১ আগস্ট থেকে গণপরিবহনে জিপিএস বাধ্যতামূলক, না থাকলে মিলবে না নিবন্ধন ও ফিটনেস সনদ

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৮:৪৮ অপরাহ্ন, ৩১ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ৮:৪৮ অপরাহ্ন, ৩১ জুলাই ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

দেশের সব গণপরিবহনে আগামী শনিবার (১ আগস্ট) থেকে গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম (জিপিএস) ডিভাইস সংযুক্ত করা এবং তা সচল রাখা বাধ্যতামূলক করেছে সরকার। নতুন এ নির্দেশনা অনুযায়ী, জিপিএস সংযুক্ত না থাকলে কোনো গণপরিবহনের নতুন নিবন্ধন দেওয়া হবে না এবং বিদ্যমান যানবাহনের ফিটনেস সনদও নবায়ন করা হবে না।

গত ২৮ জুলাই বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) এ-সংক্রান্ত একটি গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে।

আরও পড়ুন: আসিফকে ‘টার্গেট’ করে অনুসন্ধান শুরু হয়নি: দুদক সচিব

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নিরাপদ, আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ গত ১১ জুন এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে। সেই সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতায় ১ আগস্ট থেকে দেশের সব গণপরিবহনে জিপিএস ডিভাইস স্থাপন এবং তা সচল রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, গণপরিবহনের নিবন্ধন কিংবা ফিটনেস সনদ প্রদান বা নবায়নের সময় জিপিএস সংযোজনের প্রমাণপত্র সংশ্লিষ্ট বিআরটিএ কার্যালয়ে জমা দিতে হবে। পাশাপাশি মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে ডিভাইসটি সক্রিয় রয়েছে—এ বিষয়টিও প্রদর্শন করতে হবে।

আরও পড়ুন: চীনে আন্তর্জাতিক ইউরোলজি সম্মেলনে বাংলাদেশের ইউরোলজিস্টদের অংশগ্রহণ ও প্রত্যাবর্তন

বিআরটিএ জানিয়েছে, জিপিএস ডিভাইসের কারিগরি স্পেসিফিকেশন সংস্থাটির স্থানীয় কার্যালয় এবং ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে। নির্ধারিত মান অনুযায়ী ডিভাইস স্থাপনের পরই নিবন্ধন ও ফিটনেস-সংক্রান্ত কার্যক্রম সম্পন্ন হবে।

সংস্থাটি আরও জানায়, সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর ধারা ২৫ এবং সড়ক পরিবহন বিধিমালা, ২০২২-এর বিধি ৫৫ অনুযায়ী জিপিএস সংযুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পরই যানবাহনের নিবন্ধন ও ফিটনেস সনদ প্রদান বা নবায়ন করা হবে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারের এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য গণপরিবহনের চলাচল পর্যবেক্ষণ, রুট ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা আনা এবং সড়ক নিরাপত্তা জোরদার করা। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যাত্রী তোলাকে কেন্দ্র করে বাসের রেষারেষি, যেখানে-সেখানে থামানো এবং সড়কে বিশৃঙ্খল চলাচলের কারণে যানজট ও জনভোগান্তি সৃষ্টি হয়। জিপিএস প্রযুক্তির মাধ্যমে এসব যানবাহনের অবস্থান ও চলাচল পর্যবেক্ষণ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা পাওয়া যেতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তবে পরিবহন মালিকদের একটি অংশের মতে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দেশের সব গণপরিবহনে জিপিএস ব্যবস্থা পুরোপুরি কার্যকর করা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কিছু চ্যালেঞ্জ থাকতে পারে।

এদিকে পরিবহন বিশেষজ্ঞরা সিদ্ধান্তটিকে ইতিবাচক হিসেবে মূল্যায়ন করলেও তারা বলছেন, শুধু জিপিএস সংযোজন করলেই সড়ক ব্যবস্থাপনায় কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসবে না। এর পাশাপাশি কার্যকর তদারকি, জবাবদিহি, পরিবহন খাতে প্রয়োজনীয় সংস্কার এবং আইন প্রয়োগে কঠোরতা নিশ্চিত করতে হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, জিপিএস চালুর ফলে যানবাহনের অবস্থান, গতি ও নির্ধারিত রুট পর্যবেক্ষণ সহজ হবে। তবে ফিটনেসবিহীন ও জরাজীর্ণ যানবাহন অপসারণ, দক্ষ চালক নিশ্চিত করা এবং নিয়মিত মনিটরিংয়ের মতো পদক্ষেপও সমান গুরুত্বের সঙ্গে বাস্তবায়ন করতে হবে, যাতে সড়ক নিরাপত্তায় কার্যকর পরিবর্তন আনা সম্ভব হয়।