শ্রীপুরে মাদ্রাসার ছাত্র নিখোঁজ
জিডির এক মাস পরও ঘটনাস্থলে যায়নি পুলিশ, পরিবারের উদ্বেগ-আতঙ্ক
গাজীপুরের শ্রীপুরে মাদ্রাসায় যাওয়ার পথে নিখোঁজের এক মাস পেরিয়ে গেলেও সন্ধান মেলেনি ১৩ বছর বয়সী মাদ্রাসার ছাত্র তাসিম হাসানের। নিখোঁজের ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হলেও এক মাসেও পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়নি বলে অভিযোগ করেছে তার পরিবার। তবে পুলিশ বলছে, নিখোঁজ শিক্ষার্থীকে উদ্ধারে তারা সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নিখোঁজ তাসিম হাসানের বাবা বিল্লাল হোসেন এসব তথ্য জানান। নিখোঁজ তাসিম হাসান শ্রীপুর উপজেলার ডোয়াইবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা বিল্লাল হোসেনের ছেলে। সে বাড়ি থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে বিন্দুবাড়ি এলাকার দারুল উলুম মুক্তিনগর মাদ্রাসার হেফজ বিভাগের শিক্ষার্থী ছিল।
আরও পড়ুন: এনসিপির প্রার্থী উত্তরে আসিফ মাহমুদ ও দক্ষিণে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী
তাসিমের বাবা বিল্লাল হোসেন জানান, গত ১৩ আগস্ট বৃহস্পতিবার তার ছেলে মাদ্রাসা থেকে বাড়িতে আসে। ওই সময় বাড়িতে নানা-নানী থাকায় তারা তাকে সেদিন মাদ্রাসায় যেতে নিষেধ করেন। পরে ১৫ আগস্ট শনিবার সকালে ফজরের নামাজ শেষে তাসিমকে মাদ্রাসার কাছাকাছি পৌঁছে দিয়ে তিনি বাড়িতে ফিরে আসেন।
বিল্লাল হোসেন বলেন, সকাল ৯টার দিকে ছেলের জন্য খাবার নিয়ে মাদ্রাসায় গিয়ে তাকে দেখতে না পেয়ে শিক্ষকদের কাছে জানতে চান। তখন শিক্ষকরা জানান, তাসিম সেদিন সকালে মাদ্রাসায় আসেনি। এরপর বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও তার সন্ধান না পেয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে শ্রীপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়।
আরও পড়ুন: আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর
মাদ্রাসার মোহতামিম মুফতি মোহাম্মদ রহমতউল্লাহ ইব্রাহিম বলেন, তাসিম প্রায় চার বছর ধরে ওই মাদ্রাসায় পড়াশোনা করছে। তার পড়াশোনাও ভালো। নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে তাকে খুঁজে পেতে মাদ্রাসার পক্ষ থেকেও সর্বাত্মক চেষ্টা করা হয়েছে এবং পরিবারকে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করা হয়েছে।
তিনি বলেন, তাসিম কোথায় আছে, কী অবস্থায় আছে এখন সেটিই আমাদের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ। সে নিরাপদে আছে কি না, তা নিয়েও আমরা শঙ্কিত। তাসিম নিখোঁজের ঘটনায় করা সাধারণ ডায়েরির তদন্তের দায়িত্ব পেয়েছেন শ্রীপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রাখাল চন্দ্র দেবনাথ।
এসআই রাখাল চন্দ্র দেবনাথ বলেন, জিডির পর থেকেই নিখোঁজ মাদ্রাসাছাত্রের সন্ধানে সর্বাত্মক চেষ্টা চালানো হচ্ছে। বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। তার কাছে মোবাইল ফোন থাকলে অনুসন্ধান করা আমাদের জন্য আরও সহজ হতো।
তিনি আরও বলেন, এর আগেও তাসিম বাড়ি থেকে চলে গিয়ে সিলেটে গিয়েছিল এবং প্রায় এক মাস পর ফিরে এসেছিল। তাই এবারও বিভিন্ন সম্ভাবনা বিবেচনায় নিয়ে তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করা হচ্ছে। ঘটনাস্থলে গিয়ে তাসিমকে পাওয়ার সম্ভাবনা না থাকায় সেখানে না গিয়ে তাকে খুঁজে বের করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
এদিকে, এক মাস ধরে ছেলের সন্ধান না পাওয়ায় উদ্বেগ-আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে তাসিমের পরিবার। পরিবারের দাবি, দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে তাসিমকে খুঁজে বের করে নিরাপদে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হোক।





