নতুন পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন চলতি সপ্তাহেই: মন্ত্রিপরিষদ সচিব

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৮:৪১ অপরাহ্ন, ৩১ অগাস্ট ২০২৬ | আপডেট: ৯:৫৫ অপরাহ্ন, ৩১ অগাস্ট ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর মন্ত্রিসভার চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে নবম জাতীয় পে-স্কেল। চলতি সপ্তাহেই নতুন বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি।

সোমবার (৩১ আগস্ট) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।

আরও পড়ুন: নবম পে-স্কেলের অনুমোদন, সর্বনিম্ন বেতন ২০ হাজার টাকা

নতুন পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন কবে জারি হবে জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘এই সপ্তাহেই হয়ে যাবে, ইনশাআল্লাহ। গেজেট একটা না, বেশ কয়েকটা হবে।’

তিনি জানান, পে-স্কেল-সংক্রান্ত কয়েকটি বিষয় আইনগত ভেটিং শেষে এসআরও আকারেও জারি করা হবে।

আরও পড়ুন: ক্লিন সিটি, গ্রিন সিটি’ পরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নের নির্দেশ স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, সর্বশেষ ২০১৫ সালে জাতীয় বেতন স্কেল দেওয়া হয়েছিল। এরপর প্রায় ১২ বছর সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতন স্কেল হয়নি। মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সরকারি কর্মচারীদের বেতন কাঠামো সময়োপযোগী করতে জাতীয় বেতন কমিশন ২০২৫ গঠন করা হয়। কমিশনের প্রতিবেদন পাওয়ার পরও সরকার এ বিষয়ে আটটি বৈঠক করেছে।

তিনি বলেন, ১২ বছর ধরে বেতন বৃদ্ধি হয়নি। সাধারণত পাঁচ বছর অন্তর পে-স্কেল পরিবর্তন হওয়ার কথা থাকলেও এবার ১২ বছরেও তা হয়নি। ফলে সরকারি কর্মচারীদের জীবনযাত্রার মান কমে গেছে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে ভারসাম্য রেখে যতটা সম্ভব সমন্বয় করা হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬ আগামী ১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। সরকারের আর্থিক সক্ষমতা ও সামগ্রিক মূল্যস্ফীতির ওপর প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে ২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮ অর্থবছরে পর্যায়ক্রমে এটি বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৭ সালের ১ জুলাইয়ের মধ্যে মূল বেতন মোট তিন ধাপে কার্যকর হবে। এরপর ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ভাতাসমূহ একযোগে কার্যকর করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

তিন ধাপে বেতন কার্যকরের সময় সম্পর্কে জানতে চাইলে নাসিমুল গণি বলেন, প্রথম ধাপ জুলাই থেকে কার্যকর হবে। এরপর ছয় মাস পর দ্বিতীয় ধাপ এবং সর্বশেষ আরেকটি ধাপে বেতন কার্যকর হবে।

তিনি বলেন, ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ তিন ধাপে বেতন বাস্তবায়ন হয়ে যাবে। আর ২০২৮ সাল থেকে বেতন-ভাতাসহ পূর্ণ সুবিধা কার্যকর হবে।

নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন তুলনামূলক বেশি বাড়ানোর বিষয়টি ইচ্ছাকৃতভাবে করা হয়েছে বলে জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব। এতে কম আয়ের কর্মচারীদের জীবনযাত্রার ব্যয় ও প্রকৃত আয় কমে যাওয়ার বিষয়টি কিছুটা সমন্বয় করার চেষ্টা করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

নতুন বেতন স্কেলে পুরোনো পেনশনভোগীদের জন্য স্ল্যাবভিত্তিক নিট পেনশন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।

মাসিক ৯ হাজার টাকা বা তার কম নিট পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের পেনশন ১০০ শতাংশ বাড়িয়ে ১৮ হাজার টাকা করা হবে। ৯ হাজার ১ টাকা থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত নিট পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের ৭৫ শতাংশ, ২০ হাজার ১ টাকা থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত পাওয়া ব্যক্তিদের ৬৫ শতাংশ, ৩০ হাজার ১ টাকা থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত পাওয়া ব্যক্তিদের ৬০ শতাংশ এবং ৪০ হাজার টাকা বা তার বেশি পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের ৫৫ শতাংশ হারে পেনশন বাড়ানো হবে।

এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ধীরে ধীরে ‘ওয়ান র‍্যাঙ্ক, ওয়ান পেনশন’ ব্যবস্থার দিকে যাওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে এ ব্যবস্থা পুরোপুরি বাস্তবায়নের আশা প্রকাশ করেন তিনি।

নতুন বেতন স্কেল বাস্তবায়নের ফলে প্রায় ২৪ লাখ সামরিক ও অসামরিক কর্মচারী এবং সোয়া ৯ লাখ অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী ও অন্যান্য যোগ্য সুবিধাভোগী উপকৃত হবেন।

পুরো বেতন স্কেল বাস্তবায়ন হলে সরকারের অতিরিক্ত বার্ষিক ব্যয় হবে আনুমানিক ১ লাখ ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা। তবে এ অর্থ একসঙ্গে প্রয়োজন হবে না বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব। ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের কারণে আগামী দুই বছরে পুরো অর্থের প্রয়োজন হবে না।

বেতন বাড়ানোর ফলে বাজার ও মূল্যস্ফীতির ওপর কী ধরনের প্রভাব পড়তে পারে, সে বিষয়টিও সরকার বিবেচনায় নিয়েছে বলে জানান নাসিমুল গণি।

তিনি বলেন, সবকিছু বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। তা না হলে একসঙ্গে পুরো অর্থ দেওয়া হতো।

বেতন বৃদ্ধির ফলে সরকারি কর্মচারীদের হাতে অর্থ গেলে তারা অতিরিক্ত পণ্য ও সেবা কিনবেন এবং এর ফলে অর্থনীতিতে চাহিদা বাড়বে বলেও জানান তিনি।

নতুন বেতন স্কেলে প্রায় পাঁচ লাখ এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারী অন্তর্ভুক্ত হবেন কি না জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, এ বিষয়ে এখনই কিছু বলতে পারছেন না। পরবর্তী সময়ে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসবে।

এদিকে সাংবাদিকদের ওয়েজ বোর্ড নিয়ে দীর্ঘদিনের দাবির বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, নতুন পে-স্কেল আসার পর এ বিষয়টির ‘গতিবেগ বাড়বে’। এটি আর আগের মতো পড়ে থাকতে পারবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বেসরকারি খাতের কর্মীদের বেতন-ভাতা ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের বিষয়টিও সরকারের আলোচনায় এসেছে জানিয়ে নাসিমুল গণি বলেন, যারা বেতন স্কেলের ওপর নির্ভরশীল, তাদের বেতন বৃদ্ধি জরুরি। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়েই জাতীয় বেতন স্কেল বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।