আল্লাহ ও মহানবী (সা.)-কে নিয়ে কটূক্তি, গণপিটুনিতে যুবকের মৃত্যু

Any Akter
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ২:৪৫ অপরাহ্ন, ১৪ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ৩:৫৮ অপরাহ্ন, ১৪ অক্টোবর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

সাতক্ষীরার দেবহাটায় ফেসবুকে ধর্মীয় বিষয় নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে গণপিটুনির শিকার ওয়াহিদুজ্জামান শামীম (নাম) নামের এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সন্ধ্যায় উপজেলার পারুলিয়া ও কুলিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। নিহত ওয়াহিদুজ্জামান শামীম দেবহাটা উপজেলার বড়শান্তা গ্রামের মৃত শামসুর রহমানের ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফেসবুকে আল্লাহ, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.), পবিত্র কোরআন ও সাহাবিদের নিয়ে কটূক্তিমূলক মন্তব্য করার অভিযোগে শামীমের বিরুদ্ধে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়। তার কিছু কথোপকথন ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় উত্তেজনা দেখা দেয়।

আরও পড়ুন: নাজিরপুরে কৃষি কর্মকর্তাকে পেটালেন অবৈধ সার ব্যবসায়ী

স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, সোমবার (১২ অক্টোবর) রাতে কয়েকজন ব্যক্তি শামীমের বাড়িতে যান। এ সময় তিনি বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন বলে জানা গেছে। পরে তার ভাইয়েরা তাকে উদ্ধার করে কুলিয়ার সবুর ডাক্তারের চেম্বারে ভর্তি করেন।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পারুলিয়া ও কুলিয়া এলাকায় এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে উত্তেজিত লোকজন কুলিয়ার ওই চেম্বারে গিয়ে শামীমকে মারধর করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানেও দ্বিতীয় দফায় তার ওপর হামলা হয় বলে জানা গেছে। মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১১টার দিকে শামীমের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে পুলিশ পাহারায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

আরও পড়ুন: টঙ্গীতে ড্রাগ ইন্টারন্যাশনালের ওষুধ কারখানায় ভয়াবহ আগুন

দেবহাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এইচ এম শাহীন বলেন, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার অভিযোগে স্থানীয় লোকজন শামীমকে গণপিটুনি দেন। খবর পেয়ে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সাতক্ষীরায় পাঠানো হয়। ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে; তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।

শামীমের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে দেবহাটা থানার ডিউটি অফিসার এএসআই ইব্রাহিম জানান, মরদেহ সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

ধর্মীয় অবমাননার অভিযোগের সত্যতা এখনো তদন্তসাপেক্ষ। অভিযোগের বিচার আইনগত প্রক্রিয়ায় হওয়া উচিত। কোনো অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করা আইনবিরোধী ও গুরুতর অপরাধ।