জেনেভায় ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের তৃতীয় দফা পরমাণু আলোচনা বৃহস্পতিবার

Sadek Ali
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২:৪৪ অপরাহ্ন, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ১২:৪৪ অপরাহ্ন, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

সুইজারল্যান্ডের জেনেভা-এ ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে তৃতীয় দফার পরোক্ষ পরমাণু আলোচনা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি)। দীর্ঘ অচলাবস্থার পর একটি সম্ভাব্য সমঝোতার লক্ষ্যে এই বৈঠককে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আল বুসাইদি আলোচনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ওমান এই উদ্যোগকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে স্বাগত জানিয়েছে।

আরও পড়ুন: জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার দাবি আইআরজিসির

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান রোববার এক বার্তায় জানান, আগের আলোচনাগুলো থেকে কিছু ‘উৎসাহব্যঞ্জক সংকেত’ পাওয়া গেছে এবং উভয় পক্ষ ব্যবহারিক প্রস্তাব বিনিময় করেছে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, তেহরান শান্তি ও স্থিতিশীলতার পক্ষে থাকলেও যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে।

সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

আরও পড়ুন: ধ্বংসস্তূপের নিচে দুই দিন, জীবিত উদ্ধার ৫ বছরের মানিশা

এদিকে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ইরান কেন এখনো তাদের পরমাণু কর্মসূচি সীমিত করতে ‘নতিস্বীকার’ করছে না—তা নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন প্রশ্ন তুলছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান ও নৌবাহিনীর উপস্থিতি ২০০৩ সালের ইরাক আক্রমণের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে।

মার্কিন অবস্থানের কড়া সমালোচনা করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তিনি বলেন, পরমাণু প্রযুক্তি ইরানের জন্য ‘মর্যাদা ও গর্বের’ বিষয় এবং ইরানি বিজ্ঞানীদের ত্যাগের ফসল। তিনি আরও দাবি করেন, ২০১৫ সালের চুক্তির চেয়েও ভালো সমঝোতা সম্ভব—যেখানে শান্তিপূর্ণ পরমাণু কর্মসূচির নিশ্চয়তার বিনিময়ে সব নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হবে।

বিশ্লেষকদের মিশ্র প্রতিক্রিয়া

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক থিংক ট্যাংক কুইন্সি ইনস্টিটিউট-এর বিশ্লেষক ট্রিতা পার্সি মনে করেন, ইসরাইলি প্রভাবে ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের সক্ষমতাকে খাটো করে দেখছে এবং অবাস্তব দাবি তুলছে।

অন্যদিকে, ইসরাইল ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ধ্বংসে ওয়াশিংটনের ওপর চাপ অব্যাহত রেখেছে। এমন উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই বৃহস্পতিবারের বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।