দৌলতদিয়া ঘাটে বাসডুবির ঘটনায় প্রাণহানি বেড়ে ২৬
রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাটে ফেরিতে ওঠার সময় যাত্রীবাহী বাস নদীতে ডুবে যাওয়ার ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৬ জনে দাঁড়িয়েছে। উদ্ধার অভিযান শেষে আপাতত তা স্থগিত রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। নতুন করে নিখোঁজের তথ্য পাওয়া গেলে আবারও উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করা হবে।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকালে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল পদ্মা নদী থেকে আরও তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করলে নিহতের সংখ্যা ২৬ জনে পৌঁছায়। এর আগে বুধবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে দৌলতদিয়া ঘাটের ৩ নম্বর পন্টুনে ‘সৌহার্দ্য পরিবহন’-এর একটি বাস ফেরিতে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যায়।
আরও পড়ুন: গাজীপুর প্রেসক্লাবের নির্বাচন ঘিরে সরকারের বিরুদ্ধে মিথ্যাচারের প্রতিবাদে মানববন্ধন
উদ্ধারকারী দল জানায়, দুর্ঘটনার সময় বাসটিতে আনুমানিক ৪০ থেকে ৫৫ জন যাত্রী ছিলেন। তাদের মধ্যে মাত্র ৫ থেকে ৭ জন সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হন। দীর্ঘ প্রায় ৬ ঘণ্টার উদ্ধার তৎপরতার পর বুধবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে উদ্ধারকারী জাহাজের ক্রেন দিয়ে ডুবে যাওয়া বাসটি নদী থেকে তোলা হয়।
এদিকে উদ্ধার হওয়া ২৬টি মরদেহের মধ্যে ২৪টি ইতোমধ্যে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ১১ জন নারী, ৭ জন পুরুষ এবং ৮ জন শিশু রয়েছেন। তাদের অধিকাংশই রাজবাড়ী ও কুষ্টিয়া জেলার বাসিন্দা। দুর্ঘটনায় বাসটির চালক আরমান খানও নিহত হয়েছেন।
আরও পড়ুন: নিত্যপণ্যের বাজারদর নিয়ে এমপি মান্নানের লিফলেট বিতরণ
ঘটনার পর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের আহাজারিতে ঘাট এলাকা ভারী হয়ে উঠেছে।
দুর্ঘটনার পর নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। এ ঘটনায় কারণ অনুসন্ধানে দুটি পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। একটি কমিটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন রাজবাড়ী জেলার অতিরিক্ত ম্যাজিস্ট্রেট এবং অন্যটি নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব।
কমিটিগুলোকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ফেরিতে ওঠার সময় চালকের নিয়ন্ত্রণ হারানো অথবা পন্টুনের ত্রুটির কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটতে পারে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়।





