কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগার পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক

বন্দীদের সঙ্গে কথা বলে সন্তুষ্টি প্রকাশ, খাবার-চিকিৎসা ও পরিবেশ নিয়ে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা

Any Akter
বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১১:৫৯ পূর্বাহ্ন, ২৬ অগাস্ট ২০২৬ | আপডেট: ১২:৫৫ অপরাহ্ন, ২৬ অগাস্ট ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগার পরিদর্শন করেছেন কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সোহানা নাসরিন। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) তিনি কারাগারটি সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. এরশাদুল আহমেদ।

পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসক কারাগারের সার্বিক পরিবেশ ও ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, বন্দীদের আবাসন, খাবারের মান, চিকিৎসাসেবা, পরিচ্ছন্নতা, কারা ক্যান্টিন, ক্যাশ টেবিল, রান্নাঘর, কারা হাসপাতালসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান ঘুরে দেখেন। তিনি কারাগারের প্রত্যেকটি ওয়ার্ড পরিদর্শন করে কয়েদি ও হাজতি বন্দীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন এবং তাদের বিভিন্ন বিষয়ে খোঁজখবর নেন।

আরও পড়ুন: চট্টগ্রামে ৫৫তম ঐতিহাসিক জশনে জুলুস শুরু, লাখো মানুষের ঢল

এ সময় বন্দীদের প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা, খাবারের গুণগত মান ও পুষ্টিমান, চিকিৎসাসেবা এবং কল্যাণমূলক কার্যক্রম সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন জেলা প্রশাসক। বিশেষ করে অসুস্থ বন্দীদের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করা, প্রয়োজনীয় ওষুধের সরবরাহ, রান্নাঘরের পরিচ্ছন্নতা এবং কারাগারে স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ বজায় রাখার বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন তিনি।

পরিদর্শনের সময় বন্দীদের সঙ্গে কথা বলে তাদের কাছ থেকে কারাগারের বর্তমান পরিবেশ, খাবারের মান ও সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে জানতে চান জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন। বন্দীদের বক্তব্য শুনে তিনি সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। এ সময় তিনি জেল সুপার জাহানারা বেগম ও জেলার নাছির আহমেদের দায়িত্বশীল ভূমিকার প্রশংসা করেন এবং তাদের ধন্যবাদ জানান।

আরও পড়ুন: সীমান্তে বাংলাদেশির সঙ্গে ধস্তাধস্তি, রাইফেল ফেলে পালালো বিএসএফ সদস্য

কারাগারে থাকা একাধিক বন্দী ও তাদের স্বজনদের সঙ্গেও কথা বলেন জেলা প্রশাসক।

কুলিয়ারচর থেকে আসা এক হাজতি আসামির বৃদ্ধ মা কুলসুম আক্তার জানান, তার ছেলে প্রায় এক বছর ধরে একটি হত্যা মামলায় হাজতে রয়েছেন। ছেলের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তিনি জানতে পেরেছেন, বর্তমানে কারাগারের ভেতরে কোনো সমস্যা নেই এবং সে ভালো আছে। খাবার-দাবারও ভালো দেওয়া হচ্ছে বলে তার ছেলে তাকে জানিয়েছেন।

অষ্টগ্রাম থেকে ছেলের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে আসা ইসমাইল হোসেন বলেন, তার ছেলে প্রায় ১৮ মাস ধরে কারাগারে রয়েছেন। আগে প্রতি মাসে ছেলের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে এসে নানা ধরনের হয়রানির শিকার হতে হতো এবং টাকা-পয়সা দিতে হতো। তবে নতুন জেল সুপার জাহানারা বেগম ও জেলার নাছির আহমেদ দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে সাক্ষাতের ক্ষেত্রে কোনো টাকা-পয়সা দিতে হচ্ছে না।

তিনি বলেন, ‘নতুন জেল সুপার ও জেলার খুবই ভালো মানুষ। এখন আমরা কোনো হয়রানির শিকার হচ্ছি না। নিয়ম মেনেই ছেলের সঙ্গে দেখা করতে পারছি।’

পরিদর্শন শেষে জেলা প্রশাসক কারাগারে নিরাপদ, সুশৃঙ্খল, পরিচ্ছন্ন ও মানবিক পরিবেশ বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে বন্দীদের প্রাপ্য সেবা ও সুযোগ-সুবিধা যথাযথভাবে নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।

জেলা প্রশাসকের এ পরিদর্শনকে কারাগারের সার্বিক ব্যবস্থাপনা, বন্দীদের কল্যাণ এবং সেবার মান আরও উন্নত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা