নেত্রকোণায় মাদরাসা ছাত্রী ধর্ষণ ও অন্তঃসত্ত্বা: অভিযুক্ত শিক্ষক গ্রেপ্তার
নেত্রকোণার মদনে মাদ্রাসা শিক্ষকের ধর্ষণে ১২ বছর বয়সী এক মাদ্রাসা ছাত্রী সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার মামলায় ওই মাদ্রাসা শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১৪। গ্রেপ্তার মাদ্রাসা শিক্ষক হচ্ছেন,উপজেলার হযরত
ফাতেমাতুজ্জহুরা মহিলা কওমি মাদ্রাসার শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগর।
আরও পড়ুন: চুয়াডাঙ্গায় ৩ কোটি ১৮ লাখ টাকার মাদক ধ্বংস করল বিজিবি
মঙ্গলবার রাত সোয়া ৪ টার দিকে ময়মনসিংহের গৌরীপুর থেকে শিক্ষক সাগরকে ময়মনসিংহ র্যাব-১৪ গ্রেপ্তার করেছে বলে জানিয়েছেন মদন থানার ওসি তরিকুল ইসলাম।
ওসি জানান, এখনও আসামী র্যাবের হেফাজতে রয়েছে। পরে থানায় হস্তান্তর করবে র্যাব৷ এর আগে গত ২৩ এপ্রিল থানায় সাগর ও তার ভাই মামুন মিয়াকে আসামী করে মামলাটি করেন, ওই ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর মা। মামলায় অভিযুক্ত শিক্ষক ও তার ভাইকে আসামী করা হয়েছে। মামলার পর থেকে শিক্ষক সাগর পালিয়ে যান ও মাদ্রাসাটিও বন্ধ থাকে।
আরও পড়ুন: গোপালগঞ্জে গৃহবধূকে ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত গ্রেপ্তার
অভিযুক্ত শিক্ষক এলাকার প্রভাবশালী হওয়ায় ঘটনার পর থেকে ধামাচাপা দেয়ার জোর চেষ্টা চালায়। এতে করে বিষয়টি অনেকটা চাপা পড়ে যায়। কিন্তু গত শুক্রবার মদন উপজেলা সদরের স্বদেশ ডায়াগনস্টিক সেন্টারে মেয়েটির স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্যে তার মা নিয়ে গেলে সেখানে চিকিৎসক সাত মাসের অন্ত:স্বত্তার বিষয়টি ধরা পড়ে। পরে ওই চিকিৎসক তার নিজের ফেসবুক আইডিতে বিষয়টি নিয়ে একটি স্ট্যাটাস দিলে তা সবার নজরে আসে।
এলাকাবাসী, মামলার বিবরণে ও ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা জানান, ২০২৫ সালের বছর নভেম্বর মাসে শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগর ওই মেয়েটিকে ধর্ষণ করেন। এ ঘটনা কাউকে জানালে প্রাণনাশের ভয় দেখান ঐ মাদরাসা শিক্ষক পরবর্তীতে এপ্রিল মাসের ১৮ তারিখে ওই শিক্ষক ছুটি নিয়ে যাওয়ার পর আর মাদ্রাসায় আসেননি । আর ভুক্তভোগী শিশুটি গত পাঁচ মাস ধরে মাদ্রাসায় আসা বন্ধ করে দেয়। শিশুটির মা সিলেটে গৃহপরিচারিকার কাজ করেন। তিনি বাড়িতে এসে মেয়ের শারীরিক পরিবর্তন দেখে সন্দেহ হয় । পরে মেয়েকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানতে পারেন বিষয়টি।
স্থানীয়রা জানান, শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগর মদন উপজেলার পাঁচহার গ্রামে ২০২২ সালে হযরত ফাতেমা তুজ্জহুরা মহিলা কওমি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। একই এলাকার বাসিন্দা স্বামীহারা মহিলার একমাত্র মেয়ে ওই ভুক্তভোগী শিশুটি। জীবিকার তাগিদে শিশুটির মা সিলেটে গৃহ পরিচালিকার কাজ করায় ভুক্তভোগী শিশুটি তার নানীর কাছে থেকে ওই মাদ্রাসায় লেখাপড়া করতো।
শিশুটির মা তার মেয়ের শারীরিক পরিবর্তনে সন্দেহ হলে গাইনি বিশেষজ্ঞের কাছে গেলে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানতে পারেন, প্রায় ৭ মাসের অন্ত:স্বত্তা।
ময়মনসিংহ নগর ও মাতৃসদনের গাইনোকোলজিস্ট ও কনসালটেন্ট ডাক্তার সায়মা আক্তার বলেন, আলট্রাসনোগ্রাফি করে পান মেয়েটি অন্ত:স্বত্তা।





