সরকারি চাকরিতে টানা ৭ দিনের ছুটি, পাবেন যারা?

Shahrier Islam Pallab
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ২:৫২ অপরাহ্ন, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ২:৫৪ অপরাহ্ন, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে অক্টোবর মাসে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সামনে টানা সাত দিন ছুটি কাটানোর এক বিশেষ সুযোগ তৈরি হয়েছে। সরকারি নির্ধারিত সাধারণ ছুটি, নির্বাহী আদেশে ছুটি, ঐচ্ছিক ছুটি এবং সাপ্তাহিক ছুটির সমন্বয়ে এই দীর্ঘ ছুটির ফাঁদ তৈরি হয়েছে।

তবে এই দীর্ঘ ছুটির সুবিধা ঢালাওভাবে সবাই পাবেন না; মূলত নির্দিষ্ট ধর্মাবলম্বী সরকারি চাকরিজীবীরাই এই সুযোগটি কাজে লাগাতে পারবেন। অন্যদিকে জরুরি সেবায় নিয়োজিত কর্মীরা বরাবরের মতোই এই ছুটির আওতামুক্ত থাকবেন।

আরও পড়ুন: জাতিসংঘের গুরুত্বপূর্ণ রেজুলেশনে আইনি সুরক্ষা দেওয়াই লিগ্যাল অফিসারের দায়িত্ব

সরকারি ছুটির পঞ্জিকা বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে আগামী ২০ অক্টোবর (মঙ্গলবার) মহানবমী উপলক্ষে নির্বাহী আদেশে সরকারি ছুটি থাকবে। এর পরদিন ২১ অক্টোবর (বুধবার) বিজয়া দশমী উপলক্ষে থাকছে নির্ধারিত সাধারণ ছুটি। ফলে সব ধর্মের সরকারি চাকরিজীবীর জন্যই দুর্গাপূজার মূল ছুটি থাকছে এই দুই দিন।

তবে সনাতন ধর্মাবলম্বী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য এই ছুটির পরিধি আরও দীর্ঘ করার সুযোগ রয়েছে। নিয়মানুযায়ী, তারা ১৮ অক্টোবর (রোববার) মহাসপ্তমী এবং ১৯ অক্টোবর (সোমবার) মহাষ্টমী উপলক্ষে ঐচ্ছিক ছুটি নিতে পারবেন।

আরও পড়ুন: নিউইয়র্ক ক্লাইমেট উইকে বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগের আহ্বান

এর সঙ্গে ২০ ও ২১ অক্টোবরের সরকারি ছুটি যুক্ত হওয়ার পর কেউ যদি ২২ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) সাধারণ বা নৈমিত্তিক ছুটি নেন, তবে ২৩ ও ২৪ অক্টোবরের সাপ্তাহিক ছুটি (শুক্র ও শনিবার) মিলিয়ে টানা সাত দিনের বিশাল ছুটির সুবিধা পাবেন তারা। কেউ বৃহস্পতিবার ছুটি না নিলেও অনায়াসে টানা পাঁচ দিনের ছুটি ভোগ করতে পারবেন।

তবে হিন্দু ধর্মাবলম্বী ছাড়া অন্যান্য ধর্মের সরকারি চাকরিজীবী, সাধারণ শিক্ষার্থী এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা কেবল নির্ধারিত ওই দুই দিনের মূল সরকারি ছুটিই পাবেন। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের নিজস্ব ছুটির নীতিমালা অনুযায়ী ছুটি সমন্বয় করবে।

পূজা উপলক্ষে সরকারি ছুটির দিনগুলোতে দেশের সব তফসিলি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। তবে গ্রাহকদের জরুরি ব্যাংকিং প্রয়োজন মেটাতে নির্দিষ্ট কিছু শাখা, অনলাইন ব্যাংকিং এবং এটিএম সেবা নিরবচ্ছিন্নভাবে চালু রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সর্বজনীন এই উৎসবের ছুটি ঘোষিত হলেও দেশের জরুরি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সেবা খাতের কর্মীদের এই দীর্ঘ ছুটির সুবিধা পাওয়ার সুযোগ নেই। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে থাকা পুলিশ বাহিনী, হাসপাতাল ও জরুরি চিকিৎসাসেবার কর্মকর্তা-কর্মচারী, ফায়ার সার্ভিস, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মী এবং গণমাধ্যমকর্মীদের এই ছুটি চলাকালেও সার্বক্ষণিক কর্মস্থলে উপস্থিত থেকে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করতে হবে।