রহস্য উদঘাটন
তাজমিনকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করেছেন সুমন: পুলিশ
কুমিল্লা নগরীর রেসকোর্স এলাকার সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিনকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগে অটোরিকশাচালক সুমনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। চট্টগ্রামে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। এ ঘটনায় নিহত শিক্ষার্থীর ব্যবহৃত আইফোনও উদ্ধার করা হয়েছে।
শনিবার (১০ অক্টোবর) কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) পঙ্কজ বড়ুয়া।
আরও পড়ুন: মোহনগঞ্জে পুকুরে ডুবে একই বাড়ির দুই শিশুর মৃত্যু
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গত বুধবার রাতে তাজমিনকে অটোরিকশায় তুলে নির্জন স্থানে নিয়ে যান চালক সুমন। সেখানে ধর্ষণের পর তাকে গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
বাবাকে পাঠিয়েছিলেন লাইভ লোকেশন
আরও পড়ুন: কুমিল্লা মেডিকেল কলেজে শয্যা হবে এক হাজার: কৃষিমন্ত্রী
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দূরপাল্লার বাস থেকে নেমে রেসকোর্স এলাকার বাসায় ফেরার জন্য সুমনের অটোরিকশায় ওঠে তাজমিন। কিন্তু চালক নির্ধারিত গন্তব্যে না গিয়ে অন্য পথে গাড়ি চালাতে শুরু করেন। পরিস্থিতি বুঝতে পেরে তাজমিন হোয়াটসঅ্যাপে বাবার কাছে নিজের লাইভ লোকেশন ও বার্তা পাঠিয়ে সাহায্য চান। তবে গভীর রাতে পরিবারের সদস্যরা ঘুমিয়ে থাকায় বার্তাটি তাৎক্ষণিকভাবে তাঁদের নজরে আসেনি।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, অটোরিকশাটি বিজরা, রসুলপুর ও শিকারীপাড়া হয়ে লালমাই উপজেলার জগতপুর গ্রামের একটি নির্জন ধানক্ষেতে পৌঁছায়। সেখানে আত্মরক্ষার চেষ্টা করে কয়েকটি ধানক্ষেতের মধ্য দিয়ে পালানোর চেষ্টা করে তাজমিন। কিন্তু একপর্যায়ে চালকের হাতে তিনি নিহত হন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ঘটনার পর অটোরিকশাটি ধানক্ষেতে ফেলে রেখে পালিয়ে যান অভিযুক্ত চালক। বৃহস্পতিবার সকালে সেখান থেকে তাজমিনের মরদেহ ও অটোরিকশাটি উদ্ধার করে লালমাই থানা-পুলিশ।
মোবাইল ফোনের তথ্য ধরে তদন্ত
তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, নিহতের পরিচয় শনাক্ত করার পাশাপাশি তাঁর মোবাইল ফোনের কলতালিকা ও অন্যান্য তথ্য বিশ্লেষণ করে ঘটনার সূত্র খুঁজে পাওয়া যায়। পরে অভিযুক্ত চালকের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাজমিনের ব্যবহৃত আইফোন উদ্ধার করা হয়। এরপর জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) অভিযান চালিয়ে সুমনকে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করে।
নিহত জান্নাতুল তাজমিন যশোর সদর উপজেলার ছাতিয়াতলা গ্রামের আব্দুল আলিমের মেয়ে। তাঁর বাবা ওষুধ কোম্পানি রেনেটার কুমিল্লা অঞ্চলে কর্মরত থাকায় পরিবারটি নগরীর রেসকোর্স এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকত। তাজমিন ফরিদা বিদ্যায়তনের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তবে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে সে স্কুলে অনুপস্থিত ছিল বলে জানিয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ।
যেভাবে সামনে আসে নিখোঁজের ঘটনা
পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, গত ৪ অক্টোবর সকালে বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল তাজমিন। পরে বুধবার রাত ১২টা ১৯ মিনিটে নগরীর হোটেল নূরজাহানের সামনে তাকে সর্বশেষ দেখা যায়। একই রাত ২টা ৫৮ মিনিটে বাবার হোয়াটসঅ্যাপে তার লাইভ লোকেশন পৌঁছায়।
পরদিন সকালে অজ্ঞাতপরিচয় হিসেবে মরদেহ উদ্ধারের খবর পেয়ে স্বজনেরা গিয়ে তাজমিনকে শনাক্ত করেন। এ ঘটনায় তাঁর বাবা বাদী হয়ে লালমাই থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন। পরে তদন্ত ও অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত অটোরিকশাচালককে গ্রেপ্তার করা হয়।





