রংপুরে চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নতুন মোড়, তদন্ত কার্যক্রমে ধোঁয়াশা
রংপুরে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক পরিবারকে হ'ত্যা'র ঘটনার তদন্তে রদবদল এনেছে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী। তদন্তের ভার কোতয়ালী থানা থেকে সরিয়ে গোয়েন্দা বিভাগে (ডিবি) দেওয়া হয়েছে। অধিকতর স্বচ্ছ তদন্ত ও দ্রুত চার্জশিট দেয়ার জন্যই তদন্ত সংস্থা বদল করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) উপ-কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী।
আরও পড়ুন: চট্টগ্রামে ৫৫তম ঐতিহাসিক জশনে জুলুস শুরু, লাখো মানুষের ঢল
সোমবার (২৪ আগস্ট) /২৬ইং বিকেলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কোতয়ালী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মিলন চ্যাটার্জী গোয়েন্দা পুলিশের অফিসে এসে মামলার নতুন তদন্ত কর্মকর্তা মহানগর গোয়েন্দা বিভাগের ওসি জিন্নাত আলীর কাছে প্রয়োজনীয় তথ্য উপাত্ত ও নথিপত্র হস্তান্তর করেন।
এরপর পুরনো ও নতুন দুই তদন্ত কর্মকর্তাই ঘটনাস্থল মাছুয়াপাড়ায় শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ি পরিদর্শন করেন। প্রথম তদন্ত কর্মকর্তা ঘটনাস্থলের বিষয়ে নতুন তদন্ত কর্মকর্তাকে ব্রিফ করেন।
আরও পড়ুন: বন্দীদের সঙ্গে কথা বলে সন্তুষ্টি প্রকাশ, খাবার-চিকিৎসা ও পরিবেশ নিয়ে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের উপ-কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী জানান, রোববার ২৩ আগস্ট গভীর রাত পর্যন্ত দুই অভিযুক্ত ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে যা আদালত সূত্রে জানা। এটাই কমিশনার মহোদয় জনাব মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের বলেছেন। দেশবাসীর উদ্দেশ্যে একই নাটকীয় ঘটনা তারা কিছু ক্ষেত্রে নতুন মাত্রা যুক্ত করেও বয়ান করেছেন।
সনাতন চক্রবর্তী আরও বলেন, মামলাটি ডিবিতে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং গোয়েন্দা বিভাগের পুলিশ পরিদর্শক জিন্নাত আলী এখন এই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করার জন্যই তাকে দায়িত্ব দেওয়া হযেছে।
রংপুর জিলা স্কুলের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ২০২৫ইং সালের ডিসেম্বরে অবসরে যান। তিনি নগরীর বাংলাদেশ ব্যাংক মোড় এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।
এরপর নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকায় জমি কিনে সেখানে বাড়ি নির্মাণ শুরু করেন। দোতলা বাড়ির নিচতলার কাজ এখনও শেষ হয়নি। প্রায় দুই-তিন বছর আগে দোতলায় পরিবার নিয়ে বসবাস করে আসছিলেন। অবসরে যাওয়ার পর হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক হিসেবে রোগীও দেখতেন তিনি। রংপুর জেলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোঃ আবুল কালাম আজাদ বলেন, বিগত কয়েক মাস পুর্বে গনপতি স্কুল ফান্ড থেকে বাড়ি নির্মাণের জন্য ১৫ লক্ষ টাকা উত্তোলন করেছিলেন। সেই টাকা উনি ব্যাংকে নাকি বাসায় রেখেছিলেন আমি অবগত নই।
গত শনিবার (২২ আগস্ট) রাতে বাসা থেকে গণপতি চক্রবর্তী (৬৫), তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী বালা (৫০), স্নাতকোত্তর শ্রেণির শিক্ষার্থী মেয়ে আগামী চক্রবর্তী প্রার্থী (২৫) এবং পঞ্চম শ্রেণি পড়ুয়া ছেলে আয়ুস চক্রবর্তী প্রিয়মের (১২) মরদেহ উদ্ধার হয়। তাদের সবাইকে শ্বাসরোধে হ'ত্যা করা হয়েছে বলে জানায় পুলিশ।
এ ঘটনায় রোববার ভোরে দুই যুবককে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিরা হলেন- মহানগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকার কানুদাসের ছেলে মুগ্ধ দাস (২৩) ও বিনয়চন্দ্র দাসের ছেলে সিদ্ধার্থ দাস (১৯)।
এরপর দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার (ডিআইজি) আবদুল মাবুদের নাটকীয় গল্পটা এমন বাসার ছাদে ই'য়া'বা সেবনে বাধা দেওয়ায় শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ তার স্ত্রী ও ছেলে-মেয়েকে হ'ত্যা করা হয়েছে। অথচও পাশের বাসার ছাদটিই ইয়াবা সেবীদের জন্য নিরাপদ সরেজমিনে দেখা গেছে। গনপতিকে ছাদে, স্ত্রী প্রীতিলতাকে সিরিতে, মেয়ে আগামী চক্রবর্তী প্রার্থী কে ঘরে আর ৫ম শ্রেনী পরুয়া ঘুমন্ত আয়ুষকে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করা হয়। আয়ুষ তো ঘুমন্তই ছিল কিছুই দেখেনি হত্যাকারীরা তাকে হত্যা না করেই চলে যেতে পারতো। গল্পের শেষে হত্যাকারীদের গোসল, টেবিলে বসে খেজুর খাওয়া,আবারো ইয়াবা সেবন, আলামত উদ্ধার, ক্যামিকেলে মোবাইল চুবিয়ে রাখা,বেরিয়ে যাওয়ার সময় বাসার আসবাবপত্র এলোমেলো, পুলিশের চখে ঘটনাকে ডাকাতির আলামত হিসেবে দেখা। বাড়ি তৈরি বিষয় নিয়ে চাঁদা দবি। এ সবিই নাটকীয়তা বৈকি। ওইদিন বিকেলে নিহত চারজনের মরদেহের ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এরপর রাত সাড়ে ১০টার দিকে নগরীর দখিগঞ্জ শ্মশানে তাদের শেষকৃত্য হয়।
প্রেস ব্রিফিংয়ে জনাব,আব্দুল মাবুদ আরো বলেন, রবিবার ভোরে মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।রাত্রে গনপতির বড় ভাই গোপীনাথকে বাদী করে রংপুর মোট্রো কোতোয়ালি থানায় জিআর নং-৪৩, ৩০২/৩৪ দন্ডবিধির একটি মামলা দায়ের করা হয়।
রহস্যজনক কারনে উক্ত মামলায় ধৃত আসামী মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ কারোই নাম উল্লেখ নেই। আসামি অজ্ঞাতনামা। অথচও প্রেস ব্রিফিংয়ে জনাব আবদুল মাবুদ বয়ান দিয়েছেন, আসামি সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ জবানবন্দিতে স্বীকারোক্তি দিয়েছে। পুলিশ কমিশনার মোঃ আব্দুল মাবুদের মন্ত্রমুগ্ধের মত এই প্রেস ব্রিফিং উপস্থিত সকল গণমাধ্যম কর্মীদের ভিতরে সন্দেহের উদ্যোগ তৈরি করেছে
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের কর্তব্যরত ডাঃ বাবুল কিশোর বিশ্বাস ময়নাতদন্ত রিপোর্টে চার জনকেই শ্বাসরোধ করে হত্যা করার বর্ণনা দিয়েছেন। মৃতদের দেহে ছোট- খাটো আঘাতের চিহ্ন ছিল তবে তা জঠিল কিছু নয়। পুলিশি বর্ননার সাথে ময়নাতদন্ত রিপোর্ট সম্পুর্ন সামঞ্জস্যহীন বলেও উল্লেখ করেন ডাক্তার জনাব বাবুল বিশ্বাস।
মা প্রীতিলতা ও মেয়ে আগামী চক্রবর্তীর সাথে যৌন নিপিড়ন হয়েছে কিনা জানতে চাইলে ময়না তদন্তকারী কর্মকর্তা ঠান্ডা মাথায় বিষয়টির মোর ঘুরিয়ে নেন। অপরদিকে কর্মরত ডোম বলেন, প্রীতিলতা ও আগামী চক্রবর্তীর মৃতদেহ থেকে সংরক্ষিত সিমেন সংরক্ষণ করা হয়ছে কিন্তু ফরেনসিক বিভাগে নেয়া হয়নি, সিআইডি ডিপার্টমেন্ট নিয়েছে বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেন তিনি। পুলিশ তদন্ত রিপোর্ট, ময়নাতদন্ত রিপোর্ট, গণপতির বাসায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট, আগামী চক্রবতীর বান্ধবীকে ফেসবুক স্ট্যাটাসে দেয়া তথ্য ঘটনা দিন শুক্রবার সারা রাত্রি ঘুমাতে পারিনি, তদন্তকারী কর্মকর্তা সনাতন চক্রবর্তীর গায়ের জামা এবং ধৃত আসামী সিদ্ধার্তের গায়ের জামায় হুবহু মিল। বাসায় আসবাবপত্র এলোমেলো, বাড়ি তৈরিতে চাঁদা দাবী, সিদ্ধার্থ এবং মুগ্ধের কর্মস্থলের সাক্ষ্যপ্রমাণ সহ স্থানীয় জনগণের ভাষ্য আসামি দ্বয় মাদকের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল না। সবকিছু মিলে এই নাটকীয় হত্যাকাণ্ডের দায়ভার সময়ের সাথে সাথে প্রশাসনের দিকে আঙ্গুলি নির্দেশ করছে। ২৫আগষ্ট গনপতির বাসায় আয়োজিত শ্রাদ্ধ অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথি গনের সাথে কথা বললে আসামি সিদ্ধার্থের বাবা বলেন,পুলিশ যখন আমার ছেলেকে নিয়ে যাচ্ছিল তখন আমি সহ সকলে লক্ষ্য করেছি পুলিশ কমিশনার সনাতন চক্রবর্তীর গায়ের জামার সাথে সিদ্ধার্থের গায়ের জামার হুবহু মিল। অথচও আমার ছেলের গায়ে একটি কালো গেঞ্জি পরিহিত ছিল। বিষয়টি সন্দেহজনক।
মামলার বাদী গনপতির বড় ভাই গোপী নাথ বলেন, একই পরিবারের চারজনকে হত্যা করা এই মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থের পক্ষে অসম্ভব এর পিছনে বড় কোন শক্তি আছে। ওদেরকে আমি এলাকাবাসী সহ ছোট বেলা থেকেই চিনি। মাদকের সাথেও কোন সম্পৃক্ততা ওদের নেই,থাকলে কেউনা কেউ অবশ্যই জানতো।
সবকিছু মিলিয়ে ঘটনা মাদক, ডাকাতি, চাঁদাবাজি না-কি যৌন নিপিড়নে হত্যাকান্ড। কে আছে এর নেপথ্যে কেনইবা মুল ঘটনাকে আড়াল করার চেষ্টা করছে প্রসাশন এই প্রশ্নই এখন জনমনে।।





