ভ্যাট রিটার্ন দাখিল প্রক্রিয়ায় অনিয়মে জড়িতদের ছাড় নয়

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৯:০৮ অপরাহ্ন, ২১ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ২:৩২ পূর্বাহ্ন, ১৭ জুন ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

অনলাইনে ভ্যাট রিটার্ন দাখিল প্রক্রিয়া সহজ করতে ব্যাপক উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন সরকার। তবে অনলাইনে ভ্যাট রিটার্ন দাখিল প্রক্রিয়া নিয়ে নানা জটিলতায় পড়ছেন ব্যবসায়ীরা। এ নিয়ে ব্যবসায়ীদের অভিযোগ পাওয়ার পর জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান জানান, এ নিয়ে অনিয়মে কেউ জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এনবিআরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত প্রাক-বাজেট আলোচনায় অনলাইনে ভ্যাট রিটার্ন জমা নিয়ে নানা সমস্যার কথা উঠে আসে। এ সময় এনবিআরের শীর্ষ কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের শীর্ষ নেতারাও আলোচনায় অংশ নেন।

আরও পড়ুন: স্কুল পর্যায় থেকে সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের চর্চা বাড়ানোর আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

বাংলাদেশ ইলেকট্রিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের (বিইএ) ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ জানান, অনলাইনে ভ্যাট রিটার্ন দিতে গিয়ে তারা নানা সমস্যায় পড়ছেন। আগে ম্যানুয়ালি জমা দেওয়া রিটার্ন এখন আর গ্রহণ করা হচ্ছে না, কিন্তু পুরোনো তথ্য অনলাইনে আপডেট না থাকায় নতুন করে রিটার্ন দাখিল করতে গেলে জটিলতা তৈরি হচ্ছে।

ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ জানান, প্র্যাকটিক্যালি অনেকদিন ধরে আমরা ম্যানুয়ালি রিটার্ন দিচ্ছি। এখন সেটি রিসিভ করছে না। কিন্তু অনলাইনে দিতে গেলে বলছে—আপনার ডেটা আপডেট নেই, আগে আপডেট করতে হবে। কিন্তু এই আপডেট কীভাবে করব, সেটাই আমরা বুঝতে পারছি না।

আরও পড়ুন: মোমেন কমিশনে দুদকের তিন মহাপরিচালক ঘিরে বিতর্ক

জবাবে এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান বলেন, এই অনলাইন প্রক্রিয়া চালুর উদ্দেশ্যই হলো ব্যবসায়ীদের কাজ সহজ, স্বচ্ছ ও দ্রুত করা। তিনি জানান, যেসব পুরোনো রিটার্ন অনলাইনে আপডেট হয়নি, সেগুলো ব্যবসায়ীদের নিজ উদ্যোগে এন্ট্রি দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল এবং এ বিষয়ে গণমাধ্যমেও জানানো হয়েছে।

তিনি বলেন, আপনাদের লাইফ সহজ, স্বচ্ছ ও সহজতর করার জন্যই আমরা অনলাইনে এসেছি। পুরোনো পেপার রিটার্নগুলো নিজেরাই এন্ট্রি দিয়ে আপডেট করার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। এটি মার্চের মধ্যেই শেষ হওয়ার কথা ছিল। অনেকেই এরই মধ্যে কাজটি সম্পন্ন করেছেন।

ব্যবসায়ী নেতারা এ বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে বলেন, বাস্তবে আপডেট করতে গেলেও নানা জটিলতা তৈরি হচ্ছে। আমরা যখন আপডেট করতে যাই, তখন বলা হয়—এটা অমুক যাচাই করবে, তমুক যাচাই করবে। অর্থাৎ শুধু আপডেট করলেই হচ্ছে না, আরও অনেক ধাপ রয়েছে।

এ বিষয়ে চেয়ারম্যান বলেন, কোনো চেক নেই। যদি কোথাও পেন্ডিং থাকে, এবং কোথায় কতগুলো পেন্ডিং আছে তা যাচাই করে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হবে, যাতে দ্রুত সব অনুমোদন দেওয়া হয়। এ ব্যাপারে কেউ অনিয়ম করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ সময় এনবিআর চেয়ারম্যান স্বীকার করেন, একদম ঠিক বলেছেন। এটা আমাদের দায়িত্ব ছিল, আমরা সেখানে ব্যর্থ হয়েছি। ভ্যাট অফিসে কর্মকর্তাদের ঘন ঘন বদলির কারণে সমস্যার সমাধান হচ্ছে না।

এনবিআর চেয়ারম্যান ব্যবসায়ীদের বলেন, আপনারা আপনাদের সমস্যার কথা বলুন, আমাদের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ গুরুত্বের সাথে সমাধানের চেষ্টা করবো।

ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ জানান, বাস্তব পরিস্থিতি ভিন্ন। “আমরা ম্যানুয়ালি রিটার্ন দিয়েছি, কিন্তু অনলাইনে দিতে গিয়ে সমস্যায় পড়ছি। আপনাদের কাছে অনেক সময় পৌঁছানোই যায় না—অফিসের ভেতরে নানা স্তরের বাধা থাকে। আপডেট না হওয়ায় আমাদের ম্যানুয়ালি রিটার্ন জমা দিতে হয়েছে।