স্বামীর আলিঙ্গনে স্ত্রীর ৫টি পাঁজর ভাঙল, ভিডিও ভাইরাল
ভালোবাসার প্রকাশ হিসেবে স্বামীর একটি সাধারণ আলিঙ্গন। কিন্তু সেই আলিঙ্গনেই ভেঙে গেল স্ত্রীর পাঁচটি পাঁজর, আরেকটিতে ধরল চিড়। চীনের এক দম্পতির এ ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। পরে হাসপাতালে পরীক্ষা করে ওই নারীর শরীরে গুরুতর অস্টিওপোরোসিস বা হাড়ক্ষয় রোগের বিষয়টি ধরা পড়ে।
চীনের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ‘জিংসি লাইভ’-এর বরাতে জানা যায়, শীত লাগার কথা বলায় স্ত্রীকে উষ্ণতা দিতে জড়িয়ে ধরেছিলেন ওয়াং পদবির এক ব্যক্তি। কিন্তু আলিঙ্গনের সময়ই হাড় ভাঙার শব্দ শুনতে পান তিনি। ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, তীব্র ব্যথায় কাতর হয়ে ওই নারী মাটিতে বসে পড়েন।
আরও পড়ুন: ফ্রান্সজুড়ে নতুন বিক্ষোভ ঘিরে বাড়ছে উদ্বেগ, ৭০ হাজার পুলিশ মোতায়েন
স্বামীর দাবি, স্ত্রীকে জড়িয়ে ধরার সময় তিনি অতিরিক্ত কোনো শক্তি প্রয়োগ করেননি। স্বাভাবিকভাবেই আলিঙ্গন করেছিলেন। এমন ঘটনায় স্ত্রী গুরুতর আহত হতে পারেন, তা তাঁদের ধারণায় ছিল না।
ব্যথা নিয়েই সারা রাত কাটানোর পর পরদিন সকালে হাসপাতালে যান ওই দম্পতি। সেখানে বুকের সিটি স্ক্যান করার পর চিকিৎসকেরা দেখতে পান, নারীর পাঁচটি পাঁজর ভেঙে গেছে এবং ষষ্ঠ পাঁজরে চিড় ধরেছে।
আরও পড়ুন: বিশ্ববাজারে তেলের দাম ১১৬ ডলার ছাড়াল
ওয়াংয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, চিকিৎসকেরা তাঁর স্ত্রীর হাড়ের অতিরিক্ত ভঙ্গুরতার জন্য অস্টিওপোরোসিসকে দায়ী করেছেন। তাঁর স্ত্রীর ওজন ছিল প্রায় ৪৫ থেকে ৫০ কেজি। তিনি অতিরিক্ত ডায়েট করতেন এবং প্রায়ই রাতের খাবার বাদ দিতেন। পাশাপাশি সূর্যের আলোতেও খুব কম সময় কাটাতেন।
বাড়ি থেকে মাত্র দুই থেকে তিন মিনিটের দূরত্বে থাকা পারিবারিক দোকানেই তাঁর বেশির ভাগ সময় কাটত বলে জানান স্বামী।
উহান এশিয়া হার্ট জেনারেল হাসপাতালের অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞ ইয়ান ইয়ানসিয়াং বলেন, সাধারণত তরুণ বয়সে শুধু আলিঙ্গনের চাপে পাঁজর ভেঙে যাওয়ার ঘটনা অত্যন্ত বিরল। অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপনের সঙ্গে হাড়ের অস্বাভাবিক দুর্বলতার সম্পর্ক থাকতে পারে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
চিকিৎসকেরা জানান, পাঁজর ভাঙার কারণে ফুসফুস বা ফুসফুসের পর্দায় জটিলতা দেখা না দিলে সাধারণত অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হয় না। এ ক্ষেত্রে ওই নারীকে অস্ত্রোপচার না করে ওষুধ, বিশেষ প্যাচ ও পর্যাপ্ত বিশ্রামের মাধ্যমে সুস্থ হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
অস্টিওপোরোসিস এমন একটি রোগ, যাতে হাড়ের ঘনত্ব ও শক্তি কমে যায়। ফলে সামান্য আঘাত বা চাপেও হাড় ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে। পর্যাপ্ত পুষ্টি, ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি গ্রহণ এবং নিয়মিত শারীরিক সক্রিয়তা হাড়ের স্বাস্থ্য বজায় রাখতে সহায়ক। তবে হাড়ক্ষয়ের আশঙ্কা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।





