স্বর্ণের ভরি তিন লাখ ছুঁই ছুঁই

Sadek Ali
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ৮:৩৩ পূর্বাহ্ন, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ৮:৩৩ পূর্বাহ্ন, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

গত তিন দিনে দেশের বাজারে প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম বেড়েছে মোট ২৮ হাজার ৮১০ টাকা। এর মধ্যে বৃহস্পতিবার একদিনেই দাম বাড়ানো হয়েছে রেকর্ড ১৬ হাজার টাকা। এতে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকা, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।

বিশ্ববাজারে চলমান ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারেও স্বর্ণের দাম অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে। সেই প্রভাব পড়েছে দেশীয় বাজারেও। আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখার যুক্তিতে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) একের পর এক দফায় দাম সমন্বয় করছে।

আরও পড়ুন: বিশ্ববাজারে স্বর্ণের বড় পতন

দেশে স্বর্ণ আমদানিনির্ভর হওয়ায় বিশ্ববাজারের দামে কিনতে হয়—এই যুক্তিতে বরাবরই স্থানীয় বাজারে দাম তুলনামূলক বেশি থাকে। বর্তমানে সেই ব্যবধান আরও বেড়েছে।

এদিকে অলংকার কিনতে গেলে স্বর্ণের মূল দামের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে ভ্যাট ও মজুরি। এক ভরি অলংকার তৈরিতে অতিরিক্ত প্রায় ১১ শতাংশ খরচ যোগ হওয়ায় মোট ব্যয় দাঁড়াচ্ছে প্রায় ৩ লাখ ১৭ হাজার টাকায়।

আরও পড়ুন: সোনার দাম ভরিতে কমলো ১৪ হাজার

ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটের বিভিন্ন জুয়েলারি মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে, দীর্ঘদিন ধরেই উচ্চমূল্যের কারণে বিক্রি কম ছিল। তবে সাম্প্রতিক অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির পর বড় দোকানগুলোতে ক্রেতাদের উপস্থিতি কিছুটা বেড়েছে।

বিনিয়োগের উদ্দেশ্যে অনেকেই এখন অলংকার কিনছেন। তবে দামের অস্থিরতার কারণে বেশ কয়েকটি দোকান নতুন করে অলংকার তৈরির অর্ডার নিচ্ছে না। তারা আগে থেকে প্রস্তুত থাকা অলংকার বিক্রিতেই সীমাবদ্ধ থাকছে।

জুয়েলারি ব্যবসায়ীরা বলছেন, স্বর্ণের দাম মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে চলে যাওয়ায় বাজারে মন্দা চলছে। দাম আরও বাড়লে অনেক দোকান টিকিয়ে রাখা কঠিন হবে বলে আশঙ্কা করছেন তারা। পাশাপাশি স্বর্ণের দাম বাড়ায় নিরাপত্তা ঝুঁকিও বেড়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।