যুক্তরাষ্ট্রের হুমকি মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা বাড়াচ্ছে: সৌদি যুবরাজকে ইরানের প্রেসিডেন্ট

Sadek Ali
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২:০৭ অপরাহ্ন, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ১২:০৭ অপরাহ্ন, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হুমকি ও চাপ মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা নষ্ট করছে এবং এর ফল শুধু অস্থিরতাই বাড়াবে। যুক্তরাষ্ট্রের একটি যুদ্ধজাহাজ মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছানোর প্রেক্ষাপটে সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের (এমবিএস) সঙ্গে টেলিফোনে আলাপকালে তিনি এই মন্তব্য করেন।

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত ওই ফোনালাপে পেজেশকিয়ান বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের হুমকি “এই অঞ্চলের নিরাপত্তা ব্যাহত করার লক্ষ্যেই দেওয়া হচ্ছে” এবং এসব পদক্ষেপ থেকে স্থিতিশীলতা ছাড়া অন্য কিছু আসবে না।

আরও পড়ুন: গাজায় প্রায় ৭০ হাজার ফিলিস্তিনি নিহতের কথা স্বীকার ইসরায়েলের

ইরানি প্রেসিডেন্টের কার্যালয় থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ ও বাহ্যিক হস্তক্ষেপসহ বিভিন্ন ধরনের শত্রুতামূলক আচরণ চালানো হচ্ছে। তবে এসব চাপ ইরানি জনগণের দৃঢ়তা ও সচেতনতা দুর্বল করতে ব্যর্থ হয়েছে বলে মন্তব্য করেন পেজেশকিয়ান।

সৌদি আরবের অবস্থান স্পষ্ট

আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো হামলার জবাব হবে ‘দ্রুত ও চূড়ান্ত’—ইরানের সেনাবাহিনী

ওই বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান সংলাপকে স্বাগত জানান এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, নিরাপত্তা ও উন্নয়নের প্রতি সৌদি আরবের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

তিনি বলেন, ইসলামি দেশগুলোর মধ্যে সংহতি জরুরি এবং ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের আগ্রাসন বা উত্তেজনা সৌদি আরব প্রত্যাখ্যান করে। পাশাপাশি তিনি আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় সৌদি আরবের প্রস্তুতির কথাও জানান।

সৌদি রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এসপিএ জানায়, ফোনালাপে যুবরাজ স্পষ্টভাবে বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক অভিযানের জন্য সৌদি আরব তার আকাশসীমা বা ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেবে না।

এসপিএ জানায়, “সৌদি আরব ইরানের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং কোনো পক্ষকেই তার ভূখণ্ড বা আকাশসীমা ব্যবহার করে ইরানের বিরুদ্ধে হামলা চালাতে দেবে না।”

এ ছাড়া তিনি সংলাপের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির প্রচেষ্টাকে সমর্থন করার কথাও জানান, যা আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা জোরদার করবে বলে সৌদি আরব মনে করে।

ইরানি প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান সৌদি আরবের এই অবস্থানের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে যুবরাজের ভূমিকার প্রশংসা করেন।

যুদ্ধের আশঙ্কা ও পাল্টা হুঁশিয়ারি

এই ফোনালাপ এমন এক সময়ে হলো, যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের হুমকি বারবার দিয়ে আসছেন। চলতি মাসে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে সহিংসতার পর যুক্তরাষ্ট্র সম্ভাব্য হামলার ইঙ্গিত দেয়। এরই অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন বিমানবাহী রণতরী মধ্যপ্রাচ্যে পাঠিয়েছে।

মঙ্গলবার আইওয়ায় দেওয়া এক ভাষণে ট্রাম্প আবারও বলেন, ইরানের দিকে একটি বড় “নৌবহর” এগোচ্ছে এবং তেহরানকে যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান।

এদিকে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)-এর এক শীর্ষ কর্মকর্তা সতর্ক করে বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলো ইরানের বন্ধু হলেও, যদি তাদের ভূমি, আকাশ বা জলসীমা ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হয়, তবে তা শত্রুতামূলক আচরণ হিসেবে বিবেচিত হবে।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের জুনে ইসরায়েল ইরানের ওপর একাধিক হামলা চালায়, যেখানে জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা, পারমাণবিক বিজ্ঞানী এবং পারমাণবিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্যবস্তু হয়। পরে যুক্তরাষ্ট্রও সেই সংঘাতে যুক্ত হয়ে ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালায়। এরপর থেকে উত্তেজনা আরও বেড়েছে।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সতর্ক করে বলেছে, ইরানের ওপর যেকোনো হামলার প্রভাব শুধু দেশটির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং পুরো অঞ্চলেই তার নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।


সূত্র: আল-জাজিরা