আশুলিয়ায় ভাড়া বাসা থেকে তিন মরদেহ উদ্ধার, পরিচয় শনাক্ত
ঢাকার আশুলিয়ার মধ্য জামগড়া এলাকায় একটি ভাড়া বাসার তালাবদ্ধ কক্ষ থেকে এক নারী, এক পুরুষ ও এক নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত নারী-পুরুষকে স্বামী-স্ত্রী হিসেবে শনাক্ত করেছেন তাঁদের স্বজনেরা। তবে তিনজনের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
নিহতরা হলেন আলমগীর হোসেন আলম (৩৮) ও তাঁর স্ত্রী নাজমা (৩৩)। আলমগীরের বাড়ি দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ থানার নিশ্বা পলাশবাড়ি এলাকায়। তিনি ফেরি করে পান-সিগারেট বিক্রি করতেন। নাজমা একই উপজেলার বড় মাগুরা এলাকার মো. আতিয়ার রহমানের মেয়ে। তিনি একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন বলে তাঁর বোন শাপলা জানিয়েছেন।
আরও পড়ুন: সীতাকুণ্ডে শরতের কাশফুলে সেজেছে গ্রাম-বাংলার অপরূপ প্রকৃতি
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাত দেড়টার দিকে মধ্য জামগড়া এলাকায় হাজী হজরত আলীর চারতলা ভবনের দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষ থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দুই মাস আগে আলমগীর ও নাজমা স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে ওই বাসার একটি কক্ষ ভাড়া নেন। কক্ষটির দরজা-জানালা সাধারণত বন্ধ থাকত। শুক্রবার ওই কক্ষ থেকে পচা দুর্গন্ধ বের হলে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে আশুলিয়া থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কক্ষটি তালাবদ্ধ অবস্থায় দেখতে পায়। পরে তালা খুলে ভেতর থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
আরও পড়ুন: কালিয়াকৈরে কাভার্ডভ্যান-অটোরিকশা সংঘর্ষে নিহত ৩
পুলিশ জানায়, আলমগীরের গলায় গামছা পেঁচানো অবস্থায় তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ কারণে প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি হত্যাকাণ্ড হতে পারে বলে ধারণা করছে পুলিশ। তবে এটি হত্যাকাণ্ড কি না এবং তিনজনের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ কী, তা ময়নাতদন্ত ও তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।
ঘটনাস্থলে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ফরেনসিক টিম গিয়ে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছে। এ সময় ঢাকা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও আশুলিয়া থানা-পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন।
নিহত নাজমার বোন শাপলা বলেন,আমার বোন আর ভগ্নিপতিকে মেরে ফেলেছে। আমার বোন সাত মাসের গর্ভবতী ছিল। বৃহস্পতিবার বিকেল পাঁচটার দিকে সে ডিউটি করে বাসায় আসে। এরপর মনে হচ্ছে বৃহস্পতিবার রাতেই ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার দুর্গন্ধ বের হলে সবাই বিষয়টি বুঝতে পারে। পরে তালা ভেঙে দেখা যায়, দুজনকে মেরে ফেলা হয়েছে। পেটের সন্তানও বের হয়ে গেছে।
তিনি আরও বলেন,আমার বোন একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করত। আলম ব্যবসা করত। কী কারণে এ ঘটনা ঘটেছে, আমরা জানি না। আমরা ঘটনার সঠিক তদন্ত ও জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তি চাই।
নিহত আলমগীরের ভায়রা ভাই শাহীন বলেন, প্রায় চার বছর আগে আলমগীর ও নাজমার বিয়ে হয়। আলমগীর ফেরি করে পান-সিগারেট বিক্রি করতেন। কী কারণে এমন ঘটনা ঘটেছে, তা তাঁরা বুঝতে পারছেন না।
বাড়ির মালিক হাজী হজরত আলীর কাছে ভাড়াটিয়াদের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বিস্তারিত বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন। তবে ভাড়াটিয়াদের কোনো ফরম, পরিচয়পত্র বা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংরক্ষণ করা হয়নি বলে তিনি জানান।
আশুলিয়া থানার জামগড়া পুলিশ ক্যাম্পের উপপরিদর্শক (এসআই) তালেব বলেন,ঘটনাটি তদন্তাধীন। মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণসহ ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।
আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম বলেন,ঘটনাটি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। নিহতদের সঙ্গে কারও বিরোধ ছিল কি না, তাঁদের মৃত্যুর আগে কী ঘটেছিল এবং ঘটনার সঙ্গে কেউ জড়িত কি না, এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।





