযজ্ঞ সম্পন্ন হয়েছে।
আরও পড়ুন: বেনজীর আহমেদকে দেশে ফেরাতে প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে, ইউএইর সঙ্গে প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া এগোচ্ছে
তিনি বলেন, স্থায়ী কমিটি গঠিত না থাকায় একটি বিশেষ সংসদীয় কমিটির মাধ্যমে ১৩৩টি অধ্যাদেশ পর্যালোচনা করা হয়। এর মধ্যে ৯৮টি অধ্যাদেশ অবিকল অবস্থায় পাসের সুপারিশ করা হয়েছে, ১৬টি অধিকতর যাচাই-বাছাইয়ের জন্য পরবর্তী অধিবেশনে বিল আকারে উত্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং বাকি অধ্যাদেশগুলো সংশোধন বা রহিতের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
বিরোধী দলের উত্থাপিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, একাধিক সংশোধনী থাকা সত্ত্বেও মূলত একই অধ্যাদেশকে একত্র করে বিল আকারে সংসদে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা নিয়ে কিছু বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।
‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ বিল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকার এ বিষয়ে সংবেদনশীল এবং আগামী অধিবেশনে আরও আলোচনা ও প্রয়োজনীয় সংশোধনের সুযোগ রয়েছে।
গুম কমিশন, মানবাধিকার কমিশন ও আইসিটি আইন প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তাড়াহুড়ো করে ত্রুটিপূর্ণ আইন পাস না করে সকল অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা করে আইনগুলোকে আরও কার্যকর ও সময়োপযোগী করা হবে, যাতে ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত হয়।
তিনি আরও বলেন, সংসদীয় রীতিনীতি অনুযায়ী বিরোধী দল ওয়াকআউট করতে পারে, তবে সংসদের বাইরে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার হলে তা জনগণের সামনে স্পষ্ট করা সরকারের দায়িত্ব।





