দাদা-দাদির কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত শিশু রামিসা
রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায় ধর্ষণের পর নৃশংস হত্যার শিকার আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখানে দাদা-দাদির কবরের পাশে দাফন করা হয়েছে।
বুধবার (২০ মে) রাত সাড়ে ৯টার দিকে জানাজা শেষে উপজেলার ইছাপুরা ইউনিয়নের মধ্য শিয়ালদী গ্রামের মোল্লাবাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে তাকে সমাহিত করা হয়।
আরও পড়ুন: ট্রেনে ফিরতি যাত্রা : আজ বিক্রি হবে ৩১ মে’র টিকিট
এর আগে রাত ৮টার দিকে অ্যাম্বুলেন্সে করে রামিসার মরদেহ ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হয়। মরদেহ পৌঁছালে স্বজন ও এলাকাবাসীর কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। হৃদয়বিদারক এ ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে আসে গ্রামজুড়ে।
নিহত রামিসা আক্তার মধ্য শিয়ালদী গ্রামের মরহুম হেলাল উদ্দিন মোল্লার ছেলে হান্নান মোল্লার মেয়ে। সে স্থানীয় একটি স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
আরও পড়ুন: ছুটি শুরুর আগেই থমকে যাচ্ছে হাইওয়ে: ঘরমুখো মানুষের সামনে ভয়াবহ যানজটের আশঙ্কা
জানাজায় আত্মীয়-স্বজন, স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। এ সময় কবরস্থানের পাশে শিশুটির বাবা ও পরিবারের সদস্যরা কান্নায় ভেঙে পড়েন।
এদিকে এ ঘটনার প্রতিবাদ ও বিচার দাবিতে মুন্সিগঞ্জ শহরে মশাল মিছিল ও বিক্ষোভ করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
অন্যদিকে, রামিসা হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার সোহেল রানা বুধবার আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। একই ঘটনায় গ্রেপ্তার তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগ।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, সোমবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রামিসা বাসা থেকে বের হওয়ার পর অভিযুক্ত স্বপ্না আক্তার তাকে কৌশলে নিজেদের ফ্ল্যাটে নিয়ে যান। পরে শিশুটিকে খুঁজতে গিয়ে পরিবারের সদস্যরা অভিযুক্তদের ফ্ল্যাটের সামনে তার জুতা দেখতে পান। দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে তারা শিশুটির খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করেন।
ঘটনার পর অভিযুক্ত সোহেল রানা পালিয়ে গেলেও মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এ ঘটনায় রামিসার বাবা পল্লবী থানায় ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় সোহেল রানা, স্বপ্না আক্তার ও অজ্ঞাতপরিচয় আরও একজনকে আসামি করা হয়েছে।
পরিবার ও এলাকাবাসী এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার এবং জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।





