প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় ঠাকুরগাঁওয়ে আখের মাঠে সবুজের স্বপ্ন

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ৯:০৪ অপরাহ্ন, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ২:৩৪ পূর্বাহ্ন, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় দেশের সবুজায়ন বাড়ানো, পরিবেশ রক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলায় ঠাকুরগাঁওয়ে আখচাষের পাশাপাশি ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শুরু হয়েছে।

‘আখের সঙ্গে সবুজের বন্ধন’—এই প্রত্যয়ে ঠাকুরগাঁও সুগার মিলের গেটসংলগ্ন পাইকপাড়া ও চিলারং এলাকায় আখ রোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনের পাশাপাশি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। কর্মসূচির আওতায় একটি কারখানায় ১ হাজার করে গাছ রোপণ করা হবে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ১৫টি কারখানায় মোট ১৫ হাজার গাছ রোপণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: গাজীপুর প্রেসক্লাবের নির্বাচন ঘিরে সরকারের বিরুদ্ধে মিথ্যাচারের প্রতিবাদে মানববন্ধন

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী এ উদ্যোগ শুধু গাছ লাগানোর কর্মসূচি নয়; বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য, সবুজ ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয়। সেই সঙ্গে বিএনপির ইশতেহারে ঘোষিত ২৫ কোটি চারা রোপণের কর্মসূচির অংশ হিসেবেও চিনি ও খাদ্যশিল্প করপোরেশন (বিএসএফআইসি) এ উদ্যোগ নিয়েছে।

আখের সবুজ পাতার সঙ্গে নতুন গাছের চারা—দুইয়ের সমন্বয়ে ঠাকুরগাঁওয়ের কৃষিজমিতে তৈরি হচ্ছে এক নতুন সম্ভাবনার ছবি। এজন্য কৃষকদেরও নিজ নিজ বাড়ির আঙিনা, জমির আইল ও আশপাশের খালি জায়গায় গাছ লাগানোর আহ্বান জানিয়ে আজ এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন বিএসএফআইসির চেয়ারম্যান মো. শামছুজ্জামান সুরজ।

আরও পড়ুন: নিত্যপণ্যের বাজারদর নিয়ে এমপি মান্নানের লিফলেট বিতরণ

কর্মসূচিতে আখের সঙ্গে সাথী ফসল হিসেবে তুলা চাষে অংশ নেওয়া চিলারং গ্রামের কৃষক মো. ফয়েজ উদ্দিন বলেন, আখের জমিতে সাথী ফসল চাষ যেমন কৃষকের বাড়তি আয়ের সুযোগ তৈরি করে, তেমনি জমির চারপাশে গাছ লাগালে পরিবেশও সুন্দর হয়। নিজের বাড়ির আঙিনায়ও গাছ লাগানোর আহ্বান জানান তিনি।

অন্যদিকে, আরাজী পাইকপাড়া গ্রামের কৃষক মো. আফজাল হোসেন বিমানবন্দরসংলগ্ন এলাকায় আখ রোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেন। তিনি বলেন, কৃষকের মাঠ শুধু ফসল উৎপাদনের জায়গা নয়, এটি দেশের সবুজ ভবিষ্যৎ তৈরিরও একটি অংশ। তাই আখের পাশাপাশি বৃক্ষরোপণেও সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

বিএসএফআইসির চেয়ারম্যান বলেন, ব্যাপক বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে দেশের বৃক্ষাচ্ছাদন বৃদ্ধি, বন ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা এবং কার্বন শোষণ বাড়ানোর পাশাপাশি বায়ুর মান ও পরিবেশের ভারসাম্য উন্নত করা সম্ভব হবে।

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় নেওয়া এ উদ্যোগের আওতায় শহর, গ্রাম, সড়ক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, উপকূলীয় এলাকা, চর ও সরকারি বনভূমিসহ বিভিন্ন স্থানে সবুজায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি বন্যা, খরা ও অন্যান্য পরিবেশগত ঝুঁকি মোকাবিলায় বৃক্ষ ও জলাধারভিত্তিক পরিবেশ গড়ে তোলা এবং জনগণকে সম্পৃক্ত করে একটি জাতীয় সবুজ আন্দোলন গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, একটি চারা আজ ছোট হলেও সময়ের সঙ্গে সেটিই হয়ে উঠবে ছায়া, অক্সিজেন ও জীববৈচিত্র্যের আশ্রয়। তাই প্রতিটি বাড়ির আঙিনা থেকে শুরু করে কৃষকের জমির আইল—সবখানেই একটি করে গাছ লাগানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।

তিনি প্রত্যাশা করেন, প্রধানমন্ত্রীর এ নির্দেশনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে কৃষকের আখের মাঠের এই সবুজায়ন একদিন ছড়িয়ে পড়বে পুরো ঠাকুরগাঁওয়ে। আর সেই সবুজের হাত ধরেই গড়ে উঠবে আগামী প্রজন্মের জন্য আরও সুন্দর, নির্মল ও নিরাপদ বাংলাদেশ।