খেজুরের রসের সতর্কবার্তা

নিপাহ ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ছে, হাসপাতালগুলোকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ৭:৩০ অপরাহ্ন, ০৭ জানুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ৮:৩১ অপরাহ্ন, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

দেশের ৩৫ জেলায় নিপাহ ভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে এবং এর বিস্তার ও সংক্রমণের ধরন উদ্বেগজনক হারে পরিবর্তন হচ্ছে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে আইইডিসিআর।

আইইডিসিআর জানিয়েছে, ২০২৫ সালে রেকর্ড করা চারটি কেসের সবাই মারা গেছেন। এদের মধ্যে একটি ‘অ-মৌসুমি কেস’ও প্রথমবারের মতো শনাক্ত হয়েছে।

আরও পড়ুন: দেশে তরুণ-তরুণীদের উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে এইচআইভি সংক্রমণ

বুধবার (৭ জানুয়ারি) দুপুরে আইইডিসিআরের মিলনায়তনে ‘নিপাহ ভাইরাসের বিস্তার ও ঝুঁকি বিষয়ে মতবিনিময়’ শীর্ষক সভায় সংস্থাটির বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা শারমিন সুলতানা এসব তথ্য জানান।

২০২৫ সালে নওগাঁ, ভোলা, রাজবাড়ী ও নীলফামারী—এই চার জেলায় চারজন নিপাহ রোগী শনাক্ত হন এবং প্রত্যেকেই মৃত্যুবরণ করেন। এদের মধ্যে নওগাঁর ৮ বছরের এক শিশুর ঘটনা দেশের প্রথম অ-মৌসুমি নিপাহ কেস হিসেবে চিহ্নিত হয়। ওই শিশুর সংক্রমণের উৎস ছিল বাদুড়ের আধা-খাওয়া ফল (কালোজাম, খেজুর, আম), যা নতুন ও সতর্কবার্তা হিসেবে ধরা হয়েছে।

আরও পড়ুন: সানওয়ে–জেজি হেলথকেয়ারের চুক্তি, বাংলাদেশিদের বিদেশে চিকিৎসা হবে আরও সহজ

নিপাহ ভাইরাসের বিস্তার ব্যাপক উল্লেখ করে বলা হয়েছে, দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৩৫ জেলায় ভাইরাসের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। ফরিদপুর, রাজবাড়ী, নওগাঁ ও লালমনিরহাটে সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার তুলনামূলকভাবে বেশি। গত বছর শনাক্ত চারজনই মারা গেছেন (মৃত্যুহার ১০০%), যেখানে বিশ্বব্যাপী নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্তদের গড় মৃত্যুহার প্রায় ৭২%।

সভায় বলা হয়, ঐতিহাসিকভাবে খেজুরের কাঁচা রস প্রধান সংক্রমণ উৎস হিসেবে চিহ্নিত থাকলেও, ২০২৫ সালের কেস প্রমাণ করে বাদুড়ের লালা বা মূত্রে দূষিত কোনো আধা-খাওয়া ফল থেকেও সংক্রমণ ঘটতে পারে এবং এটি সারা বছর সম্ভব। মানুষের মধ্যেও সংক্রমণ ঘটে, যা স্বাস্থ্যকর্মী ও পরিবারের সদস্যদের জন্য ঝুঁকি তৈরি করে; প্রায় ২৮% ক্ষেত্রে রোগী থেকে সরাসরি সংক্রমণ ছড়ায়।

আইইডিসিআরের পরিচালক অধ্যাপক ডা. তাহমিনা শিরীন বলেন, “২০২৫ সালের অ-মৌসুমি কেস এবং নতুন সংক্রমণ পথ আমাদের জন্য বড় সতর্কবার্তা। নিপাহ এখন শুধু শীতকাল বা খেজুরের রসের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, এটি সারা বছর এবং বহুমুখী সংক্রমণের হুমকিতে পরিণত হচ্ছে।”

সভায় আরও জানানো হয়, ২০২৪ সালে দেশে নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত পাঁচজনের সবাই মারা গেছেন। ২০২৫ সালের তথ্য এবং নতুন সংক্রমণ পথের আবিষ্কার দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে আরও সতর্ক ও প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানাচ্ছে।