‘অন্যপাতা’ দিয়ে বড় পর্দায় অভিষেক, তিহা হয়ে দর্শকের ভালোবাসা পেয়েছি: প্রত্যাশা ঘোষ
‘অন্যপাতা’ সিনেমায় তিহা চরিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে বড় পর্দায় অভিষেক হয়েছে প্রত্যাশা ঘোষের। প্রথম সিনেমাতেই দর্শকদের ভালোবাসা ও প্রশংসা পেয়েছেন তিনি। সিনেপ্লেক্সে সিনেমাটির প্রথম দুটি শো হাউসফুল হওয়া তার কাছে বিশেষ প্রাপ্তি। অভিনয়ের অভিজ্ঞতা, তিহা চরিত্রের সঙ্গে নিজের সংযোগ, শুটিংয়ের নানা চ্যালেঞ্জ এবং পড়াশোনার পাশাপাশি অভিনয় সামলানোর গল্প নিয়ে কথা বলেছেন তিনি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন শাহরিয়ার ইসলাম পল্লব।
বাংলাবাজার পত্রিকা: ‘অন্যপাতা’ মুক্তির পর দর্শকদের কাছ থেকে কেমন সাড়া পাচ্ছেন? বড় পর্দায় নিজের অভিনয় দেখার পর নিজের কাজ নিয়ে কী মনে হয়েছে?
আরও পড়ুন: তাহমিমা আনামের ‘গুড বুকস’ আসছে টিভি পর্দায়
প্রত্যাশা ঘোষ: 'অন্যপাতা' মুক্তির পর দর্শকদের কাছ থেকে খুব ভালো সাড়া পাচ্ছি। সিনেপ্লেক্সের প্রথম দুইটা শো হাউসফুল হওয়াটা আমাদের জন্য অনেক বড় প্রাপ্তি ছিল। বড় পর্দায় নিজের অভিনয় প্রথমবার দেখার অনুভূতিটা আসলেই অসাধারণ ছিল। দর্শকদের ভালোবাসা ও আমার কাজ নিয়ে তাদের প্রশংসা আমাকে ভীষণ আনন্দ দিয়েছে। একই সঙ্গে নিজের কাজ দেখে নিজেই নিজের সমালোচনাও করেছি।
আরও পড়ুন: তিন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে ‘মাস্টার’
বাংলাবাজার পত্রিকা: ‘অন্যপাতা’র সঙ্গে আপনার যুক্ত হওয়ার গল্পটা কীভাবে শুরু হয়েছিল?
প্রত্যাশা ঘোষ: ‘অন্যপাতা’র সঙ্গে আমার যুক্ত হওয়ার গল্পটা বেশ আকস্মিক। ক্যাম্পাসে আমাকে দেখে কাস্টিং টিমের মনে হয়েছিল, তিহা চরিত্রটির সঙ্গে আমার চেহারা ও স্বাভাবিক লুক মানানসই হবে। পরে এক বান্ধবীর মাধ্যমে বিষয়টি আমার কাছে পৌঁছায়। গল্প ও চরিত্রটি সম্পর্কে বিস্তারিত জানার পর আমারও মনে হয়, তিহা চরিত্রটি নিজের মতো করে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করতে পারি। এভাবেই ‘অন্যপাতা’র সঙ্গে আমার পথচলা শুরু হয়।
বাংলাবাজার পত্রিকা: তিহা চরিত্রে অভিনয়ের প্রস্তাব পাওয়ার পর আপনার প্রথম প্রতিক্রিয়া কী ছিল? চরিত্রটি নিজের মধ্যে ধারণ করার জন্য কী ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছিলেন?
প্রত্যাশা ঘোষ: প্রস্তাবটা পেয়ে ভালো লাগার পাশাপাশি একটু ভয়ও কাজ করছিল, কারণ এর আগে এতটা সময় ধরে ক্যামেরার সামনে অভিনয় করার অভিজ্ঞতা আমার ছিল না। তিহা চরিত্রটা আমার কাছে বেশ ইন্টারেস্টিং, একই সঙ্গে একটু মিস্টেরিয়াসও। সে মেধাবী, সাবলীল ও হেল্পফুল একজন শিক্ষার্থী। আমি আলাদা করে চরিত্রটাকে জটিল করে তোলার চেষ্টা করিনি; বরং গল্পটা বুঝে নিজের মতো করে স্বাভাবিকভাবে উপস্থাপন করতে চেয়েছি।
বাংলাবাজার পত্রিকা: ‘অন্যপাতা’র গল্পে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার চাপ,পরিবারের চাহিদা ও ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা উঠে এসেছে। নিজের শিক্ষার্থীজীবনের সঙ্গে তিহা চরিত্রের কতটা মিল খুঁজে পেয়েছেন?
প্রত্যাশা ঘোষ: আমি নিজেও একজন শিক্ষার্থী, তাই ভর্তি পরীক্ষাকেন্দ্রিক গল্পটির সঙ্গে সহজেই সংযোগ স্থাপন করতে পেরেছি। শিক্ষার্থীজীবনে পড়াশোনা, ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবনা এবং নানা অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। তিহার সঙ্গে আমার সব অভিজ্ঞতার মিল না থাকলেও শিক্ষার্থী হিসেবে তার জগৎটা বুঝতে আমার সুবিধা হয়েছে।
বাংলাবাজার পত্রিকা: অভিনয়ে আগে কোনো অভিজ্ঞতা ছিল না। এবারই প্রথম?
প্রত্যাশা ঘোষ: হ্যাঁ, এ ধরনের অভিনয়ের অভিজ্ঞতা আমার আগে ছিল না। শুরুতে একটু ভয় লাগলেও টিমের সহযোগিতায় ধীরে ধীরে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি। কোনো দৃশ্যের ভালো শট পাওয়ার জন্য একই ডায়লগ বা অভিব্যক্তি বারবার দিতে হতো,যেটা কখনো কখনো চ্যালেঞ্জিং মনে হয়েছে। তবে আমার বেশিরভাগ দৃশ্যই কয়েকটি টেকের মধ্যে হয়ে যেত। সব মিলিয়ে,অভিজ্ঞতাটা উপভোগ করেছি এবং অনেক কিছু শিখেছি।
বাংলাবাজার পত্রিকা: অভিনয়ের পাশাপাশি সিনেমার কয়েকটি দৃশ্য ও মিউজিক ভিডিওর আইডিয়াও দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন। এই সৃজনশীল কাজগুলোতে যুক্ত হওয়ার অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?
প্রত্যাশা ঘোষ: এটা আমার জন্য বেশ ভালো লাগার একটা অভিজ্ঞতা ছিল। শুটিংয়ের সময় মিউজিক ভিডিওসহ কয়েকটি দৃশ্যের আইডিয়া আমার তৎক্ষণাৎ শুটিং স্পটেই মাথায় আসে। সেগুলো টিমের সঙ্গে শেয়ার করলে তারাও গুরুত্ব দেন এবং সিনগুলো বাস্তবায়নে সহযোগিতা করেন। নতুন হিসেবে নিজের ভাবনাগুলোকে গুরুত্ব পেতে দেখা সত্যিই আনন্দের ছিল। এতে অভিনয়ের পাশাপাশি নিজের সৃজনশীলতা প্রকাশেরও সুযোগ পেয়েছি।
বাংলাবাজার পত্রিকা: পড়াশোনা ও শুটিং একসঙ্গে সামলাতে গিয়ে কী ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন?
প্রত্যাশা ঘোষ: পড়াশোনা ও শুটিং একসঙ্গে সামলানো অবশ্যই কিছুটা চ্যালেঞ্জিং ছিল। কারণ, পড়াশোনার প্রতি দায়বদ্ধতা বজায় রাখার পাশাপাশি শুটিংয়ের কাজেও মনোযোগ দিতে হয়েছে। দেখা যেত শুটিং এর দিনও ক্লাস ল্যাব থাকত, সিটি- এসাইনমেন্ট জমা দিয়ে এরপর শুটে টাইম দিতাম।এভাবেই সময় ও পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছি। আর এ ধরনের নতুন অভিজ্ঞতার ক্ষেত্রে আশপাশের মানুষের সহযোগিতা অনেক গুরুত্বপূর্ণ যা আমি পেয়েছি প্রথম থেকেই।
বাংলাবাজার পত্রিকা: পেশাদার অভিনয়ের অভিজ্ঞতা না থাকার পরও বড় পর্দায় প্রধান চরিত্রগুলোর একটিতে অভিনয় করেছেন। কোন মুহূর্তে মনে হয়েছে, কাজটা আপনার প্রত্যাশার চেয়ে কঠিন?
প্রত্যাশা ঘোষ: আমার কাছে একটু চ্যালেঞ্জিং ছিল যখন একটা ভালো শটের জন্য একই দৃশ্য বা ডায়লগ বারবার দিতে হতো। যদিও আমার বেশিরভাগ সিনই কয়েকটা টেকের মধ্যে হয়ে যেত, কিছু দৃশ্যে বেশি সময় লাগত। এর পাশাপাশি কস্টিউম ও মেকওভারও নিজের উদ্যোগে সামলাতে হয়েছে। শুটিংয়ের আগে পোশাকের রং জানিয়ে দেওয়া হতো, আর সেই অনুযায়ী পোশাক ম্যানেজ করতাম। কখনো নিজের কাছে নির্দিষ্ট রঙের পোশাক না থাকলে বান্ধবীর কাছ থেকে নিয়েছি। পুরো অভিজ্ঞতাটা আমাকে বুঝিয়েছে, অভিনয় শুধু ক্যামেরার সামনে পারফর্ম করা নয়; এর পেছনেও অনেক প্রস্তুতি, পরিশ্রম ও দায়িত্ব থাকে।
বাংলাবাজার পত্রিকা: যারা ‘অন্যপাতা’ এখনো দেখেননি, তাদের উদ্দেশে কী বলবেন?
প্রত্যাশা ঘোষ: যারা এখনো অন্যপাতা দেখেননি, তাদের বলব, সময় করে হলে গিয়ে সিনেমাটা দেখে আসুন। এখানে শিক্ষার্থীজীবন, ভর্তি পরীক্ষার বাস্তবতা, মানুষের প্রতি সহমর্মিতা এবং রাতুল ও তিহার কিছু মিষ্টি মুহূর্ত দেখতে পাবেন। আশা করি, গল্পটা আপনাদের ভালো লাগবে।





