যমুনা সেতু মহাসড়কে ১৭ কিলোমিটার যানজট, চরম দুর্ভোগে হাজারো যাত্রী
ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে প্রায় ১৭ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার (৫ জুন) দিবাগত রাত থেকে যমুনা সেতুর টোল প্লাজা থেকে টাঙ্গাইলের পৌলি পর্যন্ত এই যানজট ছড়িয়ে পড়ে। এতে নারী, শিশু ও বৃদ্ধসহ হাজারো যাত্রীকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
পুলিশ ও যমুনা সেতু কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শুক্রবার বিকেল থেকেই যমুনা সেতুর পশ্চিমপাড়ে সিরাজগঞ্জ অংশে যানবাহনের চাপ অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায়। এর ফলে পশ্চিমপাড় থেকে ঝাঐল ওভারব্রিজ পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যানজটের সৃষ্টি হয়। যদিও কিছু যানবাহন ধীরগতিতে চলাচল করছিল।
আরও পড়ুন: পুশইন প্রতিরোধে কঠোর অবস্থানে বিজিবি: গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ০৮টি পুশইন অপচেষ্টা প্রতিহত
পরিস্থিতি আরও খারাপ হয় রাত ৯টার দিকে যমুনা সেতুর ৭ নম্বর পিলারের কাছে ঢাকামুখী লেনে দুটি বাসের সংঘর্ষের ঘটনায়। একটি বাসের পেছনে আরেকটি বাস ধাক্কা দিলে একজন নিহত হন। দুর্ঘটনার পর সাময়িকভাবে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
পরে সেতু কর্তৃপক্ষ রেকার দিয়ে দুর্ঘটনাকবলিত বাস সরিয়ে নিলেও যানবাহনের অতিরিক্ত চাপের কারণে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে যানজট সেতুর পূর্বপাড় টাঙ্গাইল অংশেও ছড়িয়ে পড়ে। ফলে যমুনা সেতুর টোল প্লাজা থেকে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কের পৌলি পর্যন্ত প্রায় ১৭ কিলোমিটার এলাকায় যান চলাচল ব্যাহত হয়।
আরও পড়ুন: পটুয়াখালীর বাউফলে হত্যাকাণ্ড: রতনসহ ৬ জন গ্রেফতার, অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন
গাজীপুর থেকে নাটোরগামী একটি বাসের চালক রুপচান শেখ বলেন, “টাঙ্গাইল থেকেই যানজট শুরু হয়েছে। এলেঙ্গা এলাকায় এসে আটকে আছি। প্রচণ্ড গরমে যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়ছে।”
এলেঙ্গা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. শরিফ বলেন, “শনিবার অধিকাংশ গার্মেন্টস কারখানা খোলার কারণে মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বেড়েছে। যানজট নিরসনে হাইওয়ে পুলিশ ও জেলা পুলিশ নিরলসভাবে কাজ করছে।”
যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন জানান, সেতুর ওপর প্রায় ১৫ থেকে ১৬টি যানবাহন বিকল হয়েছে এবং কয়েকটি সড়ক দুর্ঘটনাও ঘটেছে। এছাড়া দীর্ঘ সময় যানবাহন আটকে থাকায় অনেক যাত্রী গাড়ি থেকে নেমে পড়ছেন, যা পরিস্থিতি আরও জটিল করছে।
তিনি বলেন, “সেতুর দুই পাশেই যানজট রয়েছে। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে আশা করছি।”





