সৌদি আরবে হামলার প্রভাব: ঢাকায় বাতিল ৮৯ ফ্লাইট, ভোগান্তিতে সাড়ে ১৪ হাজার যাত্রী
সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে হামলা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে ঢাকা থেকে দেশটিতে চলাচলকারী একের পর এক ফ্লাইট বাতিল ও স্থগিত হচ্ছে। এতে বুধবার পর্যন্ত ৮৯টি ফ্লাইট বাতিলের তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। এসব ফ্লাইটের মোট যাত্রী ছিলেন ১৪ হাজার ৬৫৫ জন। ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় তাদের প্রায় সবাই ভোগান্তিতে পড়েছেন।
সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী, রাষ্ট্রায়ত্ত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সসহ সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সগুলো যাত্রীদের বিকল্প বিমানবন্দর দিয়ে গন্তব্যে পৌঁছে দিতে টিকিট পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে। তবে ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার কাছাকাছি থাকা প্রবাসী কর্মীরা সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন।
আরও পড়ুন: বেবিচকের উদ্যোগে দেশজুড়ে শুরু ‘এভিয়েশন সিকিউরিটি উইক–২০২৬’
বুধবার বেবিচকের এক বার্তায় জানানো হয়, বাতিল হওয়া ৮৯টি ফ্লাইটের মধ্যে ৩৯টি সরাসরি এবং ৫০টি ট্রানজিট ফ্লাইট। সরাসরি ফ্লাইটগুলোর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ১৭টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ১০টি, রিয়াদ এয়ারওয়েজের সাতটি এবং সৌদিয়া এয়ারলাইন্সের পাঁচটি ফ্লাইট রয়েছে।
ভারতসহ পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন দেশের বিমানবন্দরে যাত্রাবিরতি দিয়ে সৌদি আরবে যাত্রী পরিবহন করে কয়েকটি এয়ারলাইন্স। এ ধরনের ৫০টি ট্রানজিট ফ্লাইটও বাতিল হয়েছে। এর মধ্যে ইন্ডিগো এয়ারলাইন্সের ২২টি, এমিরেটস এয়ারলাইন্সের ১১টি, কাতার এয়ারওয়েজের ছয়টি, ফ্লাইদুবাইয়ের ছয়টি, সালাম এয়ারের চারটি এবং ইজিপ্ট এয়ারের একটি ফ্লাইট রয়েছে।
আরও পড়ুন: ‘জয় বাংলা’ স্লোগান ঘিরে বিতর্ক, পুরোনো মামলায় আইভীর আইনজীবীসহ গ্রেপ্তার ৩
ঢাকা থেকে সৌদি আরবের চারটি গন্তব্যে সরাসরি ও ট্রানজিট ফ্লাইট চলাচল করে। গন্তব্যগুলো হলো রিয়াদ, দাম্মাম, মদিনা ও জেদ্দা।
এর মধ্যে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচল পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। দাম্মামের কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও ফ্লাইট চলাচল ব্যাহত হয়েছে। সেখানে বেশ কিছু ফ্লাইট বাতিল ও স্থগিত করা হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স রিয়াদ ও দাম্মামগামী সব ফ্লাইট ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিত করেছে।
অন্যদিকে, মদিনার প্রিন্স মোহাম্মদ বিন আব্দুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং সেখান থেকে ফ্লাইট চলাচল করছে। জেদ্দার কিং আব্দুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সপ্তাহের শুরুতে ফ্লাইট চলাচল কিছুটা ব্যাহত হলেও বর্তমানে উড়োজাহাজের উড্ডয়ন ও অবতরণ চালু রয়েছে।
সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী, আসন খালি থাকা সাপেক্ষে এয়ারলাইন্সগুলো রিয়াদ ও দাম্মামগামী যাত্রীদের মদিনা ও জেদ্দা বিমানবন্দর দিয়ে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করছে।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের এক কর্মকর্তা জানান, যেসব যাত্রীর ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার কাছাকাছি, টিকিট পরিবর্তনের ক্ষেত্রে তাদের বিনা মূল্যে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
ওই কর্মকর্তা বলেন, বিমানের কোনো ফ্লাইটের আসন খালি না রাখার চেষ্টা করতে গিয়ে কখনো কখনো অতিরিক্ত বুকিং হয়ে যাচ্ছে। এ কারণে ইমিগ্রেশন পার হওয়ার পরও কিছু যাত্রীকে ফেরত আসতে হয়েছে। তবে পরবর্তী ফ্লাইটে তাদের পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
এয়ারলাইন্স সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিকল্প ফ্লাইটে যাত্রীদের টিকিট পরিবর্তনের পুরো প্রক্রিয়াই আসন খালি থাকার ওপর নির্ভর করছে। কারণ, সংশ্লিষ্ট রুটগুলোতে আগে থেকেই যাত্রীদের বুকিং রয়েছে। ফলে বিকল্প ফ্লাইটে আসন পাওয়া নিয়ে যাত্রীদের অপেক্ষা করতে হচ্ছে।





