ডিএসসিসির ২৯ ঝুঁকিপূর্ণ ওয়ার্ডে ডেঙ্গু প্রতিরোধে চিরুনি অভিযান শুরু

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৭:২৭ অপরাহ্ন, ০৮ নভেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ৯:৪৯ অপরাহ্ন, ০৮ নভেম্বর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ডেঙ্গু প্রতিরোধে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ২৯টি ওয়ার্ডে একযোগে বিশেষ চিরুনি অভিযান শুরু হয়েছে। রোববার (৮ নভেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টায় আজিমপুর সরকারি কোয়ার্টারের (বি-টাইপ) প্রাঙ্গণে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন ডিএসসিসির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।

ডিএসসিসির জরিপে চিহ্নিত অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ওয়ার্ডগুলোতে এ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। কর্মসূচির আওতায় বিশেষ পরিচ্ছন্নতা, মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং মশক নিধন কার্যক্রম চালানো হবে।

আরও পড়ুন: মালিবাগে সিআইডি কার্যালয়ের পার্কিংয়ে ককটেল বিস্ফোরণ

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রশাসক জানান, ডেঙ্গুর ঝুঁকি নিরূপণ ও এডিস মশার প্রজননস্থল শনাক্ত করতে গত ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে ৮ অক্টোবর পর্যন্ত ডিএসসিসির ৭৫টি ওয়ার্ডে ১২ দিনব্যাপী ‘বর্ষাকালীন এডিস লার্ভা জরিপ ২০২৬’ পরিচালনা করা হয়। জরিপে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে মোট ২ হাজার ২৫০টি বাড়ি পরিদর্শন করা হয়েছে।

এ জরিপে ডিএসসিসি ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ (সিডিসি) শাখার ৩৬ জন মাঠকর্মী আধুনিক ‘কোবো টুলবক্স’ ব্যবহার করে তথ্য সংগ্রহ করেন।

আরও পড়ুন: ভাটারায় দাঁড়িয়ে থাকা স্কুল বাসে আগুন দিল দুর্বৃত্তরা

জরিপের ফলাফল এবং এডিস মশার ঘনত্ব নিরূপণের বিভিন্ন সূচক—ব্রেটো ইনডেক্স (BI), হাউস ইনডেক্স (HI), কনটেইনার ইনডেক্স (CI) ও পিউপা ইনডেক্স (PI)—বিশ্লেষণ করে ৭৫টি ওয়ার্ডের মধ্যে ২৯টিকে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ, ২৮টিকে মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ এবং ১৮টিকে সাধারণ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। পরিদর্শন করা বাড়িগুলোর মধ্যে ৩২২টিতে এডিস মশার লার্ভার উপস্থিতি পাওয়া যায়। পরে সেগুলো তাৎক্ষণিকভাবে ধ্বংসের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় লার্ভিসাইডিং কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।

জরিপে বহুতল ও সেমি-পাকা ভবন, স্বতন্ত্র বাড়ি, নির্মাণাধীন ভবন এবং খালি প্লটে জমে থাকা পানিকে এডিস মশার প্রজননের অন্যতম উৎস হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

ডিএসসিসি জানিয়েছে, ৮ নভেম্বর থেকে শুরু হওয়া বিশেষ অভিযানে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ২৯টি ওয়ার্ডে নিবিড়ভাবে লার্ভিসাইডিং ও অ্যাডাল্টিসাইডিং কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। পাশাপাশি মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, ড্রেন-খাল ও নালা-নর্দমা পরিষ্কার এবং বর্জ্য অপসারণ করা হবে। মাইকিং, লিফলেট বিতরণ ও মসজিদের মাধ্যমে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমও চালানো হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় উপাসনালয়গুলোতে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন অভিযান পরিচালনা করা হবে।

এ ছাড়া স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সম্পৃক্ত করে মতবিনিময় ও যৌথ অভিযান চালানো হবে। এরপরও কোথাও এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেলে প্রয়োজন অনুযায়ী ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অনুষ্ঠানে প্রশাসক মো. আবদুস সালাম বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু সিটি করপোরেশনের একক উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। সরকারি সংস্থার পাশাপাশি প্রত্যেক নাগরিকের দায়িত্বশীল ও সক্রিয় অংশগ্রহণ জরুরি। নিজ নিজ বাসাবাড়ি, ছাদ, বারান্দা, আঙিনা ও কর্মস্থল পরিষ্কার রাখতে হবে। কোথাও পানি জমতে দেওয়া যাবে না। অন্তত সপ্তাহে এক দিন জমে থাকা পানি অপসারণ এবং সম্ভাব্য প্রজননস্থল ধ্বংস করার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।

তিনি বলেন, জরিপে প্লাস্টিকের বালতিতে ১৪ দশমিক ২১ শতাংশ, প্লাস্টিকের ড্রামে ১১ দশমিক ২২ শতাংশ, বেজমেন্টে জমে থাকা পানিতে ৯ দশমিক ৯৮ শতাংশ, প্লাস্টিকের মগে ৯ দশমিক ২৩ শতাংশ এবং ফুলের টবে ৫ দশমিক ৯৯ শতাংশ লার্ভা পাওয়া গেছে। নাগরিকেরা নিজ নিজ আঙিনা ও পানির পাত্রের বিষয়ে সচেতন হলে প্রাথমিক পর্যায়েই ৫০ দশমিক ৯ শতাংশ এডিস মশার বিস্তার ও ডেঙ্গু প্রতিরোধ করা সম্ভব।

সম্মিলিত প্রচেষ্টা, সচেতনতা ও দায়িত্বশীল অংশগ্রহণের মাধ্যমে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার ঝুঁকি কমিয়ে নগরবাসীর জন্য সুস্থ, নিরাপদ ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডিএসসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তাসহ করপোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।