যুক্তরাষ্ট্রে দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থী হত্যা: বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

Sadek Ali
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০:৪৬ পূর্বাহ্ন, ২৯ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ৪:৪৬ অপরাহ্ন, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল লিমন ও নাহিদা বৃষ্টির মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডে নতুন তথ্য সামনে আসতে শুরু করেছে। তদন্তকারীরা বলছেন, এটি ছিল পরিকল্পিত ও নৃশংস এক দ্বৈত হত্যা।

গত ১৬ এপ্রিল নিখোঁজ হওয়ার পর শুরু হওয়া রহস্যের জট খুলতে শুরু করে লিমনের মরদেহ উদ্ধারের পর। তার রুমমেট হিশাম আবুঘারবিয়েহকে গ্রেপ্তারের মাধ্যমে ঘটনার গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে।

আরও পড়ুন: দক্ষিণ আফ্রিকায় সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশি প্রবাসীসহ নিহত ৭

তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, নিখোঁজের দিন সকালে লিমনকে তার বাসা এবং বৃষ্টিকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সর্বশেষ দেখা যায়। নিখোঁজের একদিন পরই হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের তদন্ত শুরু করে।

পরবর্তীতে টাম্পার টাম্পার হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড এলাকা থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ময়নাতদন্তে তার শরীরে ধারালো অস্ত্রের একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে, যা হত্যার নৃশংসতা স্পষ্ট করে।

আরও পড়ুন: মালয়েশিয়ায় ১০ হাজার কর্মী বিনা খরচে নিয়োগের ঘোষণা বাংলাদেশের

তদন্তকারীরা লিমনের অ্যাপার্টমেন্টে তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমাণ রক্তের চিহ্ন পান। তাদের ধারণা, একই স্থানে বা একই পদ্ধতিতে নাহিদা বৃষ্টিকেও হত্যা করা হয়েছে। যদিও এখনো তার মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি, তবে পাওয়া আলামত থেকে তাকে মৃত বলে ধারণা করছে পুলিশ।

আদালতের নথিতে প্রসিকিউটররা উল্লেখ করেছেন, এই দ্বৈত হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন রুমমেট হিশাম। তার বিরুদ্ধে প্রাক-বিচার আটকাদেশের আবেদন করা হয়েছে।

নিহত দুই শিক্ষার্থী শুধু সহপাঠীই ছিলেন না, তাদের মধ্যে ব্যক্তিগত সম্পর্কও ছিল। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, তারা বিয়ের পরিকল্পনা করছিলেন এবং শিগগিরই দেশে ফেরার কথা ছিল।

এই ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে গভীর শোক নেমে এসেছে। একইসঙ্গে নিহতদের পরিবার দ্রুত বিচার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছে।