নেপালে মৃত বেড়ে ৬৭৫,অব্যাহত উদ্ধার অভিযান

Sadek Ali
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ৮:৪৭ পূর্বাহ্ন, ৩০ অগাস্ট ২০২৬ | আপডেট: ১২:০৩ অপরাহ্ন, ৩০ অগাস্ট ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

নেপাল-তিব্বত সীমান্তবর্তী এলাকায় আকস্মিক বন্যার পাঁচ দিন পরও থামেনি উদ্ধার তৎপরতা। ভয়াবহ এই দুর্যোগে নেপালে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬৭৫ জনে পৌঁছেছে। পাশাপাশি তিব্বতে সাতজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

নেপালের দুর্যোগ মোকাবিলা সংস্থার সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বন্যার পর এ পর্যন্ত ৭ হাজার ৫০০ জনের বেশি মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে এখনো প্রায় ২ হাজার ৫০০ মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ২১৯ জন।

আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্র শর্ত পূরণ করলে, ইরানও হরমুজ খুলে দেবে: মাসুদ পেজেশকিয়ান

এর আগে নেপাল পর্যটন বোর্ড জানিয়েছিল, দুর্গত এলাকা থেকে ২৫০ জন বিদেশি নাগরিককে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে আরও ৩২০ বিদেশি নাগরিকের কোনো খোঁজ এখনো মেলেনি।

নিখোঁজ স্বজনদের সন্ধানে নেপালের নুয়াকোট জেলায় মানুষের উৎকণ্ঠা ক্রমেই বাড়ছে। সেখানে স্বজনদের তথ্যের অপেক্ষায় জড়ো হচ্ছেন অনেকে। একই সঙ্গে ত্রিশূলী-৩ ‘এ’ জলবিদ্যুৎ প্রকল্প এলাকাতেও উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

আরও পড়ুন: বন্যায় নিখোঁজদের উদ্ধারে বিদেশি সহায়তা নেবে নেপাল

উদ্ধারকারীরা কাদামাটি ও ধ্বংসস্তূপে আটকে থাকা টানেলগুলোতে তল্লাশি চালাচ্ছেন। এসব স্থানে কেউ জীবিত অবস্থায় আটকা পড়ে আছেন কি না, সেই আশায় অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছেন তারা।

বিবিসির সঙ্গে কথা বলা এক ব্যক্তি জানিয়েছেন, নিজের গ্রামের ভয়াবহ পরিস্থিতি দেখতে তিনি ইংল্যান্ডের সাসেক্স থেকে নেপালে ফিরে এসেছেন। পরে বাবাকে সঙ্গে নিয়ে দুর্গত এলাকায় যান তিনি। সেখানে গিয়ে জানতে পারেন, তার স্ত্রী, মা, চাচা ও ভাই এখনো নিখোঁজ। তিনি জানান, যে এলাকায় তাদের গ্রাম ছিল, সেই পুরো অঞ্চলই এখন পানির নিচে।

এত বড় প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞের মধ্যেও উদ্ধার অভিযানে মিলছে কিছু আশাব্যঞ্জক ঘটনা। এর আগে এমনই এক হৃদয়স্পর্শী পুনর্মিলনের ছবি সামনে আসে। বন্যার পানি থেকে আত্মরক্ষার জন্য একটি গাছে উঠে আশ্রয় নেওয়া আট বছর বয়সী এক শিশুকে পরে তার মায়ের সঙ্গে পুনর্মিলন করানো হয়।

দুর্যোগের পর পঞ্চম দিনেও উদ্ধারকারীরা নিখোঁজদের সন্ধানে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে কেউ জীবিত থাকলে তাদের দ্রুত উদ্ধারের আশায় বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি অব্যাহত রয়েছে।